না গণি মনের ক্ষতি ধনের ক্ষতিতে হে বরেণ্য, এই বর দেহো মোর চিতে। যে ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ তোমার ভুবন এই তৃণভূমি হতে সুদূর গগন যে আলোকে, যে সংগীতে, যে সৌন্দর্যধনে, তার মূল্য নিত্য যেন থাকে মোর মনে স্বাধীন সবল শান্ত সরল সন্তোষ। অদৃষ্টেরে কভু যেন নাহি দিই দোষ কোনো দুঃখ কোনো ক্ষতি অভাবের তরে। বিস্বাদ না জন্মে যেন বিশ্বচরাচরে ক্ষুদ্র খন্ড হারাইয়া। ধনীর সমাজে না হয় না হোক স্থান, জগতের মাঝে আমার আসন যেন রহে সর্ব ঠাঁই, হে দেব, একান্তচিত্তে এই বর চাই।
মাটির ছেলে হয়ে জন্ম, শহর নিল মোরে পোষ্যপুত্র ক'রে। ইঁটপাথরের আলিঙ্গনের রাখল আড়ালটিকে আমার চতুর্দিকে। বই প'ড়ে তাই পেতে হত ভ্রমণকারীর দেখা ছাদের উপর একা। কষ্ট তাদের, বিপদ তাদের, তাদের শঙ্কা যত লাগত নেশার মত। পথিক যে জন পথে পথেই পায় সে পৃথিবীকে, মুক্ত সে চৌদিকে। চলার ক্ষুধায় চলতে সে চায় দিনের পরে দিনে অচেনাকেই চিনে। লড়াই ক'রে দেশ করে জয়, বহায় রক্তধারা, ভূপতি নয় তারা। পলে পলে পার যারা হয় মাটির পরে মাটি প্রত্যেক পদ হাঁটি-- নাইকো সেপাই, নাইকো কামান, জয়পতাকা নাহি-- আপন বোঝা বাহি অপথেও পথ পেয়েছে, অজানাতে জানা, মানে নাইকো মানা-- মরু তাদের, মেরু তাদের, গিরি অভ্রভেদী তাদের বিজয়বেদী। সবার চেয়ে মানুষ ভীষণ; সেই মানুষের ভয় ব্যাঘাত তাদের নয়। তারাই ভূমির বরপুত্র, তাদের ডেকে কই, তোমরা পৃথ্বীজয়ী।