প্রাণের ডাক (prener dak)

সুদূর আকাশে ওড়ে চিল,

          উড়ে ফেরে কাক,

বারে বারে ভোরের কোকিল

          ঘন দেয় ডাক।

জলাশয় কোন্‌ গ্রামপারে,

বক উড়ে যায় তারই ধারে,

          ডাকাডাকি করে শালিখেরা।

প্রয়োজন থাক্‌ নাই থাক্‌

যে যাহারে খুশি দেয় ডাক,

          যেথাসেথা করে চলাফেরা।

                   উছল প্রাণের চঞ্চলতা

                   আপনারে নিয়ে।

অস্তিত্বের আনন্দ ও ব্যথা

          উঠিছে ফেনিয়ে।

জোয়ার লেগেছে জাগরণে--

কলোল্লাস তাই অকারণে,

          মুখরতা তাই দিকে দিকে।

ঘাসে ঘাসে পাতায় পাতায়,

কী মদিরা গোপনে মাতায়,

          অধীরা করেছে ধরণীকে।

নিভৃতে পৃথক কোরো নাকো

          তুমি আপনারে।

ভাবনার বেড়া বেঁধে রাখো

          কেন চারি ধারে।

প্রাণের উল্লাস অহেতুক

রক্ত তব হোক-না উৎসুক,

          খুলে রাখো অনিমেষ চোখ;

ফেলো জাল চারি দিক ঘিরে,

যাহা পাও টেনে লও তীরে

          ঝিনুক শামুক যাই হোক।

হয়তো বা কোনো কাজ নাই,

          ওঠো তবু ওঠো;

বৃথা হোক, তবুও বৃথাই

          পথ-পানে ছোটো।

মাটির হৃদয়খানি ব্যেপে

প্রাণের কাঁপন ওঠে কেঁপে,

          কেবল পরশ তার লহো।

                   আজি এই চৈত্রের প্রভাতে

                   আছ তুমি সকলের সাথে,

         এ কথাটি মনে প্রাণে কহো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

আত্মছলনা
Verses
দোষী করিব না তোমারে,
       ব্যথিত মনের বিকারে,
নিজেরেই আমি নিজে নিজে করি ছলনা।
       মনেরে বুঝাই বুঝি ভালোবাস,
       আড়ালে আড়ালে তাই তুমি হাস;
       স্থির জান, এ যে অবুঝের খেলা,
                   এ শুধু মোহের রচনা।
সন্ধ্যামেঘের রাগে
       অকারণে যত ভেসে-চলে-যাওয়া
          অপরূপ ছবি জাগে।
       সেইমতো ভাসে মায়ার আভাসে
       রঙিন বাষ্প মনের আকাশে,
       উড়াইয়া দেয় ছিন্ন লিপিতে
                    বিরহমিলন-ভাবনা।
আরো দেখুন
আরশি
Verses
তোমার যে ছায়া তুমি দিলে আরশিরে
           হাসিমুখ মেজে,
সেইক্ষণে অবিকল সেই ছায়াটিরে
           ফিরে দিল সে যে।
                    রাখিল না কিছু আর,
                    স্ফটিক সে নির্বিকার
                              আকাশের মতো--
                    সেথা আসে শশী রবি,
                    যায় চলে, তার ছবি
                              কোথা হয় গত।
একদিন শুধু মোরে ছায়া দিয়ে, শেষে
           সমাপিলে খেলা
আত্মভোলা বসন্তের উন্মত্ত নিমেষে
           শুক্ল সন্ধ্যাবেলা।
                    সে ছায়া খেলারই ছলে
                    নিয়েছিনু হিয়াতলে
                              হেলাভরে হেসে,
                    ভেবেছিনু চুপে চুপে
                    ফিরে দিব ছায়ারূপে
                              তোমারি উদ্দেশে।
সে ছায়া তো ফিরিল না, সে আমার প্রাণে
           হল প্রাণবান।
দেখি, ধরা পড়ে গেল কবে মোর গানে
           তোমার সে দান।
                    যদিবা দেখিতে তারে
                    পারিতে না চিনিবারে
                              অয়ি এলোকেশী--
                    আমার পরান পেয়ে
                    সে আজি তোমারো চেয়ে
                              বহুগুণে বেশি।
কেমনে জানিবে তুমি তারে সুর দিয়ে
           দিয়েছি মহিমা।
প্রেমের অমৃতস্নানে সে যে, অয়ি প্রিয়ে,
           হারায়েছে সীমা।
                    তোমার খেয়াল ত্যেজে
                    পূজার গৌরবে সে যে
                              পেয়েছে গৌরব।
                    মর্তের স্বপন ভুলে
                    অমরাবতীর ফুলে
                              লভিল সৌরভ।
আরো দেখুন
পৌষ-মেলা
Verses
শীতের দিনে নামল বাদল,
           বসল তবু মেলা।
বিকেল বেলায় ভিড় জমেছে,
           ভাঙল সকাল বেলা।
      পথে দেখি দু-তিন-টুক্‌রো
                   কাঁচের চুড়ি রাঙা,
      তারি সঙ্গে চিত্র-করা
                   মাটির পাত্র ভাঙা।
           সন্ধ্যা বেলার খুশিটুকু
                   সকাল বেলার কাঁদা
           রইল হোথায় নীরব হয়ে,
                   কাদায় হল কাদা।
                   পয়সা দিয়ে কিনেছিল
                        মাটির যে ধনগুলা
                   সেইটুকু সুখ বিনি পয়সায়
                        ফিরিয়ে নিল ধুলা।
আরো দেখুন