১১ (majhrate ghum elo lau kete dite)

মাঝরাতে ঘুম এল, লাউ কেটে দিতে

ছিঁড়ে গেল ভুলুয়ার ফতুরায় ফিতে।

খুদু বলে, মামা আসে, এই বেলা লুকো।

কানাই কাঁদিয়া বলে, কোথা গেল হুঁকো।

নাতি আসে হাতি চড়ে, খুড়ো বলে, আহা,

মারা বুঝি গেল আজ সনাতন সাহা।

তাঁতিনীর নাতিনীর সাথিনী সে হাসে;

বলে, আজ ইংরেজি মাসের আঠাশে।

তাড়া খেয়ে ন্যাড়া বলে, চলে যাব রাঁচি।

ঠাণ্ডায় বেড়ে গেল বাঁদরের হাঁচি।

কুকুরের লেজে দেয় ইন্‌জেক্‌শ্যান,

মান্থলি টিকিট কেনে জলধর সেন।

পাঁজি লেখে, এ বছরে বাঁকা এ কালটা,

ত্যাড়াবাঁকা বুলি তার উলটা-পালটা--

ঘুলিয়ে গিয়েছে তার বেবাক খবর--

জানি নে তো কে যে কারে দিচ্ছে কবর।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দ্বৈত
Verses
সেদিন ছিলে তুমি আলো-আঁধারের মাঝখানটিতে,
                 বিধাতার মানসলোকের
                      মর্ত্যসীমায় পা বাড়িয়ে
                        বিশ্বের রূপ-আঙিনার নাছদুয়ারে।
       যেমন ভোরবেলার একটুখানি ইশারা,
          শালবনের পাতার মধ্যে উসুখুসু,
              শেষরাত্রের গায়ে-কাঁটা-দেওয়া
                    আলোর আড়-চাহনি;
              উষা যখন আপন-ভোলা--
       যখন সে পায় নি আপন ডাক-নামটি পাখির ডাকে,
            পাহাড়ের চূড়ায়, মেঘের লিখনপত্রে।
       তার পরে সে নেমে আসে ধরাতলে,
               তার মুখের উপর থেকে
            অসীমের ছায়া-ঘোমটা খসে পড়ে
               উদয়-সাগরের অরুণরাঙা কিনারায়।
            পৃথিবী তাকে সাজিয়ে তোলে
              আপন সবুজ-সোনার কাঁচলি দিয়ে;
            পরায় তাকে আপন হাওয়ার চুনরি।
       তেমনি তুমি এনেছিলে তোমার ছবির তনুরেখাটুকু
              আমার হৃদয়ের দিক্‌প্রান্তপটে।
       আমি তোমার কারিগরের দোসর,
            কথা ছিল তোমার রূপের 'পরে মনের তুলি
আমিও দেব বুলিয়ে,
                   পুরিয়ে তুলব তোমার গড়নটিকে।
                        দিনে দিনে তোমাকে রাঙিয়েছি
                             আমার ভাবের রঙে।
                   আমার প্রাণের হাওয়া
            বইয়ে দিয়েছি তোমার চারি দিকে
                 কখনো ঝড়ের বেগে
                      কখনো মৃদুমৃদু দোলনে।
       একদিন আপন সহজ নিরালায় ছিলে তুমি অধরা,
              ছিলে তুমি একলা বিধাতার;
                   একের মধ্যে একঘরে।
          আমি বেঁধেছি তোমাকে দুয়ের গ্রন্থিতে,
       তোমার সৃষ্টি আজ তোমাতে আর আমাতে,
          তোমার বেদনায় আর আমার বেদনায়।
            আজ তুমি আপনাকে চিনেছ
                 আমার চেনা দিয়ে।
       আমার অবাক চোখ লাগিয়েছে সোনার কাঠির ছোঁওয়া,
                    জাগিয়েছে আনন্দরূপ
                        তোমার আপন চৈতন্যে।
আরো দেখুন
41
Verses
     নয় এ মধুর খেলা,
তোমায় আমায় সারাজীবন
            সকাল-সন্ধ্যাবেলা
            নয় এ মধুর খেলা।
কতবার যে নিবল বাতি
গর্জে এল ঝড়ের রাতি,
সংসারের এই দোলায় দিলে
            সংশয়েরি ঠেলা।
বারে বারে বাঁধ ভাঙিয়া
            বন্যা ছুটেছে।
দারুণ দিনে দিকে দিকে
            কান্না উঠেছে।
ওগো রুদ্র, দুঃখে সুখে
এই কথাটি বাজল বুকে-
তোমার প্রেমে আঘাত আছে
            নাইকো অবহেলা।
আরো দেখুন
বন্ধন
Verses
বন্ধন? বন্ধন বটে, সকলি বন্ধন--
স্নেহ প্রেম সুখতৃষ্ণা; সে যে মাতৃপাণি
স্তন হতে স্তনান্তরে লইতেছে টানি,
নব নব রসস্রোতে পূর্ণ করি মন
সদা করাইছে পান। স্তন্যের পিপাসা
কল্যাণদায়িনীরূপে থাকে শিশুমুখে--
তেমনি সহজ তৃষ্ণা আশা ভালোবাসা
সমস্ত বিশ্বের রস কত সুখে দুখে
করিতেছে আকর্ষণ, জনমে জনমে
প্রাণে মনে পূর্ণ করি গঠিতেছে ক্রমে
দুর্লভ জীবন; পলে পলে নব আশ
নিয়ে যায় নব নব আস্বাদে আশ্রমে।
স্তন্যতৃষ্ণা নষ্ট করি মাতৃবন্ধপাশ
ছিন্ন করিবারে চাস কোন্‌ মুক্তিভ্রমে!
আরো দেখুন