চাতুরী (chaturi)

আমার খোকা করে গো যদি মনে

     এখনি উড়ে পারে সে যেতে

          পারিজাতের বনে।

          যায় না সে কি সাধে।

     মায়ের বুকে মাথাটি থুয়ে

     সে ভালোবাসে থাকিতে শুয়ে,

     মায়ের মুখ না দেখে যদি

          পরান তার কাঁদে।

আমার খোকা সকল কথা জানে।

     কিন্তু তার এমন ভাষা,

          কে বোঝে তার মানে।

          মৌন থাকে সাধে?

     মায়ের মুখে মায়ের কথা

     শিখিতে তার কী আকুলতা,

     তাকায় তাই বোবার মতো

          মায়ের মুখচাঁদে।

খোকার ছিল রতনমণি কত--

     তবু সে এল কোলের 'পরে

        ভিখারীটির মতো।

          এমন দশা সাধে?

     দীনের মতো করিয়া ভান

     কাড়িতে চাহে মায়ের প্রাণ,

     তাই সে এল বসনহীন

          সন্ন্যাসীর ছাঁদে।

খোকা যে ছিল বাঁধন-বাধা-হারা --

  যেখানে জাগে নূতন চাঁদ

       ঘুমায় শুকতারা।

       ধরা সে দিল সাধে?

  অমিয়মাখা কোমল বুকে

  হারাতে চাহে অসীম সুখে,

  মুকতি চেয়ে বাঁধন মিঠা

       মায়ের মায়া-ফাঁদে।

আমার খোকা কাঁদিতে জানিত না,

     হাসির দেশে করিত শুধু

          সুখের আলোচনা।

          কাঁদিতে চাহে সাধে?

     মধুমুখের হাসিটি দিয়া

     টানে সে বটে মায়ের হিয়া,

     কান্না দিয়ে ব্যথার ফাঁসে

   দ্বিগুণ বলে বাঁধে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

একাকী
Verses
এল সন্ধ্যা তিমির বিস্তারি;
        দেবদারু সারি সারি
                দোলে ক্ষণে ক্ষণে
                      ফাল্গুনের ক্ষুব্ধ সমীরণে।
        স্তব্ধতার বক্ষোমাঝে পল্লবমর্মর
                জাগায় অস্ফুট মন্ত্রস্বর।
        মনে হয় অনাদি সৃষ্টির পরপারে
                আপনি কে আপনারে
        শুধাইছে ভাষাহীন প্রশ্ন নিরন্তর;
                অসংখ্য নক্ষত্র নিরুত্তর।
        অসীমের অদৃশ্য গুহায় কোন্‌খানে
                নিরুদ্দেশ-পানে
                      লক্ষ্যহীন কালস্রোত চলে।
আমি মগ্ন হয়ে আছি সুগভীর নৈঃশব্দ্যের তলে।
                ভাবি মনে মনে,
এতদিন সঙ্গ যারা দিয়েছিল আমার জীবনে
                নিল তারা কতটুকু স্থান?
                আমার গভীরতম প্রাণ,
        আমার সুদূরতম আশা-আকাঙক্ষার
                গোপন ধ্যানের অধিকার,
        ব্যর্থ ও সার্থক কামনায়
                আলোয় ছায়ায়
        রচিলাম যে স্বপ্নভুবন,
                যে আমার লীলানিকেতন
এক প্রান্ত ব্যাপ্ত আর অসমাপ্ত অরূপসাধনে
        অন্য প্রান্ত কর্মের বাঁধনে,
                যে অভাবনীয়,
        অলক্ষিত উৎস হতে যে অমিয়
                জীবনের ভোজে
        চেতনারে ভরেছে সহজে,
যে ভালোবাসার ব্যথা রহি রহি
        আনিয়া দিয়েছে বহি
শ্রুত বা অশ্রুত সুর উৎকণ্ঠিত চিতে
        গীতে বা অগীতে--
                কতটুকু তাহাদের জানা আছে
                             এল যারা কাছে!
                ব্যক্ত অব্যক্তের সৃষ্টি এ মোর সংসারে
আসে যায় এক ধারে,
        বিরহদিগন্তে পায় লয়--
                নিয়ে যায় লেশমাত্র পরিচয়।
আপনার মাঝে এই বহুব্যাপী অজানারে ঢাকি
                স্তব্ধ আমি রয়েছি একাকী।
        যেন ছায়াঘন বট
জুড়ে আছে জনশূন্য নদীতট--
        কোণে কোণে প্রশাখার কোলে কোলে
পাখি কভু বাসা বাঁধে, বাসা ফেলে কভু যায় চলে।
        সম্মুখে স্রোতের ধারা আসে আর যায়
                জোয়ার-ভাঁটায়;
অসংখ্য শাখার জালে নিবিড় পল্লবপুঞ্জ-মাঝে
        রাত্রিদিন অকারণে অন্তহীন প্রতীক্ষা বিরাজে।
আরো দেখুন
আতার বিচি
Verses
আতার বিচি নিজে পুঁতে পাব তাহার ফল,
দেখব ব'লে ছিল মনে বিষম কৌতূহল।
       তখন আমার বয়স ছিল নয়,
অবাক লাগত কিছুর থেকে কেন কিছুই হয়।
দোতলাতে পড়ার ঘরের বারান্দাটা বড়ো,
ধুলো বালি একটা কোণে করেছিলুম জড়ো।
সেথায় বিচি পুঁতেছিলুম অনেক যত্ন করে,
গাছ বুঝি আজ দেখা দেবে, ভেবেছি রোজ ভোরে।
জানলাটার পূর্বধারে টেবিল ছিল পাতা,
সেইখানেতে পড়া চলত; পুঁথিপত্র খাতা
রোজ সকালে উঠত জমে দুর্ভাবনার মতো;
পড়া দিতেন, পড়া নিতেন মাস্টার মন্মথ।
পড়তে পড়তে বারে বারে চোখ যেত ঐ দিকে,
গোল হত সব বানানেতে, ভুল হত সব ঠিকে।
অধৈর্য অসহ্য হত, খবর কে তার জানে
কেন আমার যাওয়া-আসা ঐ কোণটার পানে।
দু মাস গেল, মনে আছে, সেদিন শুক্রবার--
অঙ্কুরটি দেখা দিল নবীন সুকুমার।
অঙ্ক-কষার বারান্দাতে চুনসুরকির কোণে
অপূর্ব সে দেখা দিল, নাচ লাগালো মনে।
আমি তাকে নাম দিয়েছি আতা গাছের খুকু,
ক্ষণে ক্ষণে দেখতে যেতেম, বাড়ল কতটুকু।
দুদিন বাদেই শুকিয়ে যেত সময় হলে তার,
এ জায়গাতে স্থান নাহি ওর করত আবিষ্কার;
কিন্তু যেদিন মাস্টার ওর দিলেন মৃত্যুদণ্ড,
কচিকচি পাতার কুঁড়ি হল খণ্ড খণ্ড,
আমার পড়ার ত্রুটির জন্যে দায়ী করলেন ওকে,
বুক যেন মোর ফেটে গেল, অশ্রু ঝরল চোখে।
দাদা বললেন, কী পাগলামি, শান-বাঁধানো মেঝে,
হেথায় আতার বীজ লাগানো ঘোর বোকামি এ যে।
আমি ভাবলুম সারা দিনটা বুকের ব্যথা নিয়ে,
বড়োদের এই জোর খাটানো অন্যায় নয় কি এ।
মূর্খ আমি ছেলেমানুষ, সত্য কথাই সে তো,
একটু সবুর করলেই তা আপনি ধরা যেত।
  
আরো দেখুন
149
Verses
ফুলের কলিকা প্রভাতরবির
      প্রসাদ করিছে লাভ,
কবে হবে তার হৃদয় ভরিয়া
      ফলের আবির্ভাব।
আরো দেখুন