শাপমোচন (sangjojan4)

১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ 


 

সংযোজন

সে সখা, বারতা পেয়েছি মনে মনে
তব নিশ্বাসপরশনে,
এসেছ অদেখা বন্ধু
দক্ষিণসমীরণে।
কেন বঞ্চনা কর মোরে,
কেন বাঁধ অদৃশ্য ডোরে,
দেখা দাও দেহমন ভ'রে
মম নিকুঞ্জবনে।
দেখা দাও চম্পকে রঙ্গনে,
দেখা দাও কিংশুকে কাঞ্চনে।
কেন শুধু বাঁশরীর সুরে
ভুলায়ে লয়ে যাও দূরে,
যৌবন-উৎসবে ধরা দাও
দৃষ্টির বন্ধনে॥

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অরূপরতন
Plays
ভূমিকা সুদর্শনা রাজাকে বাহিরে খুঁজিয়াছিল। যেখানে বস্তুকে চোখে দেখা যায়, হাতে ছোঁওয়া যায়, ভাণ্ডারে সঞ্চয় করা যায়, যেখানে ধনজন খ্যাতি, সেইখানে সে বরমাল্য পাঠাইয়াছিল। বুদ্ধির অভিমানে সে নিশ্চয় স্থির করিয়াছিল যে, বুদ্ধির জোরে সে বাহিরেই জীবনের সার্থকতা লাভ করিবে। তাহার সঙ্গিনী সুরঙ্গমা তাহাকে বলিয়াছিল, অন্তরের নিভৃত কক্ষে যেখানে প্রভু স্বয়ং আসিয়া আহ্বান করেন সেখানে তাঁহাকে চিনিয়া লইলে তবেই বাহিরে সর্বত্র তাঁহাকে চিনিয়া লইতে ভুল হইবে না; -- নহিলে যাহারা মায়ার দ্বারা চোখ ভোলায় তাহাদিগকে রাজা বলিয়া ভুল হইবে। সুদর্শনা এ-কথা মানিল না। সে সুবর্ণের রূপ দেখিয়া তাহার কাছে মনে মনে আত্মসমর্পণ করিল। তখন কেমন করিয়া তাহার চারিদিকে আগুন লাগিল, অন্তরের রাজাকে ছাড়িতেই কেমন করিয়া তাহাকে লইয়া বাহিরের নানা মিথ্যা রাজার দলে লড়াই বাধিয়া গেল,-- সেই অগ্নিদাহের ভিতর দিয়া কেমন করিয়া আপন রাজার সহিত তাহার পরিচয় ঘটিল, কেমন করিয়া দুঃখের আঘাতে তাহার অভিমান ক্ষয় হইল এবং অবশেষে কেমন করিয়া হার মানিয়া প্রাসাদ ছাড়িয়া পথে দাঁড়াইয়া তবে সে তাহার সেই প্রভুর সঙ্গলাভ করিল, যে-প্রভু সকল দেশে, সকল কালে, সকল রূপে, আপন অন্তরের আনন্দরসে যাঁহাকে উপলব্ধি করা যায়,-- এ নাটকে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে।
এই নাট্য-রূপকটি "রাজা' নাটকের অভিনয়যোগ্য সংক্ষিপ্ত সংস্করণ -- নূতন করিয়া পুনর্লিখিত।
শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রস্তাবনা
গান
চোখ যে ওদের ছুটে চলে গো --
ধনের বাটে মানের বাটে রূপের হাটে
দলে দলে গো॥
দেখবে ব'লে করেছে পণ,
দেখবে কারে জানে না মন,
প্রেমের দেখা দেখে যখন
চোখ ভেসে যায় চোখের জলে গো॥
আমায় তোরা ডাকিস না রে,
আমি যাব খেয়ার ঘাটে অরূপ রসের পারাবারে।
উদাস হাওয়া লাগে পালে,
পারের পানে যাবার কালে
চোখ দুটোরে ডুবিয়ে যাব
অকূল সুধা-সাগর তলে গো॥

 

 

আরো দেখুন