রবিবার (robibar)

সোম মঙ্গল বুধ এরা সব

          আসে তাড়াতাড়ি,

এদের ঘরে আছে বুঝি

          মস্ত হাওয়াগাড়ি?

রবিবার সে কেন, মা গো,

          এমন দেরি করে?

ধীরে ধীরে পৌঁছয় সে

          সকল বারের পরে।

আকাশপারে তার বাড়িটি

          দূর কি সবার চেয়ে?

সে বুঝি, মা, তোমার মতো

          গরিব-ঘরের মেয়ে?

সোম মঙ্গল বুধের খেয়াল

          থাকবারই জন্যেই,

বাড়ি-ফেরার দিকে ওদের

          একটুও মন নেই।

রবিবারকে কে যে এমন

          বিষম তাড়া করে,

ঘণ্টাগুলো বাজায় যেন

          আধ ঘণ্টার পরে।

আকাশ-পারে বাড়িতে তার

          কাজ আছে সব-চেয়ে

সে বুঝি, মা, তোমার মতো

          গরিব-ঘরের মেয়ে।

সোম মঙ্গল বুধের যেন

          মুখগুলো সব হাঁড়ি,

ছোটো ছেলের সঙ্গে তাদের

          বিষম আড়াআড়ি।

কিন্তু শনির রাতের শেষে

          যেমনি উঠি জেগে,

রবিবারের মুখে দেখি

          হাসিই আছে লেগে।

যাবার বেলায় যায় সে কেঁদে

          মোদের মুখে চেয়ে।

সে বুঝি, মা, তোমার মতো

          গরিব ঘরের মেয়ে?

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সাগরিকা
Verses
সাগরজলে সিনান করি সজল এলোচুলে
       বসিয়াছিল উপল-উপকূলে।
              শিথিল পীতবাস
মাটির 'পরে কুটিলরেখা লুটিল চারি পাশ।
নিরাবরণ বক্ষে তব, নিরাভরণ দেহে
চিকন সোনা-লিখন উষা আঁকিয়া দিল স্নেহে।
মকরচূড় মুকুটখানি পরি ললাট-'পরে
       ধনুকবাণ ধরি দখিন করে,
              দাঁড়ানু রাজবেশী--
       কহিনু, "আমি এসেছি পরদেশী।'
চমকি ত্রাসে দাঁড়ালে উঠি শিলা-আসন ফেলে,
       শুধালে, "কেন এলে।'
       কহিনু আমি, "রেখো না ভয় মনে,
পূজার ফুল তুলিতে চাহি তোমার ফুলবনে।'
       চলিলে সাথে হাসিলে অনুকূল,
তুলিনু যূথী, তুলিনু জাতী, তুলিনু চাঁপাফুল।
দুজনে মিলি সাজায়ে ডালি বসিনু একাসনে,
          নটরাজেরে পূজিনু একমনে।
কুহেলি গেল, আকাশে আলো দিল-যে পরকাশি
          ধূর্জটির মুখের পানে পার্বতীর হাসি।
সন্ধ্যাতারা উঠিল যবে গিরিশিখর-'পরে
          একেলা ছিলে ঘরে।
কটিতে ছিল নীল দুকূল, মালতীমালা মাথে,
          কাঁকন দুটি ছিল দুখানি হাতে।
          চলিতে পথে বাজায় দিনু বাঁশি,
          "অতিথি আমি', কহিনু দ্বারে আসি।
তরাসভরে চকিতকরে প্রদীপখানি জ্বেলে
          চাহিলে মুখে, কহিলে, "কেন এলে।'
          কহিনু আমি, "রেখো না ভয় মনে,
তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।'
          চাহিলে হাসিমুখে,
আধোচাঁদের কনকমালা দোলানু তব বুকে।
মকরচূড় মুকুটখানি কবরী তব ঘিরে
          পরায়ে দিনু শিরে।
          জ্বালায়ে বাতি মাতিল সখীদল,
তোমার দেহে রতনসাজ করিল ঝলমল।
মধুর হল বিধুর হল মাধবী নিশীথিনী,
আমার তালে আমার নাচে মিলিল রিনিঝিনি।
          পূর্ণচাঁদ হাসে আকাশ-কোলে,
আলোকছায়া শিবশিবানী সাগরজলে দোলে।
          ফুরাল দিন কখন নাহি জানি,
সন্ধ্যাবেলা ভাসিল জলে আবার তরীখানি।
          সহসা বায়ু বহিল প্রতিকূলে,
প্রলয় এল সাগরতলে দারুণ ঢেউ তুলে।
লবণজলে ভরি
আঁধার রাতে ডুবাল মোর রতনভরা তরী।
আবার ভাঙা ভাগ্য নিয়ে দাঁড়ানু দ্বারে এসে
          ভূষণহীন মলিন দীন বেশে।
দেখিনু আমি নটরাজের দেউলদ্বার খুলি
তেমনি করে রয়েছে ভরে ডালিতে ফুলগুলি।
     হেরিনু রাতে, উতল উৎসবে
          তরল কলরবে
আলোর নাচ নাচায় চাঁদ সাগরজলে যবে,
     নীরব তব নম্র নত মুখে
আমারি আঁকা পত্রলেখা, আমারি মালা বুকে।
     দেখিনু চুপে চুপে
আমারি বাঁধা মৃদঙ্গের ছন্দ রূপে রূপে
     অঙ্গে তব হিল্লোলিয়া দোলে
     ললিতগীতকলিত কল্লোলে।
     মিনতি মম শুন হে সুন্দরী,
আরেক বার সমুখে এসো প্রদীপখানি ধরি।
এবার মোর মকরচূড় মুকুট নাহি মাথে,
     ধনুকবাণ নাহি আমার হাতে;
এবার আমি আনি নি ডালি দখিন সমীরণে
     সাগরকূলে তোমরা ফুলবনে।
          এনেছি শুধু বীণা,
দেখো তো চেয়ে আমারে তুমি চিনিতে পার কি না।
আরো দেখুন
66
Verses
I. 20. man na rangaye
THE YOGI dyes his garments, instead of dyeing his mind in the colours of love:
He sits within the temple of the Lord, leaving Brahma to worship a stone.
He pierces holes in his ears, he has a great beard and matted locks, he looks like a goat:
He goes forth into the wilderness, killing all his desires, and turns himself into an eunuch:
He shaves his dead and dyes his garments; he reads the Gita an becomes a mighty talker.
Kabir says: 'You are going to the doors of death, bound hand and foot.'
আরো দেখুন
11
Verses
মৃত্যুর নেপথ্য হতে আরবার এলে তুমি ফিরে
নূতন বধূর সাজে হৃদয়ের বিবাহমন্দিরে
নিঃশব্দ চরণপাতে। ক্লান্ত জীবনের যত গ্লানি
ঘুচেছে মরণস্নানে। অপরূপ নব রূপখানি
লভিয়াছ এ বিশ্বের লক্ষ্মীর অক্ষয় কৃপা হতে।
স্মিতস্নিগ্ধমুগ্ধমুখে এ চিত্তের নিভৃত আলোতে
নির্বাক দাঁড়ালে আসি। মরণের সিংহদ্বার দিয়া
সংসার হইতে তুমি অন্তরে পশিলে আসি, প্রিয়া।
আজি বাজে নাই বাদ্য, ঘটে নাই জনতা-উৎসব,
জ্বলে নাই দীপমালা আজিকার আনন্দগৌরব
প্রশান্ত গভীর স্তব্ধ বাক্যহারা অশ্রুনিমগন,
আজিকার এই বার্তা জানে নি, শোনে নি কোনো জন।
আমার অন্তর শুধু জ্বেলেছে প্রদীপ একখানি--
আমার সংগীত শুধু একা গাঁথে মিলনের বাণী।
আরো দেখুন