১৩ (pousher pata jhora tapobone)

         পউষের পাতা-ঝরা তপোবনে

              আজি কী কারণে

     টলিয়া পড়িল আসি বসন্তের মাতাল বাতাস;

              নাই লজ্জা, নাই ত্রাস,

              আকাশে ছড়ায় উচ্চহাস

              চঞ্চলিয়া শীতের প্রহর

                      শিশির-মন্থর।

 

                       বহুদিনকার

              ভুলে-যাওয়া যৌবন আমার

                            সহসা কী মনে ক'রে

              পত্র তার পাঠায়েছে মোরে

                            উচ্ছৃঙ্খল বসন্তের হাতে

              অকস্মাৎ সংগীতের ইঙ্গিতের সাথে।

 

                            লিখেছে সে--

              আছি আমি অনন্তের দেশে

                            যৌবন তোমার

                            চিরদিনকার।

                      গলে মোর মন্দারের মালা,

          পীত মোর উত্তরীয় দূর বনান্তের গন্ধ-ঢালা।

                            বিরহী তোমার লাগি

                                    আছি জাগি

                            দক্ষিণ-বাতাসে

                       ফাল্গুনের নিশ্বাসে নিশ্বাসে।

     আছি জাগি চক্ষে চক্ষে হাসিতে হাসিতে

              কত মধু মধ্যাহ্নের বাঁশিতে বাঁশিতে।

 

                            লিখেছে সে--

              এসো এসো চলে এসো বয়সের জীর্ণ পথশেষে,

                            মরণের সিংহদ্বার

                                    হয়ে এসো পার;

              ফেলে এসো ক্লান্ত পুষ্পহার।

          ঝরে পড়ে ফোটা ফুল, খসে পড়ে জীর্ণ পত্রভার,

                            স্বপ্ন যায় টুটে,

              ছিন্ন আশা ধূলিতলে পড়ে লুটে।

                       শুধু আমি যৌবন তোমার

                            চিরদিনকার,

     ফিরে ফিরে মোর সাথে দেখা তব হবে বারম্বার

              জীবনের এপার ওপার।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

113
Verses
THE HILLS are like shouts of children who raise their arms, trying to catch stars.
আরো দেখুন
তারকার আত্মহত্যা
Verses
  
    জ্যোতির্ময় তীর হতে আঁধার সাগরে
        ঝাঁপায়ে পড়িল এক তারা,
        একেবারে উন্মাদের পারা।
    চৌদিকে অসংখ্য তারা রহিল চাহিয়া
           অবাক হইয়া--
    এই-যে জ্যোতির বিন্দু আছিল তাদের মাঝে
        মুহুর্তে সে গেল মিশাইয়া।
যে সমূদ্রতলে
        মনোদুঃখে আত্মঘাতী
        চির-নির্বাপিত-ভাতি
        শত মৃত তারকার
        মৃতদেহ রয়েছে শয়ান
        সেথায় সে করেছে পয়ান।
কেন গো, কী হয়েছিল তার।
        একরার শুধালে না কেহ--
        কী লাগি সে তেয়াগিল দেহ।
           যদি কেহ শুধাইতো
        আমি জানি কী যে সে কহিত।
           যতদিন বেঁচে ছিল
        আমি জানি কী তারে দহিত।
       সে কেবল হাসির যন্ত্রণা,  
       আর কিছু না!
    জ্বলন্ত অঙ্গারখণ্ড ঢাকিতে আঁধার হৃদি
       অনিবার হাসিতেই রহে,
       যত হাসে ততই সে দহে।
    তেমনি, তেমনি তারে হাসির অনল
            দারুণ উজ্জল--
    দহিত, দহিত তারে, দহিত, কেবল।
    জ্যোতির্ময় তারাপূর্ণ বিজন তেয়াগি  
    তাই আজ ছুটেছে সে নিতান্ত মনের ক্লেশে
    আঁধারের তারাহীন বিজনের লাগি।
       কেন গো তোমরা যত তারা
    উপহাস করি তার হাসিছ অমন ধারা।
       তোমাদের হয় নি তো ক্ষতি,
    যেমন আছিল আগে তেমনি রয়েছে জ্যোতি।
       সে কি কভু ভেবেছিল মনে-
       (এত গর্ব আছিল কি তার)।
    আপনারে নিবাইয়া তোমাদের করিবে আঁধার।
    গেল, গেল, ডুবে গেল, তারা এক ডুবে গেল,
             আঁধারসাগরে--
             গভীর নিশীথে
             অতল আকাশে।
    হৃদয়, হৃদয় মোর, সাধ কি রে যায় তোর
    ঘুমাইতে ওই মৃত তারাটির পাশে
                ওই আঁধারসাগরে
                এই গভীর নিশীথে
      ওই অতল আকাশে।
আরো দেখুন
92
Verses
THE BIRTH and death of the leaves are the rapid whirls of the eddy whose wider circles move slowly among stars.
আরো দেখুন