পথিক (pothik)

তুমি আছ বসি তোমার ঘরের দ্বারে

               ছোটো তব সংসারে।

        মনখানি যবে ধায় বাহিরের পানে

               ভিতরে আবার টানে।

                  বাঁধনবিহীন দূর

                  বাজাইয়া যায় সুর,

        বেদনার ছায়া পড়ে তব আঁখি-'পরে--

     নিশ্বাস ফেলি মন্দগমন ফিরে চলে যাও ঘরে।

        আমি-যে পথিক চলিয়াছি পথ বেয়ে

               দূরের আকাশে চেয়ে;

        তোমার ঘরের ছায়া পড়ে পথপাশে,

               সে ছায়া হৃদয়ে আসে।

                  যত দূরে পথ যাক

                  শুনি বাঁধনের ডাক,

        ক্ষণেকের তরে পিছনে আমায় টানে--

     নিশ্বাস ফেলি ত্বরিতগমন চলি সম্মুখপানে।

        উদার আকাশে আমার মুক্তি দেখি

                মন তব কাঁদিছে কি?

        এ মুক্তিপথে তুমি পেতে চাও ছাড়া,

               দুয়ারে লেগেছে নাড়া।

                  বাঁধনে বাঁধনে টানি

                  রচিলে আসনখানি,

        দেখিনু তোমার আপন সৃষ্টি তাই--

     শূন্যতা ছাড়ি সুন্দরে তব আমার মুক্তি চাই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দ্বৈত
Verses
সেদিন ছিলে তুমি আলো-আঁধারের মাঝখানটিতে,
                 বিধাতার মানসলোকের
                      মর্ত্যসীমায় পা বাড়িয়ে
                        বিশ্বের রূপ-আঙিনার নাছদুয়ারে।
       যেমন ভোরবেলার একটুখানি ইশারা,
          শালবনের পাতার মধ্যে উসুখুসু,
              শেষরাত্রের গায়ে-কাঁটা-দেওয়া
                    আলোর আড়-চাহনি;
              উষা যখন আপন-ভোলা--
       যখন সে পায় নি আপন ডাক-নামটি পাখির ডাকে,
            পাহাড়ের চূড়ায়, মেঘের লিখনপত্রে।
       তার পরে সে নেমে আসে ধরাতলে,
               তার মুখের উপর থেকে
            অসীমের ছায়া-ঘোমটা খসে পড়ে
               উদয়-সাগরের অরুণরাঙা কিনারায়।
            পৃথিবী তাকে সাজিয়ে তোলে
              আপন সবুজ-সোনার কাঁচলি দিয়ে;
            পরায় তাকে আপন হাওয়ার চুনরি।
       তেমনি তুমি এনেছিলে তোমার ছবির তনুরেখাটুকু
              আমার হৃদয়ের দিক্‌প্রান্তপটে।
       আমি তোমার কারিগরের দোসর,
            কথা ছিল তোমার রূপের 'পরে মনের তুলি
আমিও দেব বুলিয়ে,
                   পুরিয়ে তুলব তোমার গড়নটিকে।
                        দিনে দিনে তোমাকে রাঙিয়েছি
                             আমার ভাবের রঙে।
                   আমার প্রাণের হাওয়া
            বইয়ে দিয়েছি তোমার চারি দিকে
                 কখনো ঝড়ের বেগে
                      কখনো মৃদুমৃদু দোলনে।
       একদিন আপন সহজ নিরালায় ছিলে তুমি অধরা,
              ছিলে তুমি একলা বিধাতার;
                   একের মধ্যে একঘরে।
          আমি বেঁধেছি তোমাকে দুয়ের গ্রন্থিতে,
       তোমার সৃষ্টি আজ তোমাতে আর আমাতে,
          তোমার বেদনায় আর আমার বেদনায়।
            আজ তুমি আপনাকে চিনেছ
                 আমার চেনা দিয়ে।
       আমার অবাক চোখ লাগিয়েছে সোনার কাঠির ছোঁওয়া,
                    জাগিয়েছে আনন্দরূপ
                        তোমার আপন চৈতন্যে।
আরো দেখুন
বিদায়সম্বল
Verses
যাবার দিকের পথিকের 'পরে
          ক্ষণিকার স্নেহখানি
শেষ উপহার করুণ অধরে
          দিল কানে কানে আনি।
"ভুলিব না কভু, রবে মনে মনে'
এই মিছে আশা দেয় খনে খনে,
ছলছল ছায়া নবীন নয়নে
          বাধোবাধো মৃদু বাণী।
যাবার দিকের পথিক সে কথা
          ভরি লয় তার প্রাণে।
পিছনের এই শেষ আকুলতা
          পাথেয় বলি সে জানে।
যখন আঁধারে ভরিবে সরণী,
ভুলে-ভরা ঘুমে নীরব ধরণী,
"ভুলিব না কভু,' এই ক্ষীণধ্বনি
          তখনো বাজিবে কানে।
যাবার দিকের পথিক সে বোঝে--
          যে যায় সে যায় চ'লে,
যারা থাকে তারা এ উহারে খোঁজে,
          যে যায় তাহারে ভোলে।
তবুও নিজেরে ছলিতে ছলিতে
বাঁশি বাজে মনে চলিতে চলিতে
"ভুলিব না কভু' বিভাসে ললিতে
          এই কথা বুকে দোলে।
আরো দেখুন
১৭১
Verses
১৭১
একা এক শূন্যমাত্র, নাই অবলম্ব,
দুই দেখা দিলে হয় একের আরম্ভ॥  
আরো দেখুন