কালো ঘোড়া (kalo ghora)

কালো অশ্ব অন্তরে যে সারারাত্রি ফেলেছে নিশ্বাস

          সে আমার অন্ধ অভিলাষ।

অসাধ্যের সাধনায় ছুটে যাবে ব'লে

          দুর্গমেরে দ্রুত পায়ে দ'লে

                 খুরে খুরে খুঁড়েছে ধরণী,

                       করেছে অধীর হ্রেষাধ্বনি।

 

ও যেন রে যুগান্তের কালো অগ্নিশিখা,

              কালো কুজ্ঝটিকা।

  অকস্মাৎ নৈরাশ্য-আঘাতে

        দ্বার মুক্ত পেয়ে রাতে

              দুর্দাম এসেছে বাহিরিয়া।

যারে নিয়ে এল সে-যে ব্যথায় মূর্তিত মোর প্রিয়া,

        বাহিরে না স্থান পেয়ে

              ধ্যানের আসন ছিল ছেয়ে।

 

              এ-অমাবস্যায়

      বল্গাহারা কালো অশ্ব ঊর্ধ্বশ্বাসে ধায়।

                কালো চিন্তা মম

                 আত্মঘাতী ঝঞ্ঝাসম

              বিস্মৃতির চিরবিলুপ্তিতে

                   চলে ঝাঁপ দিতে

                       নিরঙ্কিত পথ বেয়ে।

                     যাক ধেয়ে।

              সৃষ্টিহীন দৃষ্টিহীন রাত্রিপারে

                    ব্যর্থ দুরাশারে

                           নিয়ে যাক্‌--

              অন্তিম শূন্যের মাঝে নিশ্চল নির্বাক্‌।

        তার পরে বিরহের অগ্নিস্নানে শুভ্র মন

              রৌদ্রস্নাত আশ্বিনের বৃষ্টিশূন্য মেঘের মতন

                             উন্মুক্ত আলোকে

                       দীপ্তি পাক্‌ সুনির্মল শোকে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

15
Verses
অন্তরে মিলনপুষ্প
          সৌন্দর্যে ফুটুক,
সংসারে কল্যাণ ফলে
          ফলিয়া উঠুক।
আরো দেখুন
39
Verses
জন্মের দিনে দিয়েছিল আজি
     তোমারে পরম মূল্য
রূপসত্তায় এলে যবে সাজি
        সূর্যতারার তুল্য।
দূর আকাশের পথে যে আলোক
        এসেছে ধরার বক্ষে
নিমেষে নিমেষে চুমি তব চোখ
        তোমারে বেঁধেছে সখ্যে।
দূর যুগ হতে আসে কত বাণী
        কালের পথের যাত্রী--
সে মহাবাণীরে লয় সম্মানি
        তোমার দিবসরাত্রি।
সম্মুখে গেছে অসীমের পানে
        জীবযাত্রার পন্থ--
সেথা চল তুমি, বলো কেবা জানে
        এ রহস্যের অন্ত।
আরো দেখুন
প্রবাসে
Verses
বিদেশমুখো মন যে আমার কোন্‌ বাউলের চেলা,
গ্রাম-ছাড়ানো পথের বাতাস সর্বদা দেয় ঠেলা।
তাই তো সেদিন ছুটির দিনে টাইমটেবিল প'ড়ে
            প্রাণটা উঠল নড়ে।
বাক্সো নিলেম ভর্তি করে, নিলেম ঝুলি থলে,
বাংলাদেশের বাইরে গেলেম গঙ্গাপারে চ'লে।
লোকের মুখে গল্প শুনে গোলাপ-খেতের টানে
মনটা গেল এক দৌড়ে গাজিপুরের পানে।
সামনে চেয়ে চেয়ে দেখি, গম-জোয়ারির খেতে
            নবীন অঙ্কুরেতে
বাতাস কখন হঠাৎ এসে সোহাগ করে যায়
হাত বুলিয়ে কাঁচা শ্যামল কোমল কচি গায়।
আটচালা ঘর, ডাহিন দিকে সবজি-বাগানখানা
শুশ্রূষা পায় সারা দুপুর, জোড়া-বলদটানা
আঁকাবাঁকা কল্‌কলানি করুণ জলের ধারায়--
চাকার শব্দে অলস প্রহর ঘুমের ভারে ভারায়।
            ইঁদারাটার কাছে
বেগনি ফলে তুঁতের শাখা রঙিন হয়ে আছে।
অনেক দূরে জলের রেখা চরের কূলে কূলে,
ছবির মতো নৌকো চলে পাল-তোলা মাস্তুলে।
সাদা ধুলো হাওয়ায় ওড়ে, পথের কিনারায়
            গ্রামটি দেখা যায়।
খোলার চালের কুটীরগুলি লাগাও গায়ে গায়ে
মাটির প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আমকাঁঠালের ছায়ে।
গোরুর গাড়ি পড়ে আছে মহানিমের তলে,
ডোবার মধ্যে পাতা-পচা পাঁক-জমানো জলে  
  গম্ভীর ঔদাস্যে অলস আছে মহিষগুলি
     এ ওর পিঠে আরামে ঘাড় তুলি।
বিকেল-বেলায় একটুখানি কাজের অবকাশে
            খোলা দ্বারের পাশে
     দাঁড়িয়ে আছে পাড়ার তরুণ মেয়ে
আপন-মনে অকারণে বাহির-পানে চেয়ে
অশথতলায় বসে তাকাই ধেনুচারণ মাঠে,
আকাশে মন পেতে দিয়ে সমস্ত দিন কাটে।
মনে হ'ত, চতুর্দিকে হিন্দি ভাষায় গাঁথা
একটা যেন সজীব পুঁথি, উলটিয়ে যাই পাতা--
কিছু বা তার ছবি-আঁকা কিছু বা তার লেখা,
কিছু বা তার আগেই যেন ছিল কখন্‌ শেখা।
ছন্দে তাহার রস পেয়েছি, আউড়িয়ে যায় মন।
সকল কথার অর্থ বোঝার নাইকো প্রয়োজন।
আরো দেখুন