পাহাড়ের নীলে আর দিগন্তের নীলে শূন্যে আর ধরাতলে মন্ত্র বাঁধে ছন্দে আর মিলে। বনেরে করায় স্নান শরতের রৌদ্রের সোনালি। হলদে ফুলের গুচ্ছে মধু খোঁজে বেগুনি মৌমাছি। মাঝখানে আমি আছি, চৌদিকে আকাশ তাই দিতেছে নিঃশব্দ করতালি। আমার আনন্দে আজ একাকার ধ্বনি আর রঙ, জানে তা কি এ কালিম্পঙ। ভান্ডারে সঞ্চিত করে পর্বতশিখর অন্তহীন যুগ-যুগান্তর। আমার একটি দিন বরমাল্য পরাইল তারে, এ শুভ সংবাদ জানাবারে অন্তরীক্ষে দুর হতে দুরে অনাহত সুরে প্রভাতে সোনার ঘণ্টা বাজে ঢঙ ঢঙ, শুনিছে কি এ কালিম্পঙ।
হে ধরণী, জীবের জননী, শুনেছি যে মা তোমায় বলে, তবে কেন তোর কোলে সবে কেঁদে আসে, কেঁদে যায় চলে। তবে কেন তোর কোলে এসে সন্তানের মেটে না পিয়াসা। কেন চায়, কেন কাঁদে সবে, কেন কেঁদে পায় না ভালোবাসা। কেন হেথা পাষাণ-পরান, কেন সবে নীরস নিষ্ঠুর, কেঁদে কেঁদে দুয়ারে যে আসে কেন তারে করে দেয় দূর। কাঁদিয়া যে ফিরে চলে যায় তার তরে কাঁদিস নে কেহ, এই কি মা, জননীর প্রাণ, এই কি মা, জননীর স্নেহ!