শেষ উপহার (shesh upohar)

যাহা-কিছু ছিল সব দিনু শেষ করে

  ডালাখানি ভরে--

কাল কী আনিয়া দিব যুগল চরণে

  তাই ভাবি মনে।

বসন্তে সকল ফুল নিঃশেষে ফুটায়ে নিয়ে

  তরু তার পরে

এক দিনে দীনহীন, শূন্যে দেবতার পানে

  চাহে রিক্তকরে।

 

আজি দিন শেষ হলে যদি মোর গান

  হয় অবসান,

কাল প্রাতে এ গানের স্মৃতিসুখলেশ

  রবে না কি শেষ।

শূন্য থালে মৌনকণ্ঠে নতমুখে আসি যদি

  তোমার সম্মুখে,

তখন কি অগৌরবে চাহিবে না একবার

  ভকতের মুখে।

 

দিই নি কি প্রাণপূর্ণ হৃদিপদ্মখানি

  পাদপদ্মে আনি?

দিই নি কি কোনো ফুল অমর করিয়া

  অশ্রুতে ভরিয়া।

এত গান গাহিয়াছি, তার মাঝে নাহি কি গো

  হেন কোনো গান

আমি চলে গেলে তবু বহিবে যে চিরদিন

  অনন্ত পরান।

 

সেই কথা মনে করে দিবে না কি নব

  বরমাল্য তব--

ফেলিবে না আঁখি হতে একবিন্দু জল

  করুণাকোমল,

আমার বসন্তশেষে রিক্তপুষ্প দীনবেশে

  নীরবে যেদিন

ছলছল-আঁখিজলে দাঁড়াইব সভাতলে

  উপহারহীন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

5
Verses
জীবনের আশি বর্ষে প্রবেশিনু যবে
এ বিস্ময় মনে আজ জাগে--
লক্ষকোটি নক্ষত্রের
অগ্নিনির্ঝরের যেথা নিঃশব্দ জ্যোতির বন্যাধারা
ছুটেছে অচিন্ত্য বেগে নিরুদ্দেশ শূন্যতা প্লাবিয়া
দিকে দিকে,
তমোঘন অন্তহীন সেই আকাশের বক্ষস্তলে
অকস্মাৎ করেছি উত্থান
অসীম সৃষ্টির যজ্ঞে মুহূর্তের স্ফুলিঙ্গের মতো
ধারাবাহী শতাব্দীর ইতিহাসে।
এসেছি সে পৃথিবীতে যেথা কল্প কল্প ধরি
প্রাণপঙ্ক সমুদ্রের গর্ভ হতে উঠি
জড়ের বিরাট অঙ্কতলে
উদ্‌ঘাটিল আপনার নিগূঢ় আশ্চর্য পরিচয়
শাখায়িত রূপে রূপান্তরে।
অসম্পূর্ণ অস্তিত্বের মোহাবিষ্ট প্রদোষের ছায়া
আচ্ছন্ন করিয়া ছিল পশুলোক দীর্ঘ যুগ ধরি;
কাহার একাগ্র প্রতীক্ষায়
অসংখ্য দিবসরাত্রি-অবসানে
মন্থরগমনে এল
মানুষ প্রাণের রঙ্গভূমে;
নূতন নূতন দীপ একে একে উঠিতেছে জ্বলে,
নূতন নূতন অর্থ লভিতেছে বাণী;
অপূর্ব আলোকে
মানুষ দেখিছে তার অপরূপ ভবিষ্যের রূপ,
পৃথিবীর নাট্যমঞ্চে
অঙ্কে অঙ্কে চৈতন্যের ধীরে ধীরে প্রকাশের পালা--
আমি সে নাট্যের পাত্রদলে
পরিয়াছি সাজ।
আমারো আহ্বান ছিল যবনিকা সরাবার কাজে,
এ আমার পরম বিস্ময়।
সাবিত্রী পৃথিবী এই, আত্মার এ মর্তনিকেতন,
আপনার চতুর্দিকে আকাশে আলোকে সমীরণে
ভূমিতলে সমুদ্রে পর্বতে
কী গূঢ় সংকল্প বহি করিতেছে সূর্যপ্রদক্ষিণ--
সে রহস্যসূত্রে গাঁথা এসেছিনু আশি বর্ষ আগে,
চলে যাব কয় বর্ষ পরে।
আরো দেখুন
250
Verses
250
MY SONGS ARE to sing
that I have loved Thy singing.
আরো দেখুন
ক্ষণিক মিলন
Verses
আকাশের দুই দিক হতে          দুইখানি মেঘ এল ভেসে,
দুইখানি দিশাহারা মেঘ--         কে জানে এসেছে কোথা হতে
সহসা থামিল থমকিয়া             আকাশের মাঝখানে এসে,
দোঁহাপানে চাহিল দু-জনে        চতুর্থীর চাঁদের আলোতে।
ক্ষীণালোকে বুঝি মনে পড়ে      দুই অচেনার চেনাশোনা,
মনে পড়ে কোন্‌ ছায়া-দ্বীপে,     কোন্‌ কুহেলিকা-ঘের দেশে,
কোন্‌ সন্ধ্যা-সাগরের কূলে       দু-জনের ছিল আনাগোনা।
মেলে দোঁহে তবুও মেলে না     তিলেক বিরহ রহে মাঝে,
চেনা বলে মিলিবারে চায়,        অচেনা বলিয়া মরে লাজে।
মিলনের বাসনার মাঝে            আধখানি চাঁদের বিকাশ,--
দুটি চুম্বনের ছোঁয়াছুয়ি,          মাঝে যেন শরমের হাস,
দুখানি অলস আঁখিপাতা,        মাঝে সুখস্বপন-আভাস।
দোঁহার পরশ লয়ে দোঁহে         ভেসে গেল, কহিল না কথা,
বলে গেল সন্ধ্যার কাহিনী,        লয়ে গেল উষার বারতা॥
আরো দেখুন