ধূলি (dhuli)

অয়ি ধূলি, অয়ি তুচ্ছ, অয়ি দীনহীনা,

সকলের নিম্নে থাক নীচতম জনে

বক্ষে বাঁধিবার তরে; সহি সর্ব ঘৃণা

কারে নাহি কর ঘৃণা। গৈরিক বসনে

হে ব্রতচারিণী তুমি সাজি উদাসীনা

বিশ্বজনে পালিতেছ আপন ভবনে।

নিজেরে গোপন করি, অয়ি বিমলিনা,

সৌন্দর্য বিকশি তোল বিশ্বের নয়নে।

বিস্তারিছ কোমলতা হে শুষ্ক কঠিনা--

হে দরিদ্রা, পূর্ণা তুমি রত্নে ধান্যে ধনে।

হে আত্মবিস্মৃতা, বিশ্বচরণবিলীনা,

বিস্মৃতেরে ঢেকে রাখ অঞ্চল-বসনে।

নূতনেরে নির্বিচারে কোলে লহ তুলি,

পুরাতনে বক্ষে ধর হে জননী ধূলি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সত্যরূপ
Verses
অন্ধকারে জানি না কে এল কোথা হতে--
          মনে হল তুমি;
রাতের লতা-বিতান তারার আলোতে
          উঠিল কুসুমি।
সাক্ষ্য আর কিছু নাই, আছে শুধু একটি স্বাক্ষর,
প্রভাত-আলোক তলে মগ্ন হলে প্রসুপ্ত প্রহর
          পড়িব তখন।
ততক্ষণ পূর্ণ করি থাক মোর নিস্তব্ধ অন্তর
          তোমার স্মরণ।
কত লোক ভিড় করে জীবনের পথে
          উড়াইয়া ধূলি;
কত যে পতাকা ওড়ে কত রাজপথে
          আকাশ আকুলি।
প্রহরে প্রহরে যাত্রী ধেয়ে চলে খেয়ার উদ্দেশে--
অতিথি আশ্রয় মাগে শ্রান্তদেহে মোর দ্বারে এসে
          দিন-অবসানে,
দূরের কাহিনী বলে, তার পরে রজনীর শেষে
          যায় দূর-পানে।
মায়ার আবর্তে রচে আসায় যাওয়ায়
          চঞ্চল সংসারে।
ছায়ার তরঙ্গ যেন ধাইছে হাওয়ায়
          ভাঁটায় জোয়ারে।
ঊর্ধ্বকণ্ঠে ডাকে কেহ, স্তব্ধ কেহ ঘরে এসে বসে--
প্রত্যহের জানাশোনা, তবু তারা দিবসে দিবসে
          পরিচয়হীন।
এই কুজ্ঝটিকালোকে লুপ্ত হয়ে স্বপ্নের তামসে
          কাটে জীর্ণ দিন।
সন্ধ্যার নৈঃশব্দ্য উঠে সহসা শিহরি;
          না কহিয়া কথা
কখন যে আস কাছে, দাও ছিন্ন করি
          মোর অস্পষ্টতা।
তখন বুঝিতে পারি, আছি আমি একান্তই আছি
মহাকালদেবতার অন্তরের অতি কাছাকাছি
          মহেন্দ্রমন্দিরে;
জাগ্রত জীবনলক্ষ্মী পরায় আপন মাল্যগাছি
          উন্নমিত শিরে।
তখনই বুঝিতে পারি, বিশ্বের মহিমা
উচ্ছ্বসিয়া উঠি
রাখিল সত্তায় মোর রচি নিজ সীমা
          আপন দেউটি।
সৃষ্টির প্রাঙ্গণতলে চেতনার দীপশ্রেণী-মাঝে
সে দীপে জ্বলেছে শিখা উৎসবের ঘোষণার কাজে;
          সেই তো বাগানে,
অনির্বচনীয় প্রেম অন্তহীন বিস্ময়ে বিরাজে
          দেহে মনে প্রাণে।
আরো দেখুন
দিদি
Verses
নদীতীরে মাটি কাটে সাজাইতে পাঁজা
পশ্চিমি মজুর। তাহাদেরি ছোটো মেয়ে
ঘাটে করে আনাগোনা; কত ঘষামাজা
ঘটি বাটি থালা লয়ে, আসে ধেয়ে ধেয়ে
দিবসে শতেক বার; পিত্তলকঙ্কণ
পিতলের থালি-'পরে বাজে ঠন্‌ ঠন্‌;
বড়ো ব্যস্ত সারাদিন, তারি ছোটো ভাই,
নেড়ামাথা, কাদামাখা, গায়ে বস্ত্র নাই,
পোষা প্রাণীটির মতো পিছে পিছে এসে
বসি থাকে উচ্চ পাড়ে দিদির আদেশে
স্থিরধৈর্যভরে। ভরা ঘট লয়ে মাথে,
বাম কক্ষে থালি, যায় বালা ডান হাতে
ধরি শিশুকর--জননীর প্রতিনিধি
কর্মভারে-অবনত অতি ছোটো দিদি।
আরো দেখুন
220
Verses
MAKE ME thy cup and let my fulness be for thee and for thine.
আরো দেখুন