8 (the butterfly counts)

THE BUTTERFLY counts not months but moments,

and has time enough.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

7
Verses
এ কথা জানিতে তুমি, ভারত-ঈশ্বর শা-জাহান,
কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধন মান।
          শুধু তব অন্তরবেদনা
চিরন্তন হয়ে থাক্‌ সম্রাটের ছিল এ সাধনা।
          রাজশক্তি বজ্র সুকঠিন
সন্ধ্যারক্তরাগসম তন্দ্রাতলে হয় হোক লীন,
          কেবল একটি দীর্ঘশ্বাস
নিত্য-উচ্ছ্বসিত হয়ে সকরুণ করুক আকাশ
          এই তব মনে ছিল আশ।
          হীরা মুক্তামানিক্যের ঘটা
যেন শূন্য দিগন্তের ইন্দ্রজাল ইন্দ্রধনুচ্ছটা
          যায় যদি লুপ্ত হয়ে যাক,
              শুধু থাক্‌
          একবিন্দু নয়নের জল
     কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল
              এ তাজমহল।
     হায় ওরে মানবহৃদয়,
          বার বার
     কারো পানে ফিরে চাহিবার
          নাই যে সময়,
          নাই নাই।
জীবনের খরস্রোতে ভাসিছ সদাই
     ভুবনের ঘাটে ঘাটে--
   এক হাটে লও বোঝা, শূন্য করে দাও অন্য হাটে।
     দক্ষিণের মন্ত্রগুঞ্জরণে
              তব কুঞ্জবনে
     বসন্তের মাধবীমঞ্জরী
     যেই ক্ষণে দেয় ভরি
          মালঞ্চের চঞ্চল অঞ্চল,
বিদায় গোধূলি আসে ধুলায় ছড়ায়ে ছিন্নদল।
          সময় যে নাই;
     আবার শিশিররাত্রে তাই
    নিকুঞ্জে ফুটায়ে তোল নব কুন্দরাজি
সাজাইতে হেমন্তের অশ্রুভরা আনন্দের সাজি।
              হায় রে হৃদয়,
              তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।
     নাই নাই, নাই যে সময়।
     হে সম্রাট, তাই তব শঙ্কিত হৃদয়
     চেয়েছিল করিবারে সময়ের হৃদয় হরণ
                             সৌন্দর্যে ভুলায়ে।
                          কণ্ঠে তার কী মালা দুলায়ে
                                    করিলে বরণ
রূপহীন মরণেরে মৃত্যুহীন অপরূপ সাজে।
                             রহে না যে
                            বিলাপের অবকাশ
                             বারো মাস,
              তাই তব অশান্ত ক্রন্দনে
চিরমৌন জাল দিয়ে বেঁধে দিলে কঠিন বন্ধনে।
              জ্যোৎস্নারাতে নিভৃত মন্দিরে
                             প্রেয়সীরে
              যে-নামে ডাকিতে ধীরে ধীরে
সেই কানে-কানে ডাকা রেখে গেলে এইখানে
                             অনন্তের কানে।
                      প্রেমের করুণ কোমলতা
                             ফুটিল তা
          সৌন্দর্যের পুষ্পপুঞ্জে প্রশান্ত পাষাণে।
                            হে সম্রাট কবি,
              এই তব হৃদয়ের ছবি,
                        এই তব নব মেঘদূত,
                             অপূর্ব অদ্ভুত
                                      ছন্দে গানে
          উঠিয়াছে অলক্ষের পানে
          যেথা তব বিরহিণী  প্রিয়া
              রয়েছে মিশিয়া
          প্রভাতের অরুণ-আভাসে,
     ক্লান্তসন্ধ্যা দিগন্তের করুণ নিশ্বাসে,
     পূর্ণিমায় দেহহীন চামেলির লাবণ্যবিলাসে,
              ভাষার অতীত তীরে
কাঙাল নয়ন যেথা দ্বার হতে আসে ফিরে ফিরে।
          তোমার সৌন্দর্যদূত যুগ যুগ ধরি
               এড়াইয়া কালের প্রহরী
                     চলিয়াছে বাক্যহারা এই বার্তা নিয়া
                 "ভুলি নাই, ভুলি নাই, ভুলি নাই প্রিয়া।"
              চলে গেছ তুমি আজ
                     মহারাজ;
          রাজ্য তব স্বপ্নসম গেছে ছুটে,
              সিংহাসন গেছে টুটে;
                             তব সৈন্যদল
          যাদের চরনভরে ধরণী করিত টলমল
              তাহাদের স্মৃতি আজ বায়ুভরে
              উড়ে যায় দিল্লীর পথের ধূলি-'পরে।
                     বন্দীরা গাহে না গান;
          যমুনা-কল্লোলসাথে নহবত মিলায় না তান;
              তব পুরসুন্দরীর নূপুরনিক্কণ
                    ভগ্ন প্রাসাদের কোণে
                    ম'রে গিয়ে ঝিল্লীস্বনে
                             কাঁদায় রে নিশার গগন।
                    তবুও তোমার দূত অমলিন,
                             শ্রান্তিক্লান্তিহীন,
                        তুচ্ছ করি রাজ্য-ভাঙাগড়া,
                     তুচ্ছ করি জীবনমৃত্যুর ওঠাপড়া,
                             যুগে যুগান্তরে
                             কহিতেছে একস্বরে
                           চিরবিরহীর বাণী নিয়া
                "ভুলি নাই, ভুলি নাই, ভুলি নাই প্রিয়া।"
     মিথ্যা কথা-- কে বলে যে ভোল নাই।
          কে বলে রে খোল নাই
              স্মৃতির পিঞ্জরদ্বার।
             অতীতের চির অস্ত-অন্ধকার
     আজিও হৃদয় তব রেখেছে বাঁধিয়া?
          বিস্মৃতির মুক্তিপথ দিয়া
              আজিও সে হয় নি বাহির?
                      সমাধিমন্দির
              এক ঠাঁই রহে চিরস্থির;
                     ধরায় ধুলায় থাকি
     স্মরণের আবরণে মরণেরে যত্নে রাখে ঢাকি।
          জীবনেরে কে রাখিতে পারে।
     আকাশের প্রতি তারা ডাকিছে তাহারে।
              তার নিমন্ত্রণ লোকে লোকে
          নব নব পূর্বাচলে  আলোকে আলোকে।
                    স্মরণের গ্রন্থি টুটে
                    সে যে যায় ছুটে
                 বিশ্বপথে বন্ধনবিহীন।
     মহারাজ, কোনো মহারাজ্য কোনোদিন
               পারে নাই তোমারে ধরিতে;
     সমুদ্রস্তনিত পৃথ্বী, হে বিরাট, তোমারে ভরিতে
                 নাহি পারে--
              তাই এ-ধরারে
জীবন-উৎসব-শেষে দুই পায়ে ঠেলে
          মৃৎপাত্রের মতো যাও ফেলে।
     তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ,
          তাই তব জীবনের রথ
     পশ্চাতে ফেলিয়া যায় কীর্তিরে তোমার
          বারম্বার।
              তাই
     চিহ্ন তব পড়ে আছে, তুমি হেথা নাই।
              যে প্রেম সম্মুখপানে
          চলিতে চালাতে নাহি জানে,
     যে প্রেম পথের মধ্যে  পেতেছিল নিজ সিংহাসন,
               তার বিলাসের সম্ভাষণ
     পথের ধুলার মতো জড়ায়ে ধরেছে তব পায়ে,
                    দিয়েছ তা ধূলিরে ফিরায়ে।
                  সেই তব পশ্চাতের পদধূলি-'পরে
                     তব চিত্ত হতে বায়ুভরে
                            কখন সহসা
     উড়ে পড়েছিল বীজ জীবনের মাল্য হতে খসা।
              তুমি চলে গেছ দূরে
              সেই বীজ অমর অঙ্কুরে
                    উঠেছে অম্বরপানে,
                           কহিছে গম্ভীর গানে--
                             "যত দূর চাই
                          নাই নাই সে পথিক নাই।
     প্রিয়া তারে রাখিল না, রাজ্য তারে ছেড়ে দিল পথ
              রুধিল না সমুদ্র পর্বত।
                            আজি তার রথ
              চলিয়াছে রাত্রির আহ্বানে
                      নক্ষত্রের গানে
              প্রভাতের সিংহদ্বার পানে।
                           তাই
              স্মৃতিভারে আমি পড়ে আছি,
                     ভারমুক্ত সে এখানে নাই।'
আরো দেখুন
পত্র
Verses
নৌকাযাত্রা হইতে ফিরিয়া আসিয়া লিখিত
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত প্রিয়নাথ সেন স্থলচরবরেষু
জলে বাসা বেঁধেছিলেম, ডাঙায় বড়ো কিচিমিচি।
সবাই গলা জাহির করে, চেঁচায় কেবল মিছিমিছি।
সস্তা লেখক কোকিয়ে মরে, ঢাক নিয়ে সে খালি পিটোয়,
ভদ্রলোকের গায়ে প'ড়ে কলম নেড়ে কালি ছিটোয়।
এখেনে যে বাস করা দায় ভনভনানির বাজারে,
প্রাণের মধ্যে গুলিয়ে উঠে হট্টগোলের মাঝারে।
কানে যখন তালা ধরে, উঠি যখন হাঁপিয়ে--
কোথায় পালাই, কোথায় পালাই--জলে পড়ি খাঁপিয়ে
গঙ্গাপ্রাপ্তির আশা করে গঙ্গাযাত্রা করেছিলেম।
তোমাদের না বলে কয়ে আস্তে আস্তে সরেছিলেম।
দুনিয়ার এ মজলিসেতে এসেছিলেম গান শুনতে;
আপন মনে গুনগুনিয়ে রাগ-রাগিণীর জাল বুনতে।
গান শোনে সে কাহার সাধ্যি, ছোঁড়াগুলো বাজায় বাদ্যি,
বিদ্যেখানা ফাটিয়ে ফেলে থাকে তারা তুলো ধুনতে।
ডেকে বলে, হেঁকে বলে, ভঙ্গি করে বেঁকে বলে--
"আমার কথা শোনো সবাই, গান শোনো আর নাই শোনো!
গান যে কাকে বলে সেইটে বুঝিয়ে দেব, তাই শোনে।"
টীকে করেন ব্যখ্যা করেন, জেঁকে ওঠে বক্তিমে,
কে দেখে তার হাত-পা নাড়া, চক্ষু দুটোর রক্তিমে!
চন্দ্র সূর্য জ্বলছে মিছে আকাশখানার চালাতে--
তিনি বলেন, "আমিই আছি জ্বলতে এবং জ্বালাতে।"
কুঞ্জবনের তানপুরোতে সুর বেঁধেছে বসন্ত,
সেটা শুনে নাড়েন কর্ণ, হয় নাকো তাঁর পছন্দ।
তাঁরি সুরে গাক-না সবাই টপ্পা খেয়াল ধুরবোদ--
গায় না যে কেউ, আসল কথা নাইকো কারো সুর-বোধ!
কাগজওয়ালা সারি সারি নাড়ছে কাগজ হাতে নিয়ে--
বাঙলা থেকে শান্তি বিদায় তিনশো কুলোর বাতাস দিয়ে।
কাগজ দিয়ে নৌকা বানায় বেকার যত ছেলেপিলে,
কর্ণ ধরে পার করবেন দু-এক পয়সা খেয়া দিলে।
সস্তা শুনে ছুটে আসে যত দীর্ঘকর্ণগুলো--
বঙ্গদেশের চতুর্দিকে তাই উড়ছে এত ধুলো।
খুদে খুদে "আর্য' গুলো ঘাসের মতো গজিয়ে ওঠে,
ছুঁচোলো সব জিবের ডগা কাঁটার মতো পায়ে ফোটে।
তাঁরা বলেন, "আমি কল্কি" গাঁজার কল্কি হবে বুঝি!
অবতারে ভরে গেল যত রাজ্যের গলিঘুঁজি।
পাড়ার এমন কত আছে কত কব তার,
বঙ্গদেশে মেলাই এল বরা-অবতার।
দাঁতের জোরে হিন্দুশাস্ত্র তুলবে তারা পাঁকের থেকে,
দাঁতকপাটি লাগে  তাদের দাঁত-খিঁচুনির ভঙ্গি দেখে।
আগাগোড়াই মিথ্যে কথা, মিথ্যেবাদীর কোলাহল,
জিব নাচিয়ে বেড়ায় যত জিহ্বাওয়ালা সঙের দল।
বাক্যবন্যা ফেনিয়ে আসে, ভাসিয়ে নে যায় তোড়ে--
কোনোক্রমে রক্ষে পেলাম মা-গঙ্গারি ক্রোড়ে।
হেথায় কিবা শান্তি-ঢালা কুলুকুলু তান!
সাগর-পানে বহন করে গিরিরাজের গান।
ধীরি ধীরি বাতাসটি দেয় জলের গায়ে কাঁটা।
আকাশেতে আলো-আঁধার খেলে জোয়ারভাঁটা।
তীরে তীরে গাছের সারি পল্লবেরি ঢেউ।
সারা দিবস হেলে দোলে, দেখে না তো কেউ।
পূর্বতীরে তরুশিরে অরুণ হেসে চায়--
পশ্চিমেতে কুঞ্জ-মাঝে সন্ধ্যা নেমে যায়।
তীরে ওঠে শঙ্খধ্বনি, ধীরে আসে কানে,
সন্ধ্যাতারা চেয়ে থাকে ধরণীর পানে।
ঝাউবনের আড়ালেতে চাঁদ ওঠে ধীরে,
ফোটে সন্ধ্যাদীপগুলি অন্ধকার তীরে।
এই শান্তি-সলিলেতে দিয়েছিলেম ডুব,
হট্টগোলটা ভুলেছিলেম, সুখে ছিলেম খুব।
জান তো ভাই আমি হচ্ছি জলচরের জাত,
আপন মনে সাঁতরে বেড়াই--ভাসি যে দিনরাত।
রোদ পোহাতে ডাঙায় উঠি, হাওয়াটি খাই চোখ বুজে,
ভয়ে ভয়ে কাছে এগোই তেমন তেমন লোক বুঝে।
গতিক মন্দ দেখলে আবার ডুবি অগাধ জলে,
এমনি করেই দিনটা কাটাই লুকোচুরির ছলে।
তুমি কেন ছিপ ফেলেছ শুকনো ডাঙায় বসে?
বুকের কাছে বিদ্ধ করে টান মেরেছ কষে।
আমি তোমায় জলে টানি, তুমি ডাঙায় টানো,
অটল হয়ে বসে আছ, হার তো নাহি মানো।
আমারি নয় হার হয়েছে, তোমারি নয় জিৎ--
খাবি খাচ্ছি ডাঙায় পড়ে হয়ে পড়ে চিৎ।
আর কেন ভাই, ঘরে চলো, ছিপ গুটিয়ে নাও,
"রবীন্দ্রনাথ পড়ল ধরা' ঢাক পিটিয়ে দাও।
আরো দেখুন
80
Verses
III. 69. satta nam hai sab ten nyara
THE TRUE Name is like none other name!
The distinction of the Conditioned from the Unconditioned is but a word:
The Unconditioned is the seed, the Conditioned is the flower and the fruit.
Knowledge is the branch, and the Name is the root.
Look, and see where the root is: happiness shall be yours when you come to the root.
The root will lead you to the branch, the leaf, the flower, and the fruit:
It is the encounter with the Lord, it is the attainment of bliss, it is the reconciliation of the Conditioned and the Unconditioned.
আরো দেখুন