২২ (jokhon amar hat dhore)

          যখন আমায় হাতে ধরে

              আদর করে

          ডাকলে তুমি আপন পাশে,

          রাত্রিদিবস ছিলেম ত্রাসে

পাছে তোমার আদর হতে অসাবধানে কিছু হারাই,

          চলতে গিয়ে নিজের পথে

          যদি আপন ইচ্ছামতে

     কোনো দিকে এক পা বাড়াই,

পাছে বিরাগ-কুশাঙ্কুরের একটি কাঁটা একটু মাড়াই।

 

              মুক্তি, এবার মুক্তি আজি

                     উঠল বাজি

              অনাদরের কঠিন ঘায়ে,

     অপমানের ঢাকে ঢোলে সকল নগর সকল গাঁয়ে।

     ওরে ছুটি, এবার ছুটি, এই যে আমার হল ছুটি,

              ভাঙল আমার মানের খুঁটি,

              খসল বেড়ি হাতে পায়ে;

                     এই যে এবার

                     দেবার নেবার

              পথ খোলসা ডাইনে বাঁয়ে।

 

              এতদিনে আবার মোরে

                      বিষম জোরে

              ডাক দিয়েছে আকাশ পাতাল।

                      লাঞ্ছিতেরে কে রে থামায়।

                      ঘর-ছাড়ানো বাতাস আমায়

                             মুক্তি-মদে করল মাতাল।

              খসে-পড়া তারার সাথে

                       নিশীথরাতে

              ঝাঁপ দিয়েছি অতলপানে

                       মরণ-টানে।

 

          আমি-যে সেই বৈশাখী মেঘ বাঁধনছাড়া,

              ঝড় তাহারে দিল তাড়া;

     সন্ধ্যারবির স্বর্ণকিরীট ফেলে দিল অস্তপারে,

          বজ্রমানিক দুলিয়ে নিল গলার হারে;

              একলা আপন তেজে

                        ছুটল সে-যে

              অনাদরের মুক্তিপথের 'পরে

          তোমার চরণধুলায়-রঙিন চরম সমাদরে।

 

              গর্ভ ছেড়ে মাটির 'পরে

                      যখন পড়ে

          তখন ছেলে দেখে আপন মাকে।

              তোমার আদর যখন ঢাকে,

              জড়িয়ে থাকি তারি নাড়ীর পাকে,

              তখন তোমায় নাহি জানি।

                       আঘাত হানি

     তোমারি আচ্ছাদন হতে যেদিন দূরে ফেলাও টানি

              সে-বিচ্ছেদে চেতনা দেয় আনি,

                      দেখি বদনখানি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

200
Verses
OPEN THY DOOR to that which must go,
for the loss becomes unseemly when obstructed.
আরো দেখুন
30
Verses
কল্যাণীয়া শ্রীমতী উমা চন্দ
                   হে অপরিচিতা, লিখিয়া আমার নাম
                   আশীর্বাদের সেতুখানি রচিলাম।
আরো দেখুন
ভুল-ভাঙা
Verses
বুঝেছি আমার নিশার স্বপন
                হয়েছে ভোর।
        মালা ছিল, তার ফুলগুলি গেছে,
                রয়েছে ডোর।
        নেই আর সেই চুপি-চুপি চাওয়া,
        ধীরে কাছে এসে ফিরে ফিরে যাওয়া--
        চেয়ে আছে আঁখি, নাই ও আঁখিতে
                প্রেমের ঘোর।
        বাহুলতা শুধু বন্ধনপাশ
                বাহুতে মোর।
        হাসিটুকু আর পড়ে না তো ধরা
                অধরকোণে,
        আপনারে আর চাহ না লুকাতে
                আপন মনে।
        স্বর শুনে আর উতলা হৃদয়
        উথলি উঠে না সারা দেহময়,
        গান শুনে আর ভাসে না নয়নে
                নয়নলোর।
        আঁখিজলরেখা ঢাকিতে চাহে না
                শরম চোর।
বসন্ত নাহি এ ধরায় আর
                আগের মতো,
        জ্যোৎস্নাযামিনী যৌবনহারা
                জীবনহত।
        আর বুঝি কেহ বাজায় না বীণা,
        কে জানে কাননে ফুল ফোটে কি না--
        কে জানে সে ফুল তোলে কি না কেউ
                ভরি আঁচোর।
        কে জানে সে ফুলে মালা গাঁথে কি না
                সারা প্রহর।
        বাঁশি বেজেছিল, ধরা দিনু যেই
                থামিল বাঁশি--
        এখন কেবল চরণে শিকল
                কঠিন ফাঁসি।
        মধু নিশা গেছে, স্মৃতি তারি আজ
        মর্মে মর্মে হানিতেছে লাজ--
        সুখ গেছে, আছে সুখের ছলনা
                হৃদয়ে তোর।
        প্রেম গেছে, শুধু আছে প্রাণপণ
                মিছে আদর।
        কতই না জানি জেগেছ রজনী
                করুণ দুখে,
        সদয় নয়নে চেয়েছ আমার
                মলিন মুখে।
পরদুখভার সহে নাকো আর,
        লতায়ে পড়িছে দেহ সুকুমার--
        তবু আসি আমি পাষাণ হৃদয়
                বড়ো কঠোর।
        ঘুমাও, ঘুমাও, আঁখি ঢুলে আসে
                ঘুমে কাতর।
আরো দেখুন