দিদি (didi)

নদীতীরে মাটি কাটে সাজাইতে পাঁজা

পশ্চিমি মজুর। তাহাদেরি ছোটো মেয়ে

ঘাটে করে আনাগোনা; কত ঘষামাজা

ঘটি বাটি থালা লয়ে, আসে ধেয়ে ধেয়ে

দিবসে শতেক বার; পিত্তলকঙ্কণ

পিতলের থালি-'পরে বাজে ঠন্‌ ঠন্‌;

বড়ো ব্যস্ত সারাদিন, তারি ছোটো ভাই,

নেড়ামাথা, কাদামাখা, গায়ে বস্ত্র নাই,

পোষা প্রাণীটির মতো পিছে পিছে এসে

বসি থাকে উচ্চ পাড়ে দিদির আদেশে

স্থিরধৈর্যভরে। ভরা ঘট লয়ে মাথে,

বাম কক্ষে থালি, যায় বালা ডান হাতে

ধরি শিশুকর--জননীর প্রতিনিধি

কর্মভারে-অবনত অতি ছোটো দিদি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায়
Verses
গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায়
দিনরাত একা ব'সে কাটালো সে পাবনায়--
     নাম তার চুনিলাল, ডাক নাম ঝোড়্‌কে।
১ গুলো সবই ১ সাদা আর কালো কি,
গণিতের গণনায় এ মতটা ভালো কি।
     অবশেষে সাম্যের সামলাবে তোড় কে।
          একের বহর কভু বেশি কভু কম হবে,
          এক রীতি হিসাবের তবুও কি সম্ভবে।
              ৭ যদি বাঁশ হয়, ৩ হয় খড়কে,
              তবু শুধু ১০ দিয়ে জুড়বে সে জোড় কে।
যোগ যদি করা যায় হিড়িম্বা কুন্তীতে,
সে কি ২ হতে পারে গণিতের গুন্‌তিতে।
     যতই না কষে নাও মোচা আর থোড়কে
     তার গুণফল নিয়ে আঁক যাবে ভড়কে।
আরো দেখুন
10
Verses
মৃত্যুদূত এসেছিল হে প্রলয়ংকর, অকস্মাৎ
তব সভা হতে। নিয়ে গেল বিরাট প্রাঙ্গণে তব;
চক্ষে দেখিলাম অন্ধকার; দেখি নি অদৃশ্য আলো
আঁধারের স্তরে স্তরে অন্তরে অন্তরে, যে আলোক
নিখিল জ্যোতির জ্যোতি; দৃষ্টি মোর ছিল আচ্ছাদিয়া
আমার আপন ছায়া। সেই আলোকের সামগান
মন্দ্রিয়া উঠিবে মোর সত্তার গভীর গুহা হতে
সৃষ্টির-সীমান্ত-জ্যোতির্লোকে, তারি লাগি ছিল মোর
আমন্ত্রণ। লব আমি চরমের কবিত্বমর্যাদা
জীবনের রঙ্গভূমে, এরি লাগি সেধেছিনু তান।
বাজিল না রুদ্রবীণা নিঃশব্দ ভৈরব নবরাগে,
জাগিল না মর্মতলে ভীষণের প্রসন্ন মুরতি,
তাই ফিরাইয়া দিলে। আসিবে আরেক দিন যবে
তখন কবির বাণী পরিপক্ব ফলের মতন
নিঃশব্দে পড়িবে খসি আনন্দের পূর্ণতার ভারে
অনন্তের অর্ঘ্যডালি-'পরে। চরিতার্থ হবে শেষে
জীবনের শেষ মূল্য, শেষ যাত্রা, শেষ নিমন্ত্রণ।
আরো দেখুন
জবাবদিহি
Verses
কবি হয়ে দোল-উৎসবে
          কোন্‌ লাজে কালো সাজে আসি,
এ নিয়ে রসিকা তোরা সবে
          করেছিলি খুব হাসাহাসি।
চৈত্রের দোল-প্রাঙ্গণে
          আমার জবাবদিহি চাই
এ দাবি তোদের ছিল মনে,
          কাজ ফেলে আসিয়াছি তাই।
দোলের দিনে, সে কী মনের ভুলে,
          পরেছিলাম যখন কালো কাপড়,
দখিন হাওয়া দুয়ারখানা খুলে
          হঠাৎ পিঠে দিল হাসির চাপড়।
সকল বেলা বেড়াই খুঁজি খুঁজি
          কোথা সে মোর গেল রঙের ডালা,
কালো এসে আজ লাগালো বুঝি
          শেষ প্রহরে রঙহরণের পালা।
ওরে কবি, ভয় কিছু নেই তোর--
          কালো রঙ যে সকল রঙের চোর।
জানি যে ওর বক্ষে রাখে তুলি
          হারিয়ে-যাওয়া পূর্ণিমা ফাল্গুনী--
অস্তরবির রঙের কালো ঝুলি,
          রসের শাস্ত্রে এই কথা কয় শুনি।
অন্ধকারে অজানা-সন্ধানে
          অচিন লোকে সীমাবিহীন রাতে
রঙের তৃষা বহন করি প্রাণে
          চলব যখন তারার ইশারাতে,
হয়তো তখন শেষ-বয়সের কালো
          করবে বাহির আপন গ্রন্থি খুলি
যৌবনদীপ--জাগাবে তার আলো
          ঘুমভাঙা সব রাঙা প্রহরগুলি।
কালো তখন রঙের দীপালিতে
          সুর লাগাবে বিস্মৃত সংগীতে।
আরো দেখুন