৪৫ (puraton botsorer jirnoklanto)

     পুরাতন বৎসরের জীর্ণক্লান্ত রাত্রি

          ওই কেটে গেল; ওরে যাত্রী।

     তোমার পথের 'পরে তপ্ত রৌদ্র এনেছে আহ্বান

              রুদ্রের ভৈরব গান।

                  দূর হতে দূরে

          বাজে পথ শীর্ণ তীব্র দীর্ঘতান সুরে,

                  যেন পথহারা

              কোন্‌ বৈরাগীর একতারা।

 

              ওরে যাত্রী,

     ধূসর পথের ধুলা সেই তোর ধাত্রী;

চলার অঞ্চলে তোরে ঘূর্ণাপাকে বক্ষেতে আবরি

         ধরার বন্ধন হতে নিয়ে যাক হরি

              দিগন্তের পারে দিগন্তরে।

     ঘরের মঙ্গলশঙ্খ নহে তোর তরে,

          নহে রে সন্ধ্যার দীপালোক,

          নহে প্রেয়সীর অশ্রু-চোখ।

পথে পথে অপেক্ষিছে কালবৈশাখীর আশীর্বাদ,

          শ্রাবণরাত্রির বজ্রনাদ।

     পথে পথে কন্টকের অভ্যর্থনা,

     পথে পথে গুপ্তসর্প গুপ্তসর্প গূঢ়ফণা।

          নিন্দা দিবে জয়শঙ্খনাদ

          এই তোর রুদ্রের প্রসাদ।

 

     ক্ষতি এনে দিবে পদে অমূল্য অদৃশ্য উপহার।

          চেয়েছিলি অমৃতের অধিকার--

     সে তো নহে সুখ, ওরে, সে নহে বিশ্রাম,

          নহে শান্তি, নহে সে আরাম।

          মৃত্যু তোরে দিবে হানা,

          দ্বারে দ্বারে পাবি মানা,

     এই তোর নব বৎসরের আশীর্বাদ,

          এই তোর রুদ্রের প্রসাদ

          ভয় নাই, ভয় নাই, যাত্রী।

     ঘরছাড়া দিকহারা অলক্ষ্মী তোমার বরদাত্রী।

 

     পুরাতন বৎসরের জীর্ণক্লান্ত রাত্রি

          ওই কেটে গেল, ওরে যাত্রী।

              এসেছে নিষ্ঠুর,

          হোক রে দ্বারের বন্ধ দূর,

          হোক রে মদের পাত্র চুর।

     নাই বুঝি, নাই চিনি, নাই তারে জানি,

          ধরো তার পাণি;

     ধ্বনিয়া উঠুক তব হৃৎকম্পনে তার দীপ্ত বাণী।

          ওরে যাত্রী

     গেছে কেটে, যাক কেটে পুরাতন রাত্রি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

73
Verses
DELIVERANCE is not for me in renunciation. I feel the embrace of freedom in a thousand bonds of delight.
Thou ever pourest for me the fresh draught of thy wine of various colours and fragrance, filling this earthern vessel to the brim.
My world will tight its hundred different lamps with thy flame and place them before the altar of thy temple.
No, I will never shut the doors of my senses. The delights of sight and hearing and touch will bear thy delight.
Yes, all my illusions will burn into illumination of joy, and all my desires ripen into fruits of love.
আরো দেখুন
সিন্ধুতরঙ্গ
Verses
        পুরী-তীর্থযাত্রী তরণীর নিমজ্জন উপলক্ষে
    দোলে রে প্রলয় দোলে           অকূল সমুদ্র-কোলে,
                      উৎসব ভীষণ।
    শত পক্ষ ঝাপটিয়া                বেড়াইছে দাপটিয়া
                      দুর্দম পবন।
    আকাশ সমুদ্র-সাথে              প্রচণ্ড মিলনে মাতে,
         অখিলের আঁখিপাতে আবরি তিমির।
    বিদ্যুৎ চমকে ত্রাসি,           হা হা করে ফেনরাশি,
         তীক্ষ্ণ শ্বেত রুদ্র হাসি জড়-প্রকৃতির।
    চক্ষুহীন কর্ণহীন                    গেহহীন স্নেহহীন
                      মত্ত দৈত্যগণ
         মরিতে ছুটেছে কোথা, ছিঁড়েছে বন্ধন।
    হারাইয়া চারি ধার                  নীলাম্বুধি অন্ধকার
                      কল্লোলে, ক্রন্দনে,
    রোষে, ত্রাসে, ঊর্ধ্বশ্বাসে,         অট্টরোলে, অট্টহাসে,
                      উন্মাদ গর্জনে,
    ফাটিয়া ফুটিয়া উঠে,             চূর্ণ হয়ে যায় টুটে,
         খুঁজিয়া মরিছে ছুটে আপনার কূল--
    যেন রে পৃথিবী ফেলি         বাসুকী করিছে কেলি
         সহস্রৈক ফণা মেলি, আছাড়ি লাঙ্গুল।
    যেন রে তরল নিশি                 টলমলি দশ দিশি
                      উঠিছে নড়িয়া,
         আপন নিদ্রার জাল ফেলিছে ছিঁড়িয়া।
    নাই সুর, নাই ছন্দ,               অর্থহীন, নিরানন্দ
                      জড়ের নর্তন।
    সহস্র জীবনে বেঁচে               ওই কি উঠিছে নেচে
                      প্রকাণ্ড মরণ?
    জল বাষ্প বজ্র বায়ু               লভিয়াছে অন্ধ আয়ু,
         নূতন জীবনস্নায়ু টানিছে হতাশে,
    দিগ্বিদিক নাহি জানে,            বাধাবিঘ্ন নাহি মানে
         ছুটেছে প্রলয়-পানে আপনারি ত্রাসে;
    হেরো, মাঝখানে তারি            আট শত নরনারী
                      বাহু বাঁধি বুকে,
         প্রাণে আঁকড়িয়া প্রাণ, চাহিয়া সম্মুখে।
    তরণী ধরিয়া ঝাঁকে--         রাক্ষসী ঝটিকা হাঁকে,
                      "দাও, দাও, দাও!"
    সিন্ধু ফেনোচ্ছল ছলে           কোটি ঊর্ধ্বকরে বলে,
                      "দাও, দাও, দাও!"
    বিলম্ব দেখিয়া রোষে           ফেনায়ে ফেনায়ে ফোঁষে,
         নীল মৃত্যু মহাক্রোশে শ্বেত হয়ে উঠে।
    ক্ষুদ্র তরী গুরুভার           সহিতে পারে না আর,
         লৌহবক্ষ ওই তার যায় বুঝি টুটে।
    অধ ঊর্ধ্ব এক হয়ে                  ক্ষুদ্র এ খেলনা লয়ে
                      খেলিবারে চায়।
             দাঁড়াইয়া কর্ণধার তরীর মাথায়।
    নরনারী কম্পমাপ                ডাকিতেছে, ভগবান!
                      হায় ভগবান!
    দয়া করো, দয়া করো!              উঠিছে কাতর স্বর,
                      রাখো রাখো প্রাণ!
    কোথা সেই পুরাতন                  রবি শশী তারাগণ
             কোথা আপনার ধন ধরণীর কোল!
    আজন্মের স্নেহসার             কোথা সেই ঘরদ্বার,
         পিশাচী এ বিমাতার হিংস্র উতরোল!
    যে দিকে ফিরিয়া চাই              পরিচিত কিছু নাই,
                      নাই আপনার--
             সহস্র করাল মুখ সহস্র-আকার।
    ফেটেছে তরণীতল,              সবেগে উঠিছে জল,
                      সিন্ধু মেলে গ্রাস।
    নাই তুমি, ভগবান,             নাই দয়া, নাই প্রাণ--
                      জড়ের বিলাস।
    ভয় দেখে ভয় পায়,             শিশু কাঁদে উভরায়--
             নিদারুণ হায়-হায় থামিল চকিতে।
    নিমেষেই ফুরাইল,                   কখন জীবন ছিল
             কখন জীবন গেল নারিল লখিতে।
    যেন রে একই ঝড়ে                নিবে গেল একত্তরে
                    শত দীপ আলো,
             চকিতে সহস্র গৃহে আনন্দ ফুরালো।
    প্রাণহীন এ মত্ততা              না জানে পরের ব্যাথা,
                    না জানে আপন।
    এর মাঝে কেন রয়                ব্যথাভরা স্নেহময়
                    মানবের মন।
    মা কেন রে এইখানে,           শিশুচায় তার পানে,
          ভাই সে ভায়ের টানে কেন পড়ে বুকে।
    মধুর রবির করে                  কত ভালোবাসা-ভরে
          কতদিন খেলা করে কত সুখে দুখে।
    কেন করে টলমল               দুটি ছোটো অশ্রুজল,
                    সকরুণ আশা।
          দীপশিখাসম কাঁপে ভীত ভালোবাসা।
    এমন জড়ের কোলে           কেমনে নির্ভয়ে দোলে
                    নিখিল মানব।
    সব সুখ সব আশ              কেন নাহি করে গ্রাস
                    মরণ দানব।
    ওই-যে জন্মের তরে              জননী ঝাঁপায়ে পড়ে
          কেন বাঁধে বক্ষ-'পরে সন্তান আপন।
    মরণের মুখে ধায়,        সেথাও দিবে না তায়--
          কাড়িয়া রাখিতে চায় হৃদয়ের ধন।
    আকাশেতে পারাবারে           দাঁড়ায়েছে এক ধারে
                    এক ধারে নারী,
        দুর্বল শিশুটি তার কে লইবে কাড়ি?
    এ বল কোথায় পেলে,          আপন কোলের ছেলে
                    এত ক'রে টানে।
    এ নিষ্ঠুর জহস্রোতে            প্রেম এল কোথা হতে
                    মানবের প্রাণে।
    নৈরাশ্য কভু না জানে,           বিপত্তি কিছু না মানে,
               অপূর্ব অমৃতপাটে অনন্ত নবীন--
    এমন মায়ের প্রাণ                  যে বিশ্বের কোনোখান
             তিলেক পেয়েছে স্থান সে কি মাতৃহীন?
    এ প্রলয়-মাঝখানে                  অবলা জননী-প্রাণে
                    স্নেহ মৃত্যুজয়ী--
         এ স্নেহ জাগায়ে রাখে কোন্‌ স্নেহময়ী?
    পাশাপাশি এক ঠাঁই           দয়া আছে, দয়া নাই--
                    বিষম সংশয়।
    মহাশঙ্কা মহা-আশা                একত্র বেঁধেছে বাসা,
                    এক-সাথে রয়।
    কে বা সত্য, কে বা মিছে,     নিশিদিন আকুলিছে,
         কভু ঊর্ধ্বে কভু নীচে টানিছে হৃদয়।
    জড় দৈত্য শক্তি হানে,       মিনতি নাহিক মানে--
         প্রেম এসে কোলে টানে, দূর করে ভয়।
    এ কি দুই দেবতার                দ্যূতখেলা অনিবার
                    ভাঙাগড়াময়?
          চিরদিন অন্তহীন জয়পরাজয়?
আরো দেখুন
অক্ষমা
Verses
যেখানে এসেছি আমি, আমি সেথাকার,
দরিদ্র সন্তান আমি দীন ধরণীর।
জন্মাবধি যা পেয়েছি সুখদুঃখভার
বহু ভাগ্য বলে তাই করিয়াছি স্থির।
অসীম ঐশ্বর্যরাশি নাই তোর হাতে,
হে শ্যামলা সর্বসহা জননী মৃন্ময়ী।
সকলের মুখে অন্ন চাহিস জোগাতে,
পারিস নে কত বার-- কই অন্ন কই'
কাঁদে তোর সন্তানেরা ম্লান শুষ্ক মুখ।
জানি মা গো, তোর হাতে অসম্পূর্ণ সুখ--
যা কিছু গড়িয়া দিস ভেঙে ভেঙে যায়,
সব-তাতে হাত দেয় মৃত্যু সর্বভুক,
সব আশা মিটাইতে পারিস নে হায়
তা বলে কি ছেড়ে যাব তোর তপ্ত বুক!
আরো দেখুন