তপস্যা (toposya)

সূর্য চলেন ধীরে

       সন্ন্যাসীবেশে

পশ্চিম নদীতীরে

       সন্ধ্যার দেশে

বনপথে প্রান্তরে

       লুণ্ঠিত করি

গৈরিক গোধূলির

       ম্লান উত্তরী।

পিঠে লুটে পিঙ্গল

       মেঘ জটাজূট,

শূন্যে চূর্ণ হ'ল

       স্বর্ণমুকুট।

 

       অন্তিম আলো তাঁর

             ওই তো হারায়

       রক্তিম গগনের

             শেষ কিনারায়।

 

সুদূর বনান্তের

             অঞ্জলি-'পরে

দক্ষিণা দিয়ে যান

             দক্ষিণ করে।

ক্লান্ত পক্ষীদল

             গান নাহি গায়,

নীড়ে-ফেরা কাক শুধু

             ডাক দিয়ে যায়।

রজনীগন্ধা শুধু

             রচে উপহার

যাত্রার পথে আনি

             অর্ঘ্য তাহার।

 

       অন্ধকারের গুহা

             সংগীতহীন,

       হে তাপস, লীলা তব

             সেথা হ'ল লীন।

       নিঃস্ব তিমিরঘন

             এই সন্ধ্যায়

       জানি না বসিবে তুমি

             কী তপস্যায়।

 

রাত্রি হইবে শেষ,

            উষা আসি ধীরে

দ্বার খুলি দিবে তব

           ধ্যানমন্দিরে।

জাগিবে শক্তি তব

            নব উৎসবে,

রিক্ত করিল যাহা

            পূর্ণ তা হবে।

ডুবায়ে তিমিরতলে

            পুরাতন দিন

হে রবি, করিবে তারে

            নিত্য নবীন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বৃন্ত হতে ছিন্ন করি শুভ্র কমলগুলি
Verses
বৃন্ত হতে ছিন্ন করি শুভ্র কমলগুলি
             কে এনেছে তুলি।
তবু ওরা চায় যে মুখে নাই তাহে ভর্ৎসনা,
শেষ-নিমেষের পেয়ালা-ভরা অম্লান সান্ত্বনা--
মরণের মন্দিরে এসে মাধুরী-সংগীত
             বাজায় ক্লান্তি ভুলি
             শুভ্র কমলগুলি।
এরা তোমার ক্ষণকালের নিবিড়নন্দন
          নীরব চুম্বন,
মুগ্ধ নয়ন-পল্লবেতে মিলায় মরি মরি
তোমারি সুগন্ধ-শ্বাসে সকল চিত্ত ভরি--
হে কল্যাণলক্ষ্মী, এরা আমার মর্মে তব
          করুণ অঙ্গুলি
          শুভ্র কমলগুলি।
আরো দেখুন
মুক্তি
Verses
                        জয় করেছিনু মন তাহা বুঝে নাই,
                             চলে গেনু তাই
                                  নতশিরে।
মনে ক্ষীণ আশা ছিল ডাকিবে সে ফিরে।
          মানিল না হার,
         আমারে করিল অস্বীকার।
                             বাহিরে রহিনু খাড়া
                           কিছুকাল, না পেলেম সাড়া।
                             তোরণদ্বারের কাছে
                                  চাঁপাগাছে
                             দক্ষিণে বাতাস থরথরি
                       অন্ধকারে পাতাগুলি উঠিল মর্মরি।
                             দাঁড়ালেম পথপাশে,
          ঊর্ধ্বে বাতায়ন-পানে তাকালেম ব্যর্থ কী আশ্বাসে।
                        দেখিনু নিবানো বাতি--
                             আত্মগুপ্ত অহংকৃত রাতি
                        কক্ষ হতে পথিকেরে হানিছে ভ্রূকুটি।
          এ কথা ভাবি নি মনে, অন্ধকারে ভূমিতলে লুটি
               হয়তো সে করিতেছে খান্‌ খান্‌
                   তীব্রঘাতে আপনার অভিমান।
                        দূর হতে দূরে গেনু সরে
          প্রত্যাখ্যানলাঞ্ছনার বোঝা বক্ষে ধরে।
                   চরের বালুকা ঠেকা
               পরিত্যক্ত তরীসম রহিল সে একা।
আশ্বিনের ভোরবেলা চেয়ে দেখি পথে যেতে যেতে
          ক্ষীণ কুয়াশায় ঢাকা কচিধানখেতে
                   দাঁড়িয়ে রয়েছে বক,
দিগন্তে মেঘের গুচ্ছে দুলিয়াছে উষার অলক।
     সহসা উঠিল বলি হৃদয় আমার,
          দেখিলাম যাহা দেখিবার
                   নির্মল আলোকে
                             মোহমুক্ত চোখে।
    কামনার যে পিঞ্জরে শান্তিহীন
          অবরুদ্ধ ছিনু এতদিন
                   নিষ্ঠুর আঘাতে তার
                             ভেঙে গেছে দ্বার--
               নিরন্তর আকাঙক্ষার এসেছি বাহিরে
                   সীমাহীন বৈরাগ্যের তীরে।
                        আপনারে শীর্ণ করি
                             দিবসশর্বরী
                                 ছিনু জাগি
                             মুষ্টিভিক্ষা লাগি।
                   উন্মুক্ত বাতাসে
          খাঁচার পাখির গান ছাড়া আজি পেয়েছে আকাশে।
                   সহসা দেখিনু প্রাতে
          যে আমারে মুক্তি দিল আপনার হাতে
                   সে আজও রয়েছে পড়ি
          আমারি সে ভেঙে-পড়া পিঞ্জর আঁকড়ি।
আরো দেখুন
ভেবেছি কাহারো সাথে
Verses
ভেবেছি কাহারো সাথে মিশিব না আর
          কারো কাছে বর্ষিব না অশ্রুবারিধার।
মানুষ পরের দুখে, করে শুধু উপহাস
          জেনেছি, দেখেছি তাহা শত শত বার
যাহাদের মুখ আহা একটু মলিন হলে
          যন্ত্রণায় ফেটে যায় হৃদয় আমার
তারাই -- তারাই যদি এত গো নিষ্ঠুর হল
          তবে আমি হতভাগ্য কী করিব আর!
সত্য তুমি হও সাক্ষী, ধর্ম তুমি জেনো ইহা
ঈশ্বর! তুমিই শুন প্রতিজ্ঞা আমার।
যার তরে কেঁদে মরি, সেই যদি উপহাসে
তবে মানুষের সাথে মিশিব না আর।
আরো দেখুন