সংযোজন - ১০ (ochir bosonto hay ela gelo chole)

অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে--

এবার কিছু কি, কবি করেছ সঞ্চয়।

ভরেছ কি কল্পনার কনক-অঞ্চলে

চঞ্চলপবনক্লিষ্ট শ্যাম কিশলয়,

ক্লান্ত করবীর গুচ্ছ। তপ্ত রৌদ্র হতে

নিয়েছ কি গলাইয়া যৌবনের সুরা--

ঢেলেছ কি উচ্ছলিত তব ছন্দঃস্রোতে,

রেখেছ কি করি তারে অনন্তমধুরা।

এ বসন্তে প্রিয়া তব পূর্ণিমানিশীথে

নবমল্লিকার মালা জড়াইয়া কেশে

তোমার আকাঙক্ষাদীপ্ত অতৃপ্ত আঁখিতে

যে দৃষ্টি হানিয়াছিল একটি নিমেষে

সে কি রাখ নাই গেঁথে অক্ষয় সংগীতে।

সে কি গেছে পুষ্পচ্যুত সৌরভের দেশে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

স্বপ্ন
Verses
তোমায় আমি দেখি নাকো, শুধু তোমার স্বপ্ন দেখি --
তুমি আমায় বারে বারে শুধাও, "ওগো, সত্য সে কি?'
            কী জানি গো, হয়তো বুঝি
            তোমার মাঝে কেবল খুঁজি
এই জনমের রূপের তলে আর-জনমের ভাবের স্মৃতি।
            হয়তো হেরি তোমার চোখে
            আদিযুগের ইন্দ্রলোকে
শিশুচাঁদের পথ-ভোলানো পারিজাতের ছায়াবীথি।
এই কূলেতে ডাকি যখন সাড়া যে দাও সেই ওপারে,
পরশ তোমার ছাড়িয়ে কায়া বাজে মায়ার বীণার তারে।
            হয়তো হবে সত্য তাই,
হয়তো তোমার স্বপন, আমার আপন মনের মত্ততাই।
আমি বলি স্বপ্ন যাহা তার চেয়ে কি সত্য আছে।
যে তুমি মোর দূরের মানুষ সেই তুমি মোর কাছের কাছে।
            সেই তুমি আর নও তো বাঁধন,
            স্বপ্নরূপে মুক্তিসাধন,
ফুলের সাথে তারার সাথে তোমার সাথে সেথায় মেলা।
            নিত্যকালের  বিদেশিনী,
            তোমায় চিনি, নাই বা চিনি,
তোমার লীলায় ঢেউ তুলে যায় কভু সোহাগ, কভু হেলা।
চিত্তে তোমার মূর্তি নিয়ে ভাবসাগরের খেয়ায় চড়ি।
বিধির মনের কল্পনারে আপন মনে নতুন গড়ি।
            আমার কাছে সত্য তাই,
মন-ভরানো পাওয়ায় ভরা বাইরে-পাওয়ার ব্যর্থতাই।
আপনি তুমি দেখেছ কি আপন-মাঝে সত্য কী যে।
দিতে যদি চাও তা কারে, দিতে কি তাই পারো নিজে।
            হয়তো তারে দুঃখদিনে
            অগ্নি-আলোয় পাবে চিনে,
তখন তোমার নিবিড় বেদন নিবেদনের জ্বালবে শিখা।
            অমৃত যে হয় নি মথন,
            তাই তোমাতে এই অযতন;
তাই তোমারে ঘিরে আছে ছলন-ছায়ার কুহেলিকা।
নিত্যকালের আপন তোমায় লুকিয়ে বেড়ায় মিথ্যা সাজে,
ক্ষণে ক্ষণে ধরা পড়ে শুধু আমার স্বপন-মাঝে।
            আমি জানি সত্য তাই --
মরণ-দুঃখে অমর জাগে, অমৃতেরই তত্ত্ব তাই।
পুষ্পমালার গ্রন্থিখানা অনাদরে পড়ুক ছিঁড়ে,
ফুরাক বেলা, জীর্ণ খেলা হারাক হেলাফেলার ভিড়ে।
            ছল করে যা পিছু ডাকে
            পিছন ফিরে চাস নে তাকে,
ডাকে না যে যাবার বেলায় যাস নে তাহার পিছে পিছে।
            যাওয়া- আসা-পথের ধুলায়
            চপল পায়ের চিহ্নগুলায়
গ'নে গ'নে আপন মনে কাটাস নে দিন মিছে মিছে।
কী হবে তোর বোঝাই করে ব্যর্থ দিনের আবর্জনা;
স্বপ্ন শুধুই মর্তে অমর, আর সকলই বিড়ম্বনা।
            নিত্য প্রাণের সত্য তাই --
প্রাণ দিয়ে তুই রচিস যারে, অসীম পথের পথ্য তাই।
আরো দেখুন
14
Verses
                        ওঁ
                                      শান্তিনিকেতন
রানী ও প্রশান্ত
          বর্ষ পরে বর্ষ গেছে চ'লে
      ছন্দ গাঁথিয়াছি আমি তোমাদের মিলনমঙ্গলে।
      এবার দিনের অন্তে বিরল ভাষার আশীর্বাণী
          রবির স্নেহের স্পর্শ আনি
          পশ্চিমের ক্লান্ত রশ্মি হতে
যোগ দিল তোমাদের আনন্দিত গৃহের আলোতে।
                                                         কবি
আরো দেখুন
মানিক কহিল, পিঠ পেতে দিই দাঁড়াও
Verses
   মানিক কহিল, 'পিঠ পেতে দিই দাঁড়াও।
   আম দুটো ঝোলে, ওর দিকে হাত বাড়াও।
   উপরের ডালে         সবুজে ও লালে
       ভরে আছে, কষে নাড়াও।
   নিচে নেমে এসে     ছুরি দিয়ে শেষে
       ব'সে ব'সে খোসা ছাড়াও।
   যদি আসে মালি       চোখে দিয়ে বালি
       পারো যদি তারে  তাড়াও।
   বাকি কাজটার         মোর 'পরে ভার,
       পাবে না শাঁসের সাড়াও।
   আঁঠি যদি থাকে       দিয়ো মালিটাকে,
        মাড়াব না তার পাড়াও।
   পিসিমা রাগিলে     তাঁর চড়ে কিলে
          বাঁদরামি-ভূত তাড়াও।'
আরো দেখুন