৩৯ (jonmer dine diyechhilo aji)

জন্মের দিনে দিয়েছিল আজি

     তোমারে পরম মূল্য

রূপসত্তায় এলে যবে সাজি

        সূর্যতারার তুল্য।

দূর আকাশের পথে যে আলোক

        এসেছে ধরার বক্ষে

নিমেষে নিমেষে চুমি তব চোখ

        তোমারে বেঁধেছে সখ্যে।

দূর যুগ হতে আসে কত বাণী

        কালের পথের যাত্রী--

সে মহাবাণীরে লয় সম্মানি

        তোমার দিবসরাত্রি।

সম্মুখে গেছে অসীমের পানে

        জীবযাত্রার পন্থ--

সেথা চল তুমি, বলো কেবা জানে

        এ রহস্যের অন্ত।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

উড়ো জাহাজ
Verses
ওরে যন্ত্রের পাখি,
       ওরে রে আগুন-খাকী,
একি ডানা মেলি  আকাশেতে এলি,
       কোন্‌ নামে তোরে ডাকি?
       কোন্‌ রাক্ষুসে চিলে
       কী বিকট হাড়গিলে
পেড়েছিল ডিম    প্রকাণ্ড ভীম,
       তোরে সে জন্ম দিলে।
             কোন্‌ বটে, কোন্‌ শালে,
             কোন্‌ সে লোহার ডালে,
       কিরকম গাছে        তোর বাসা আছে
             দেখি নি তো কোনো কালে।
                 যখন ভ্রমণ করো
                 গান কেন নাহি ধরো--
         কোন্‌ ভূতে হায়        চাবুক কষায়,
                 গোঁ গোঁ ক'রে ক'রে মরো।
             তোমার ও দুটো ডানা
             মানুষের পোষ-মানা--
       কলের খাঁচায়        তোমারে নাচায়,
                 তুমি বোবা, তুমি কানা।
             হায় রে এ কি অদৃষ্ট,
             কিছুই তো নহে মিষ্ট--
       মানুষের সাথ        থাকো দিন রাত,
             নাহি বল রাধাকৃষ্ট।
               যত হও নাকো বড়ো,
               দাঁত করো কড়োমড়ো--
       তবু ভয়ে তোর       লাগিবে না ঘোর,
               হব নাকো জড়োসড়ো।
               মানুষেরে পিঠে ধরি
                          ঘোরো দিবা-বিভাবরী--
               আমরা দোয়েল        পাপিয়া কোয়েল
                          দূর হতে গড় করি।
আরো দেখুন
নিন্দুকের প্রতি নিবেদন
Verses
               হউক ধন্য তোমর যশ,
                    লেখনী ধন্য হোক,
               তোমার প্রতিভা উজ্জ্বল হয়ে
                    জাগাক সপ্তলোক।
               যদি পথে তব দাঁড়াইয়া থাকি
                    আমি ছেড়ে দিব ঠাঁই--
               কেন হীন ঘৃণা, ক্ষুদ্র এ দ্বেষ,
                    বিদ্রূপ কেন ভাই?
               আমার এ লেখা কারো ভালো লাগে
                    তাহা কি আমার দোষ?
               কেহ কবি বলে ( কেহ বা বলে না )--
                    কেন তাহে তব রোষ?
               কত প্রাণপণ,দগ্ধ হৃদয়,
                    বিনিদ্র বিভাবরী,
               জান কি বন্ধু উঠেছিল গীত
                    কত ব্যথা ভেদ করি?
               রাঙা ফুল হয়ে উঠিছে ফুটিয়া
                    হৃদয়শোণিতপাত,
               অশ্রু ঝলিছে শিশিরের মতো
                    পোহাইয়ে দুখরাত।
               উঠিতেছে কত কণ্টকলতা,
                    ফুলে পল্লবে ঢাকে--
               গভীর গোপন বেদনা-মাঝারে
                    শিকড় আঁকড়ি থাকে।
               জীবনে যে সাধ হয়েছে বিফল
                    সে সাধ ফুটিছে গানে--
               মরীচিকা রচি মিছে সে তৃপ্তি,
                    তৃষ্ণা কাঁদিছে প্রাণে।
               এনেছি তুলিয়া পথের প্রান্তে
                    মর্মকুসুম মম--
               আসিছে পান্থ, যেতেছে লইয়া
                    স্মরণচিহ্নসম।
               কোনো ফুল যাবে দু দিনে ঝরিয়া,
                    কোনো ফুল বেঁচে রবে--
               কোনো ছোটো ফুল আজিকার কথা
                    কালিকার কানে কবে।
               তুমি কেন, ভাই, বিমুখ এমন--
                    নয়নে কঠোর হাসি।
               দূর হতে যেন ফুঁষিছ সবেগে
                    উপেক্ষা রাশি রাশি--
               কঠিন বচন ঝরিছে অধরে
                    উপহাস হলাহলে,
               লেখনীর মুখে করিতে দগ্ধ
                    ঘৃণার অনল জ্বলে।
ভালোবেসে যাহা ফুটেছে পরানে,
                    সবার লাগিবে ভালো,
               যে জ্যোতি হরিছে আমার আঁধার
                    সবারে দিবে সে আলো--
               অন্তরমাঝে সবাই সমান,
                    বাহিরে প্রভেদ ভবে,
               একের বেদনা করুণাপ্রবাহে
                    সান্ত্বনা দিবে সবে।
               এই মনে করে ভালোবেসে আমি
                    দিয়েছিনু উপহার--
               ভালো নাহি লাগে ফেলে যাবে চলে,
                    কিসের ভাবনা তার!
               তোমার দেবার যদি কিছু থাকে
                    তুমিও দাও-না এনে।
               প্রেম দিলে সবে নিকটে আসিবে
                    তোমারে আপন জেনে।
               কিন্তু জানিয়ো আলোক কখনো
                    থাকে না তো ছায়া বিনা,
               ঘৃণার টানেও কেহ বা আসিবে,
                    তুমি করিয়ো না ঘৃণা!
               এতই কোমল মানবের মন
                    এমনি পরের বশ,
               নিষ্ঠুর বাণে সে প্রাণ ব্যথিতে
                    কিছুই নাহিক যশ।
               তীক্ষ্ণ হাসিতে বাহিরে শোণিত,
                    বচনে অশ্রু উঠে,
               নয়নকোণের চাহনি-ছুরিতে
                    মর্মতন্তু টুটে।
সান্ত্বনা দেওয়া নহে তো সহজ,
                    দিতে হয় সারা প্রাণ,
               মানবমনের অনল নিভাতে
                    আপনারে বলিদান।
               ঘৃণা জ্ব'লে মরে আপনার বিষে,
                    রহে না সে চিরদিন--
               অমর হইতে চাহ যদি, জেনো
                    প্রেম সে মরণহীন।
               তুমিও রবে না, আমিও রবনা,
                    দু দিনের দেখা ভবে--
               প্রাণ খুলে প্রেম দিতে পারো যদি
                    তাহা চিরদিন রবে।
               দুর্বল মোরা, কত ভুল করি,
                    অপূর্ণ সব কাজ।
               নেহারি আপন ক্ষুদ্র ক্ষমতা
                    আপনি যে পাই লাজ।
               তা বলে যা পারি তাও করিব না?
                    নিষ্ফল হব ভবে?
               প্রেমফুল ফোটে, ছোটো হল বলে
                    দিব না কি তাহা সবে?
               হয়তো এ ফুল সুন্দর নয়,
                    ধরেছি সবার আগে--
               চলিতে চলিতে আঁখির পলকে
                    ভুলে কারো ভালো লাগে।
               যদি ভুল হয় ক' দিনের ভুল!
                    দু' দিনে ভাঙিবে তবে।
               তোমার এমন শাণিত বচন
                    সেই কি অমর হবে?
আরো দেখুন
কঙ্কাল
Verses
পশুর কঙ্কাল ওই মাঠের পথের এক পাশে
                             পড়ে আছে ঘাসে--
যে ঘাস একদা তারে দিয়েছিল বল,
                             দিয়েছিল বিশ্রাম কোমল।
পড়ে আছে পাণ্ডু অস্থিরাশি
                             কালের নীরস অট্টহাসি।
             সে যেন রে মরণের অঙ্গুলিনির্দেশ--
ইঙ্গিতে কহিছে মোরে, "একদা পশুর যেথা শেষ,
   সেথায় তোমারও অন্ত, ভেদ নাহি লেশ।
             তোমারও প্রাণের সুরা ফুরাইলে পরে
ভাঙা পাত্র পড়ে রবে অমনি ধুলায় অনাদরে।'
আমি বলিলাম, "মৃত্যু, করি না বিশ্বাস
          তব শূন্যতার উপহাস।
                     মোর নহে শুধুমাত্র প্রাণ
সর্ব বিত্ত রিক্ত করি যার হয় যাত্রা অবসান;
                     যাহা ফুরাইলে দিন
শূন্য অস্থি দিয়ে শোধে আহারনিদ্রার শেষ ঋণ।'
ভেবেছি জেনেছি যাহা, বলেছি শুনেছি যাহা কানে,
             সহসা গেয়েছি যাহা গানে,
ধরে নি তা মরণের বেড়া-ঘেরা প্রাণে।
             যা পেয়েছি, যা করেছি দান
                             মর্তে তার কোথা পরিমাণ।
আমার মনের নৃত্য, কতবার জীবন-মৃত্যুরে
লঙ্ঘিয়া চলিয়া গেছে চিরসুন্দরের সুরপুরে।
          চিরকাল-তরে সে কি থেমে যাবে শেষে
                                                কঙ্কালের সীমানায় এসে।
                                যে আমার সত্য পরিচয়
                             মাংসে তার পরিমাপ নয়;
            পদাঘাতে জীর্ণ তারে নাহি করে দণ্ডপলগুলি--
                      সর্বস্বান্ত নাহি করে পথপ্রান্তে ধূলি।
আমি যে রূপের পদ্মে করেছি অরূপমধু পান,
দুঃখের বক্ষের মাঝে আনন্দের পেয়েছি সন্ধান,
            অনন্ত মৌনের বাণী শুনেছি অন্তরে,
দেখেছি জ্যোতির পথ শূন্যময় আঁধারপ্রান্তরে।
            নহি আমি বিধির বৃহৎ পরিহাস,
                             অসীম ঐশ্বর্য দিয়ে রচিত মহৎ সর্বনাশ।
আরো দেখুন