২০ (bishudada dirghobopu drirhobahu)

বিশুদাদা--

দীর্ঘবপু, দৃঢ়বাহু, দুঃসহ কর্তব্যে নাহি বাধা,

বুদ্ধিতে উজ্জ্বল চিত্ত তার

সর্বদেহে তৎপরতা করিছে বিস্তার।

তন্দ্রার আড়ালে

রোগক্লিষ্ট ক্লান্ত রাত্রিকালে

মূর্তিমান শক্তির জাগ্রত রূপ প্রাণে

বলিষ্ঠ আশ্বাস বহি আনে,

নির্নিমেষ নক্ষত্রের মাঝে

যেমন জাগ্রত শক্তি নিঃশব্দ বিরাজে

অমোঘ আশ্বাসে

সুপ্ত রাত্রে বিশ্বের আকাশে।

যখন শুধায় মোরে, দুঃখ কি রয়েছে কোনোখানে

মনে হয়, নাই তার মানে--

দুঃখ মিছে ভ্রম,

আপন পৌরুষে তারে আপনি করিব অতিক্রম।

সেবার ভিতরে শক্তি দুর্বলের দেহে করে দান

বলের সম্মান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ছুটি
Verses
দাও-না ছুটি,
               কেমন করে বুঝিয়ে বলি
                   কোন্‌খানে।
        যেখানে ওই শিরীষবনের গন্ধপথে
                   মৌমাছিদের কাঁপছে ডানা সারাবেলা।
        যেখানেতে মেঘ-ভাসা ওই সুদূরতা,
               জলের প্রলাপ যেখানে প্রাণ উদাস করে
সন্ধ্যাতারা ওঠার মুখে,
    যেখানে সব প্রশ্ন গেছে থেমে--
        শূন্য ঘরে অতীত স্মৃতি গুন্‌গুনিয়ে
               ঘুম ভাঙিয়ে রাখে না আর বাদলরাতে।
           যেখানে এই মন
        গোরুচরা মাঠের মধ্যে স্তব্ধ বটের মতো
           গাঁয়ে-চলা পথের পাশে।
         কেউ বা এসে প্রহরখানেক বসে তলায়,
পা ছড়িয়ে কেউ বা বাজায় বাঁশি,
    নববধূর পাল্‌কিখানা নামিয়ে রাখে
           ক্লান্ত দুই পহরে;
        কৃষ্ণ-একাদশীর রাতে
    ছায়ার সঙ্গে ঝিল্লিরবে জড়িয়ে পড়ে
          চাঁদের শীর্ণ আলো।
যাওয়া-আসার স্রোত বহে যায় দিনে রাতে--
ধরে-রাখার নাই কোনো আগ্রহ,
    দূরে রাখার নাই তো অভিমান।
        রাতের তারা স্বপ্নপ্রদীপখানি
           ভোরের আলোয় ভাসিয়ে দিয়ে
               যায় চলে, তার দেয় না ঠিকানা।
আরো দেখুন
আশীর্বাদ
Verses
পঞ্চাশ বছরের কিশোর গুণী নন্দলাল বসুর প্রতি
সত্তর বছরের প্রবীণ যুবা রবীন্দ্রনাথের আশীর্ভাষণ
    নন্দনের কুঞ্জতলে রঞ্জনার ধারা,
    জন্ম-আগে তাহার জলে তোমার স্নান সারা।
            অঞ্জন সে কী মধুরাতে
            লাগালো কে যে নয়নপাতে,
    সৃষ্টি-করা দৃষ্টি তাই পেয়েছে আঁখিতারা।
    এনেছে তব জন্মডালা অজর ফুলরাজি,
    রূপের-লীলালিখন-ভরা পারিজাতের সাজি।
            অপ্সরীর নৃত্যগুলি
            তুলির মুখে এনেছ তুলি,
    রেখার বাঁশি লেখার তব উঠিল সুরে বাজি।
    যে মায়াবিনী আলিম্পনা সবুজে নীলে লালে
    কখনো আঁকে কখনো মোছে অসীম দেশে কালে,
            মলিন মেঘে সন্ধ্যাকাশে
            রঙিন উপহাসি যে হাসে
    রঙজাগানো সোনার কাঠি সেই ছোঁয়ালো ভালে।
    বিশ্ব সদা তোমার কাছে ইশারা করে কত,
    তুমিও তারে ইশারা দাও আপন মনোমত।
            বিধির সাথে কেমন ছলে
            নীরবে তব আলাপ চলে,
    সৃষ্টি বুঝি এমনিতরো ইশারা অবিরত।
    ছবির 'পরে পেয়েছ তুমি রবির বরাভয়,
    ধূপছায়ার চপল মায়া করেছ তুমি জয়।
            তব আঁকন-পটের 'পরে
            জানি গো চিরদিনের তরে
    নটরাজের জটার রেখা জড়িত হয়ে রয়।
    চিরবালক ভুবনছবি আঁকিয়া খেলা করে,
    তাহারি তুমি সমবয়সী মাটির খেলাঘরে।
            তোমার সেই তরুণতাকে
            বয়স দিয়ে কভু কি ঢাকে,
    অসীম-পানে ভাসাও প্রাণ খেলার ভেলা-'পরে।
    তোমারি খেলা খেলিতে আজি উঠেছে কবি মেতে,
    নববালক জন্ম নেবে নূতন আলোকেতে।
            ভাবনা তার ভাষায় ডোবা--
            মুক্ত চোখে বিশ্বশোভা
    দেখাও তারে, ছুটেছে মন তোমার পথে যেতে।
আরো দেখুন
42
Verses
I TOUCH GOD in my song
as the hill touches the far-away sea
with its waterfall.
আরো দেখুন