১১৫ (prohor shesher aloy raanga)

প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস–

তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।।

এ সংসারের নিত্য খেলায় প্রতিদিনের প্রাণের মেলায়

বাটে ঘাটে হাজার লোকের হাস্য-পরিহাস–

মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ।।

আমের বনে দোলা লাগে, মুকুল প’ড়ে ঝ’রে–

চিরকালের চেনা গন্ধ হাওয়ায় ওঠে ভ’রে ।

মঞ্জরিত শাখায় শাখায়, মউমাছিদের পাখায় পাখায়,

ক্ষণে ক্ষণে বসন্তদিন ফেলেছে নিশ্বাস–

মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ।।

রাগ: অজ্ঞাত

তাল: অজ্ঞাত

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৬ শ্রাবণ, ১৩৪১

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১ অগাস্ট, ১৯৩৪

Rendition

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

তুমি জাগিছ কে
Songs
                   তুমি জাগিছ কে?
তব আঁখিজ্যোতি ভেদ করে সঘন গহন
                   তিমিররাতি ॥
চাহিছ হৃদয়ে অনিমেষ নয়নে,
সংশয়চপল প্রাণ কম্পিত ত্রাসে ॥
কোথা লুকাব তোমা হতে স্বামী--
এ কলঙ্কিত জীবন তুমি দেখিছ, জানিছ--
                   প্রভু, ক্ষমা করো হে।
তব পদপ্রান্তে বসি একান্তে দাও কাঁদিতে আমায়,
                   আর কোথা যাই ॥
আরো দেখুন
হায় অতিথি, এখনি
Songs
হায় অতিথি, এখনি কি হল তোমার যাবার বেলা।
দেখো আমার হৃদয়তলে সারা রাতের আসন মেলা ॥
     এসেছিলে দ্বিধাভরে
          কিছু বুঝি চাবার তরে,
     নীরব চোখে সন্ধ্যালোকে খেয়াল নিয়ে করলে খেলা।
জানালে না গানের ভাষায় এনেছিলে যে প্রত্যাশা।
শাখার আগায় বসল পাখি, ভুলে গেল বাঁধতে বাসা।
     দেখা হল, হয় নি চেনা--
          প্রশ্ন ছিল, শুধালে না--
     আপন মনের আকাঙক্ষারে আপনি কেন করলে হেলা ॥
আরো দেখুন
বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে
Songs
বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে।
স্থলে জলে নভতলে বনে উপবনে
নদীনদে গিরিগুহা-পারাবারে
নিত্য জাগে সরস সঙ্গীতমধুরিমা,
নিত্য নৃত্যরসভঙ্গিমা।--
  
নব বসন্তে নব আনন্দ, উৎসব নব।
অতি মঞ্জুল, অতি মঞ্জুল, শুনি মঞ্জুল গুঞ্জন কুঞ্জে--
শুনি রে শুনি মর্মর পল্লবপুঞ্জে,
পিককূজন পুষ্পবনে বিজনে,
মৃদু বায়ুহিলোলবিলোল বিভোল বিশাল সরোবর-মাঝে
কলগীত সুললিত বাজে।
শ্যামল কান্তার-'পরে অনিল সঞ্চারে ধীরে রে,
নদীতীরে শরবনে উঠে ধ্বনি সরসর মরমর।
কত দিকে কত বাণী, নব নব কত ভাষা, ঝরঝর রসধারা ॥
  
আষাঢ়ে নব আনন্দ, উৎসব নব।
অতি গম্ভীর, অতি গম্ভীর নীল অম্বরে ডম্বরু বাজে,
যেন রে প্রলয়ঙ্করী শঙ্করী নাচে।
করে গর্জন নির্ঝরিণী সঘনে,
হেরো ক্ষুব্ধ ভয়াল বিশাল নিরাল পিয়ালতমালবিতানে
উঠে রব ভৈরবতানে।
পবন মল্লারগীত গাহিছে আঁধার রাতে,
উন্মাদিনী সৌদামিনী রঙ্গভরে নৃত্য করে অম্বরতলে।
দিকে দিকে কত বাণী, নব নব কত ভাষা, ঝরঝর রসধারা ॥
  
আশ্বিনে নব আনন্দ, উৎসব নব।
অতি নির্মল, অতি নির্মল, অতি নির্মল উজ্জ্বল সাজে
ভুবনে নব শারদলক্ষ্ণী বিরাজে।
নব ইন্দুলেখা অলকে ঝলকে
অতি নির্মল হাসবিভাসবিকাশ আকাশনীলাম্বুজ-মাঝে
শ্বেত ভুজে শ্বেত বীণা বাজে--
উঠিছে আলাপ মৃদু মধুর বেহাগতানে,
চন্দ্রকরে উল্লসিত ফুল্লবনে ঝিল্লিরবে তন্দ্রা আনে রে।
দিকে দিকে কত বাণী, নব নব কত ভাষা, ঝরঝর রসধারা ॥
আরো দেখুন