৯ (ke tomare dilo pran)

কে তোমারে দিল প্রাণ

                      রে পাষাণ।

     কে তোমারে জোগাইছে এ অমৃতরস

                      বরষ বরষ।

তাই দেবলোকপানে নিত্য তুমি রাখিয়াছ ধরি

                      ধরণীর আনন্দমঞ্জরী;

     তাই তো তোমারে ঘিরি বহে বারোমাস

অবসন্ন বসন্তের বিদায়ের বিষণ্ন নিশ্বাস;

     মিলনরজনীপ্রান্তে ক্লান্ত চোখে

                       ম্লান দীপালোকে

     ফুরায়ে গিয়াছে যত অশ্রু-গলা গান

তোমার অন্তরে তারা আজিও জাগিছে অফুরান,

     হে পাষাণ, অমর পাষাণ।

 

     বিদীর্ণ হৃদয় হতে বাহিরে আনিল বহি

              সে রাজবিরহী

          বিরহের রত্নখানি;

              দিল আনি

          বিশ্বলোক-হাতে

              সবার সাক্ষাতে।

     নাই সেথা সম্রাটের প্রহরী সৈনিক,

          ঘিরিয়া ধরেছে তারে দশ দিক।

              আকাশ তাহার 'পরে

                     যত্নভরে

              রেখে দেয় নীরব চুম্বন

                             চিরন্তন;

             প্রথম মিলনপ্রভা

                     রক্তশোভা

                             দেয় তারে প্রভাত-অরুণ,

              বিরহের ম্লানহাসে

                      পাণ্ডুভাসে

                             জ্যোৎস্না তারে করিছে করুণ।

 

                      সম্রাটমহিষী,

তোমার প্রেমের স্মৃতি সৌন্দর্যে হয়েছে মহীয়সী।

              সে-স্মৃতি তোমারে ছেড়ে

                      গেছে বেড়ে

                               সর্বলোকে

                                     জীবনের অক্ষয় আলোকে।

 

          অঙ্গ ধরি সে অনঙ্গস্মৃতি

     বিশ্বের প্রীতির মাঝে মিলাইছে সম্রাটের প্রীতি।

          রাজ-অন্তঃপুর হতে আনিল বাহিরে

     গৌরবমুকুট তব, পরাইল সকলের শিরে

              যেথা  যার রয়েছে প্রেয়সী

     রাজার প্রাসাদ হতে দীনের কুটিরে--

     তোমার প্রেমের স্মৃতি সবারে করিল মহীয়সী।

 

              সম্রাটের মন,

                      সম্রাটের ধনজন

এই রাজকীর্তি হতে করিয়াছে বিদায়গ্রহণ।

              আজ সর্বমানবের অনন্ত বেদনা

                      এ পষাণ-সুন্দরীরে

                               আলিঙ্গনে ঘিরে

                      রাত্রিদিন করিছে সাধানা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

36
Verses
উদয়পথের তরুণ পথিক তুমি
      অস্তপথের রবির স্নেহের কর
আশিস রাখিল নবজীবনের পর
      তোমার ললাট চুমি।
আরো দেখুন
গব্বুরাজার পাতে
Verses
গব্বুরাজার পাতে
ছাগলের কোর্‌মাতে
     যবে দেখা গেল তেলা-
         পোকাটা
রাজা গেল মহা চ'টে,
চীৎকার করে ওঠে,--
     'খানসামা কোথাকার
         বোকাটা।'
মন্ত্রী জুড়িয়া পাণি
কহে, 'সবই এক প্রাণী।'
     রাজার ঘুচিয়া গেল
         ধোঁকাটা।
জীবের শিবের প্রেমে
একদম গেল থেমে
     মেঝে তার তলোয়ার
         ঠোকাটা।
আরো দেখুন
গান
Verses
তুমি পড়িতেছ হেসে              তরঙ্গের মতো এসে
                   হৃদয়ে আমার।
যৌবনসমুদ্রমাঝে                   কোন্‌ পূর্ণিমায় আজি
                   এসেছে জোয়ার!
উচ্ছল পাগল নীরে                 তালে তালে ফিরে ফিরে
     এ মোর নির্জন তীরে  কী খেলা তোমার!
মোর সর্ব বক্ষ জুড়ে                কত নৃত্যে কত সুরে
     এসো কাছে যাও দূরে শতলক্ষবার।
তুমি পড়িতেছ হেসে              তরঙ্গের মতো এসে
                   হৃদয়ে আমার।
জাগরণসম তুমি          আমার ললাট চুমি
                   উদিছ নয়নে।
সুষুপ্তির প্রান্ততীরে                দেখা দাও ধীরে ধীরে
                   নবীন কিরণে।
দেখিতে দেখিতে শেষে             সকল হৃদয়ে এসে
     দাঁড়াও আকুল কেশে রাতুল চরণে--
সকল আকাশ টুটে                 তোমাতে ভরিয়া উঠে,
     সকল কানন ফুটে জীবনে যৌবনে।
জাগরণসম তুমি                    আমার ললাট চুমি
                   উদিছ নয়নে।
কুসুমের মতো শ্বসি               পড়িতেছ খসি খসি
                   মোর বক্ষ-'পরে।
গোপন শিশিরছলে                 বিন্দু বিন্দু অশ্রুজলে
                   প্রাণ সিক্ত করে।
নিঃশব্দ সৌরভরাশি                পরানে পশিছে আসি
     সুখস্বপ্ন পরকাশি  নিভৃত অন্তরে।
পরশপুলকে ভোর                 চোখে আসে ঘুমঘোর,
       তোমার চুম্বন, মোর সর্বাঙ্গে সঞ্চরে।
কুসুমের মতো শ্বসি               পড়িতেছ খসি খসি
                   মোর বক্ষ-'পরে।
আরো দেখুন