ফাল্গুন (falgun)

ফাল্গুনে বিকশিত

      কাঞ্চন ফুল,

ডালে ডালে পুঞ্জিত

      আম্রমুকুল।

চঞ্চল মৌমাছি

      গুঞ্জরি গায়,

বেণুবনে মর্মরে

      দক্ষিণবায়।

 

      স্পন্দিত নদীজল

           ঝিলিমিলি করে,

      জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি

           বালুকার চরে।

      নৌকা ডাঙায় বাঁধা,

           কাণ্ডারী জাগে,

      পূর্ণিমারাত্রির

           মত্ততা লাগে।

 

খেয়াঘাটে ওঠে গান

      অশ্বথতলে,

পান্থ বাজায়ে বাঁশি

      আন্‌মনে চলে।

ধায় সে বংশীরব

      বহুদূর গাঁয়,

জনহীন প্রান্তর

      পার হয়ে যায়।

 

      দূরে কোন্‌ শয্যায়

           একা কোন্‌ ছেলে

      বংশীর ধ্বনি শুনে

           ভাবে চোখ মেলে--

যেন কোন্‌ যাত্রী সে,

      রাত্রি অগাধ,

জ্যোৎস্নাসমুদ্রের

      তরী যেন চাঁদ।

 

      চলে যায় চাঁদে চ'ড়ে

           সারা রাত ধরি,

      মেঘেদের ঘাটে ঘাটে

           ছুঁ'য়ে যায় তরী।

      রাত কাটে, ভোর হ|য়,

           পাখি জাগে বনে--

      চাঁদের তরণী ঠেকে

           ধরণীর কোণে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

31
Verses
আয় রে বসন্ত, হেথা
       কুসুমের সুষমা জাগা রে
শান্তিস্নিগ্ধ মুকুলের
       হৃদয়ের গোপন আগারে।
ফলেরে আনিবে ডেকে
সেই লিপি যাস রেখে,
সুবর্ণের তুলিখানি
       পর্ণে পর্ণে যতনে লাগা রে।
আরো দেখুন
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ - ৮
Verses
নিদাথের শেষ গোলাপ কুসুম
          একা বন আলো করিয়া,
রূপসী তাহার সহচরীগণ
          শুকায়ে পড়েছে ঝরিয়া।
একাকিনী আহা, চারি দিকে তার
          কোনো ফুল নাহি বিকাশে,
হাসিতে তাহার মিশাইতে হাসি
          নিশাস তাহার নিশাসে।
বোঁটার উপরে শুকাইতে তোরে
          রাখিব না একা ফেলিয়া--
সবাই ঘুমায়, তুইও ঘুমাগে
          তাহাদের সাথে মিলিয়া।
ছড়ায়ে দিলাম দলগুলি তোর
          কুসুমসমাধিশয়নে
যেথা তোর বনসখীরা সবাই
          ঘুমায় মুদিত নয়নে।
তেমনি আমার সখারা যখন
          যেতেছেন মোরে ফেলিয়া
প্রেমহার হতে একটি একটি
          রতন পড়িছে খুলিয়া,
প্রণয়ীহৃদয় গেল গো শুকায়ে
          প্রিয়জন গেল চলিয়া--
তবে এ আঁধার আঁধার জগতে
          রহিব বলো কী বলিয়া।
আরো দেখুন
31
Verses
"কে নিবি গো কিনে আমায়, কে নিবি গো কিনে?"
পসরা মোর হেঁকে হেঁকে বেড়াই রাতে দিনে।
            এমনি কবে হায়,      আমার
            দিন যে চলে যায়,
মায়ার 'পরে বোঝা আমার বিষম হল দায়।
কেউ বা আসে, কেউ বা হাসে, কেউ বা কেঁদে চায়।
মধ্যদিনে বেড়াই রাজার পাষাণ-বাঁধা পথে,
মুকুট-মাথে অস্ত্র-হাতে রাজা এল রথে।
            বললে হাতে ধরে,        "তোমায়
            কিনব আমি জোরে।"
জোর যা ছিল ফুরিয়ে গেল টানাটানি করে।
মুকুট-মাথে ফিরল রাজা সোনার রথে চড়ে।
রুদ্ধ্ব দ্বারের সমুখ দিয়ে ফিরতেছিলেম গলি।
দুয়ার খুলে বৃদ্ধ এল হাতে টাকার থলি।
            করলে বিবেচনা,         বললে,
            "কিনব দিয়ে সোনা।"
উজাড় করে দিয়ে থলি করলে আনাগোনা।
বোঝা মাথায় নিয়ে কোথায় গেলেম অন্যমনা।
সন্ধ্যাবেলায় জ্যোৎস্না নামে মুকুল-ভরা গাছে।
সুন্দরী সে বেরিয়ে এল বকুলতলার কাছে।
            বললে কাছে এসে,       "তোমায়
            কিনব আমি হেসে।"
হাসিখানি চোখের জলে মিলিয়ে এল শেষে;
ধীরে ধীরে ফিরে গেল বনছায়ার দেশে।
সাগরতীরে রোদ পড়েছে ঢেউ দিয়েছে জলে,
ঝিনুক নিয়ে খেলে শিশু বালুতটের তলে।
            যেন আমায় চিনে   বললে,
            "অমনি নেব কিনে।"
বোঝা আমার খালাস হল তখনি সেইদিনে।
খেলার মুখে বিনামূল্যে নিল আমায় জিনে।
আরো দেখুন