গরবিনী (gorobini)

কে গো তুমি গরবিনী, সাবধানে থাকো দূরে দূরে,

মর্তধূলি-'পরে ঘৃণা বাজে তব নূপুরে নূপুরে।

     তুমি যে অসাধারণ, তীব্র একা তুমি,

          আকাশকুসুমসম অসংসক্ত রয়েছ কুসুমি।

              বাহিরের প্রসাধনে যত্ন তুমি শুচি;

                  অকলঙ্ক তোমার কৃত্রিম রুচি;

         সর্বদা সংশয়ে থাকো পাছে কোথা হতে

হতভাগ্য কালো কীট পড়ে তব দীপের আলোতে

                   স্ফটিকেতে-ঢাকা

                 অসামান্য সমাদরে আঁকা

                   তোমার জীবন

          কৃপণের-কক্ষে-রাখা ছবির মতন

                   বহুমূল্য যবনিকা অন্তরালে;

ওগো অভাগিনী নারী, এই ছিল তোমার কপালে--

     আপন প্রহরী তুমি, নিজে তুমি আপন বন্ধন।

                   আমি সাধারণ।

                   এ ধরাতলের

                             নির্বিচার স্পর্শ সকলের

                   দেহে মোর বহে যায়, লাগে মোর মনে--

               সেই বলে বলী আমি, স্বত্ব মোর সকল ভুবনে।

                             মুক্ত আমি ধূলিতলে,

                        মুক্ত আমি অনাদৃত মলিনের দলে।

          যত চিহ্ন লাগে দেহে, অশঙ্কিত প্রাণের শক্তিতে

                           শুদ্ধ হয়ে যায় সে চকিতে।

                   সম্মুখে আমার দেখো শালবন,

                        সে যে সাধারণ।

                   সবার একান্ত কাছে

                        আপনাবিস্মৃত হয়ে আছে।

                             মধ্যাহ্নবাতাসে

               শুষ্ক পাতা ঘুরাইয়া ধূলির আবর্ত ছুটে আসে--

                   শাখা তার অনায়াসে দেয় নাড়া,

               পাতায় পাতায় তার কৌতুকের পড়ে সাড়া।

                   তবু সে অম্লান শুচি, নির্মল নিশ্বাসে

                             চৈত্রের আকাশে

                   বাতাস পবিত্র করে সুগন্ধবীজনে।

                  অসংকোচ ছায়া তার প্রসারিত সর্বসাধারণে।

                        সহজে নির্মল সে যে

                   দ্বিধাহীন জীবনের তেজে।

                             আমি সাধারণ।

                        তরুর মতন আমি, নদীর মতন।

                            মাটির বুকের কাছে থাকি;

                         আলোরে ললাটে লই ডাকি

                             যে আলোক উচ্চনীচ ইতরের--

                                  বাহিরের ভিতরের।

          সমস্ত পৃথিবী তুমি অবজ্ঞায় করেছ অশুচি,

                   গরবিনী, তাই সেই শক্তি গেছে ঘুচি

          আপনার অন্তরে রহিতে অমলিনা--

                   হায়, তুমি, নিখিলের আশীর্বাদহীনা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পিস্‌নি
Verses
কিশোরগাঁয়ের পুবের পাড়ায় বাড়ি
পিস্‌নি বুড়ি চলেছে গ্রাম ছাড়ি।
একদিন তার আদর ছিল, বয়স ছিল ষোলো,
স্বামী মরতেই বাড়িতে বাস অসহ্য তার হল।
আর-কোনো ঠাঁই হয়তো পাবে আর-কোনো এক বাসা,
মনের মধ্যে আঁকড়ে থাকে অসম্ভবের আশা।
অনেক গেছে ক্ষয় হয়ে তার, সবাই দিল ফাঁকি,
       অল্প কিছু রয়েছে তার বাকি।
তাই দিয়ে সে তুলল বেঁধে ছোট্ট বোঝাটাকে,
       জড়িয়ে কাঁথা আঁকড়ে নিল কাঁখে।
বাঁ হাতে এক ঝুলি আছে, ঝুলিয়ে নিয়ে চলে,
মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠে বসে ধূলির তলে।
       শুধাই যবে, কোন্‌ দেশেতে যাবে,
       মুখে ক্ষণেক চায় সকরুণ ভাবে;
কয় সে দ্বিধায়, "কী জানি ভাই, হয়তো আলম্‌ডাঙা,
            হয়তো সান্‌কিভাঙা,
       কিংবা যাব পাটনা হয়ে কাশী।"
গ্রাম-সুবাদে কোন্‌কালে সে ছিল যে কার মাসি,
মণিলালের হয় দিদিমা, চুনিলালের মামি--
       বলতে বলতে হঠাৎ যে যায় থামি,
            স্মরণে কার নাম যে নাহি মেলে।
       গভীর নিশাস ফেলে
          চুপটি ক'রে ভাবে,
     এমন করে আর কতদিন যাবে।
দূরদেশে তার  আপন জনা, নিজেরই ঝঞ্ঝাটে
          তাদের বেলা কাটে।
  তারা এখন আর কি মনে রাখে
       এতবড়ো অদরকারি তাকে।
চোখে এখন কম দেখে সে, ঝাপসা যে তার মন,
ভগ্নশেষের সংসারে তার শুকনো ফুলের বন।
স্টেশন-মুখে গেল চলে পিছনে গ্রাম ফেলে,
রাত থাকতে, পাছে দেখে পাড়ায় মেয়ে ছেলে।
দূরে গিয়ে, বাঁশবাগানের বিজন গলি বেয়ে
পথের ধারে বসে পড়ে, শূন্যে থাকে চেয়ে।
      
আরো দেখুন
249
Verses
THE UNSEEN dark plays on his flute
and the rhythm of light
eddies into stars and suns,
into thoughts and dreams.
আরো দেখুন
হা রে বিধি কী দারুণ অদৃষ্ট আমার
Verses
হারে বিধি কী দারুণ অদৃষ্ট আমার
যারে যত ভালোবাসি, যার তরে কাঁদে প্রাণ
হৃদয়ে আঘাত দেয় সেই বারে বার --
যারে আমি বন্ধু বলি, করিয়াছি আলিঙ্গন
সেই এ হৃদয় করিয়াছে চুরমার
যারেই বেসেছি ভালো, সেই চিরকাল-তরে
পৃথিবীর কাছে দুঃখ পেয়েছে অপার।
হান বিধি হান বজ্র, আমার এ ভগ্নহৃদে
তিলেক বাঁচিতে নাই বাসনা আমার
প্রস্তরে গঠিত এই, হৃদয়বিহীন ধরা
হেথা কত কাল বলো বেঁচে রব আর।
আরো দেখুন