আরশি (arshi)

তোমার যে ছায়া তুমি দিলে আরশিরে

           হাসিমুখ মেজে,

সেইক্ষণে অবিকল সেই ছায়াটিরে

           ফিরে দিল সে যে।

                    রাখিল না কিছু আর,

                    স্ফটিক সে নির্বিকার

                              আকাশের মতো--

                    সেথা আসে শশী রবি,

                    যায় চলে, তার ছবি

                              কোথা হয় গত।

 

একদিন শুধু মোরে ছায়া দিয়ে, শেষে

           সমাপিলে খেলা

আত্মভোলা বসন্তের উন্মত্ত নিমেষে

           শুক্ল সন্ধ্যাবেলা।

                    সে ছায়া খেলারই ছলে

                    নিয়েছিনু হিয়াতলে

                              হেলাভরে হেসে,

                    ভেবেছিনু চুপে চুপে

                    ফিরে দিব ছায়ারূপে

                              তোমারি উদ্দেশে।

 

সে ছায়া তো ফিরিল না, সে আমার প্রাণে

           হল প্রাণবান।

দেখি, ধরা পড়ে গেল কবে মোর গানে

           তোমার সে দান।

                    যদিবা দেখিতে তারে

                    পারিতে না চিনিবারে

                              অয়ি এলোকেশী--

                    আমার পরান পেয়ে

                    সে আজি তোমারো চেয়ে

                              বহুগুণে বেশি।

 

কেমনে জানিবে তুমি তারে সুর দিয়ে

           দিয়েছি মহিমা।

প্রেমের অমৃতস্নানে সে যে, অয়ি প্রিয়ে,

           হারায়েছে সীমা।

                    তোমার খেয়াল ত্যেজে

                    পূজার গৌরবে সে যে

                              পেয়েছে গৌরব।

                    মর্তের স্বপন ভুলে

                    অমরাবতীর ফুলে

                              লভিল সৌরভ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

218
Verses
MY HEART HAS spread its sails to the idle winds for the shadowy island of Anywhere.
আরো দেখুন
আনমনা
Verses
                    আনমনা গো, আনমনা,
          তোমার কাছে আমার বাণীর মালাখানি আনব না।
                      বার্তা আমার ব্যর্থ হবে,
                          সত্য আমার বুঝবে কবে?
                      তোমারো মন জানব না,
                       আন্‌মনা গো, আন্‌মনা।
                লগ্ন যদি হয় অনুকূল মৌন মধুর সাঁঝে,
             নয়ন তোমার মগ্ন যখন ম্লান আলোর মাঝে,
                   দেব তোমায় শান্ত সুরের সান্ত্বনা,
                       আনমনা গো, আনমনা।
          জনশূন্য তটের পানে ফিরবে হাঁসের দল;
                       স্বচ্ছ নদীর জল
                আকাশ-পানে রইবে পেতে কান
             বুকের তলে শুনবে ব'লে গ্রহতারার গান;
                       কুলায়-ফেরা পাখি
       নীল আকাশের বিরামখানি রাখবে ডানায় ঢাকি;
                বেণুশাখার অন্তরালে অস্তপারের রবি
       আঁকবে মেঘে মুছবে আবার শেষ-বিদায়ের ছবি;
          স্তব্ধ হবে দিনের বেলার ক্ষুব্ধ হাওয়ার দোলা,
              তখন তোমার মন যদি রয় খোলা --
                       তখন সন্ধ্যাতারা
                   পায় যদি তার সাড়া
              তোমার উদার আঁখিতারার পারে,
          কনকচাঁপার গন্ধ-ছোঁওয়া বনের অন্ধকারে
       ক্লান্তি-অলস ভাব্‌না যদি ফুল-বিছানো ভুঁয়ে
            মেলিয়ে ছায়া এলিয়ে থাকে শুয়ে;
          ছন্দে গাঁথা বাণী তখন পড়ব তোমার কানে
                   মন্দ মৃদুল তানে --
          ঝিল্লি যেমন শালের বনে নিদ্রানীরব রাতে
       অন্ধকারের জপের মালায় একটানা সুর গাঁথে।
             একলা তোমার বিজন প্রাণের প্রাঙ্গণে
                   প্রান্তে বসে একমনে
             এঁকে যাব আমার গানের আল্‌পনা
                   আনমনা গো, আনমনা।
আরো দেখুন
ধ্রুবসত্য
Verses
আমি বিন্দুমাত্র আলো, মনে হয় তবু
আমি শুধু আছি আর কিছু নাই কভু।
পলক পড়িলে দেখি আড়ালে আমার
তুমি আছ হে অনাদি আদি অন্ধকার!
আরো দেখুন