৮ (bibaher ponchom boroshe)

বিবাহের পঞ্চম বরষে

যৌবনের নিবিড় পরশে

গোপন রহস্যভরে

পরিণত রসপুঞ্জ অন্তরে অন্তরে

পুষ্পের মঞ্জরী হতে ফলের স্তবকে

বৃন্ত হতে ত্বকে

সুবর্ণবিভায় ব্যাপ্ত করে।

সংবৃত সুমন্দ গন্ধ অতিথিরে ডেকে আনে ঘরে।

সংযত শোভায়

পথিকের নয়ন লোভায়।

পাঁচ বৎসরের ফুল্ল বসন্তের মাধবীমঞ্জরি

মিলনের স্বর্ণপাত্রে সুধা দিল ভরি;

মধু সঞ্চয়ের পর

মধুপেরে করিল মুখর।

শান্ত আনন্দের আমন্ত্রণে

আসন পাতিয়া দিল রবাহূত অনাহূত জনে।

বিবাহের প্রথম বৎসরে

দিকে দিগন্তরে

সাহানায় বেজেছিল বাঁশি,

উঠেছিল কল্লোলিত হাসি,

আজ স্মিতহাস্য ফুটে প্রভাতের মুখে

নিঃশব্দ কৌতুকে।

বাঁশি বাজে কানাড়ায় সুগভীর তানে

সপ্তর্ষির ধ্যানের আহ্বানে।

পাঁচ বৎসরের ফুল্ল বিকশিত সুখস্বপ্নখানি

সংসারের মাঝখানে পূর্ণতার স্বর্গ দিল আনি।

বসন্তপঞ্চম রাগ আরম্ভেতে উঠেছিল বাজি,

সুরে সুরে তালে তালে পূর্ণ হয়ে উঠিয়াছে আজি।

পুষ্পিত অরণ্যতলে প্রতি পদক্ষেপে

মঞ্জীরে বসন্তরাগ উঠিতেছে কেঁপে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

10
Verses
WHAT IS IT THAT drives these bees from their home; these followers of unseen trails? What cry is this in their eager wings? How can they hear the music that sleeps in the flower soul? How can they find their way to the chamber where the honey lies shy and silent?
আরো দেখুন
জানি জানি কোন্‌ আদি কাল হতে
Verses
জানি জানি কোন্‌ আদি কাল হতে
ভাসালে আমারে জীবনের স্রোতে,
সহসা হে প্রিয়, কত গৃহে পথে
       রেখে গেছ প্রাণে কত হরষন।
              কতবার তুমি মেঘের আড়ালে
              এমনি মধুর হাসিয়া দাঁড়ালে,
              অরুণ-কিরণে চরণ বাড়ালে,
                     ললাটে রাখিলে শুভ পরশন।
সঞ্চিত হয়ে আছে এই চোখে
কত কালে কালে কত লোকে লোকে
কত নব নব আলোকে আলোকে
       অরূপের কত রূপদরশন।
              কত যুগে যুগে কেহ নাহি জানে
              ভরিয়া ভরিয়া উঠেছে পরানে
              কত সুখে দুখে কত প্রেমে গানে
                     অমৃতের কত রসবরষন।
আরো দেখুন
পালের নৌকা
Verses
তীরের পানে চেয়ে থাকি পালের নৌকা ছাড়ি--
গাছের পরে গাছ ছুটে যায়, বাড়ির পরে বাড়ি।
          দক্ষিণে ও বামে
          গ্রামের পরে গ্রামে
ঘাটের পরে ঘাটগুলো সব পিছিয়ে চলে যায়
          ভোজবাজিরই প্রায়।
নাইছে যারা তারা যেন সবাই মরীচিকা
যেমনি চোখে ছবি আঁকে মোছে ছবির লিখা।
আমি যেন চেপে আছি মহাকালের তরী,
দেখছি চেয়ে যে খেলা হয় যুগযুগান্ত ধরি।
পরিচয়ের যেমন শুরু তেমনি তাহার শেষ--
সামনে দেখা দেয়, পিছনে অমনি নিরুদ্দেশ।
ভেবেছিলুম ভুলব না যা তাও যাচ্ছি ভুলে,
পিছু দেখার ঘুচিয়ে বেদন চলছি নতুন কূলে।
          পেতে পেতেই ছাড়া
     দিনরাত্তির মনটাকে দেয় নাড়া।
এই নাড়াতেই লাগছে খুশি, লাগছে ব্যথা কভু,
বেঁচে-থাকার চলতি খেলা লাগছে ভালোই তবু।
বারেক ফেলা, বারেক তোলা, ফেলতে ফেলতে যাওয়া--
এ'কেই বলে জীবনতরীর চলন্ত দাঁড় বাওয়া।
তাহার পরে রাত্রি আসে, দাঁড় টানা যায় থামি,
কেউ কারেও দেখতে না পায় আঁধারতীর্থগামী।
ভাঁটার স্রোতে ভাসে তরী, অকূলে হয় হারা--
যে সমুদ্রে অস্তে নামে কালপুরুষের তারা।
আরো দেখুন