৮৩ (birohi gogon ghoronir kachhe)

       বিরহী গগন ধরণীর কাছে

       পাঠালো লিপিকা। দিকের প্রান্তে

       নামে তাই মেঘ বহিয়া সজল

       বেদনা, বহিয়া তড়িৎচকিত

       ব্যাকুল আকুতি। উৎসুক ধরা

       ধৈর্য হারায়, পারে না লুকাতে

       বুকের কাঁপন পল্লবদলে।

       বকুলকুঞ্জে রচে সে প্রাণের

       মুগ্ধ প্রলাপ-- উল্লাস ভাসে

       চামেলিগন্ধে পূর্বগগনে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হিন্দুস্থান
Verses
      মোরে হিন্দুস্থান
           বারবার করেছে আহ্বান
     কোন্‌ শিশুকাল হতে পশ্চিমদিগন্ত-পানে
ভারতের ভাগ্য যেথা নৃত্যলীলা করেছে শ্মশানে,
                   কালে কালে
              তাণ্ডবের তালে তালে,
                   দিল্লিতে আগ্রাতে
         মঞ্জীরঝংকার আর দূর শকুনির ধ্বনি-সাথে;
                   কালের মন্থনদণ্ডঘাতে
              উচ্ছলি উঠেছে যেথা পাথরের ফেনস্তূপে
         অদৃষ্টের অট্টহাস্য অভ্রভেদী প্রাসাদের রূপে।
         লক্ষ্মী-অলক্ষ্মীর দুই বিপরীত পথে
                   রথে প্রতিরথে
     ধূলিতে ধূলিতে যেথা পাকে পাকে করেছে রচনা
        জটিল রেখার জালে শুভ-অশুভের আল্‌পনা।
         নব নব ধ্বজা হাতে নব নব সৈনিকবাহিনী
     এক কাহিনীর সূত্র ছিন্ন করি আরেক কাহিনী
         বারংবার গ্রন্থি দিয়ে করেছে যোজন।
     প্রাঙ্গণপ্রাচীর যার অকস্মাৎ করেছে লঙ্ঘন
                   দস্যুদল,
        অর্ধরাত্রে দ্বার ভেঙে জাগিয়েছে আর্ত কোলাহল,
                   করেছে আসন-কাড়াকাড়ি,
         ক্ষুধিতের অন্নথালি নিয়েছে উজাড়ি।
     রাত্রিরে ভুলিল তারা ঐশ্বর্যের মশাল-আলোয়--
         পীড়িত পীড়নকারী দোঁহে মিলি সাদায় কালোয়
                   যেখানে রচিয়াছিল দ্যূতখেলাঘর,
     অবশেষে সেথা আজ একমাত্র বিরাট কবর
                   প্রান্ত হতে প্রান্তে প্রসারিত;
         সেথা জয়ী আর পরাজিত
                   একত্রে করেছে অবসান
              বহু শতাব্দীর যত মান অসম্মান।
     ভগ্নজানু প্রতাপের ছায়া সেথা শীর্ণ যমুনায়
                   প্রেতের আহ্বান বহি চলে যায়,
                            বলে যায়--
         আরো ছায়া ঘনাইছে অস্তদিগন্তের
                             জীর্ণ যুগান্তের।
আরো দেখুন
সমব্যথী
Verses
যদি      খোকা না হয়ে
আমি    হতেম কুকুর-ছানা --
তবে    পাছে তোমার পাতে
আমি    মুখ দিতে যাই ভাতে
তুমি    করতে আমায় মানা?
          সত্যি করে বল্‌
আমায়  করিস নে মা, ছল --
         বলতে আমায় "দূর দূর দূর।
         কোথা থেকে এল এই কুকুর'?
         যা মা, তবে যা মা,
আমায় কোলের থেকে নামা।
আমি   খাব না তোর হাতে,
আমি   খাব না তোর পাতে।
              
যদি      খোকা না হয়ে
আমি    হতেম তোমার টিয়ে,
তবে    পাছে যাই মা, উড়ে
আমায়  রাখতে শিকল দিয়ে?
          সত্যি করে বল্‌
আমায়  করিস নে মা, ছল--
          বলতে আমায় "হতভাগা পাখি
          শিকল কেটে দিতে চায় রে ফাঁকি'?
          তবে নামিয়ে দে মা,
আমায়  ভালোবাসিস নে মা।
আমি    রব না তোর কোলে,
আমি    বনেই যাব চলে।
আরো দেখুন
প্রত্যাখ্যান
Verses
অমন দীননয়নে তুমি
      চেয়ো না।
অমন সুধা করুণ সুরে
      গেয়ো না।
সকালবেলা সকল কাজে
আসিতে যেতে পথের মাঝে
আমারি এই আঙিনা দিয়ে
      যেয়ো না।
অমন দীননয়নে তুমি
      চেয়ো না।
মনের কথা রেখেছি মনে
      যতনে,
ফিরিছ মিছে মাগিয়া সেই
      রতনে।
তুচ্ছ অতি, কিছু সে নয়,
দু চারি ফোঁটা অশ্রু ময়
একটি শুধু শোণিত-রাঙা
      বেদনা।
অমন দীননয়নে তুমি
      চেয়ো না।
কাহার আশে দুয়ারে কর
      হানিছ?
না জানি তুমি কী মোরে মনে
      মানিছ!
রয়েছি হেথা লুকাতে লাজ,
নাহিকো মোর রানীর সাজ,
পরিয়া আছি জীর্ণচীর
      বাসনা।
অমন দীননয়নে তুমি
      চেয়ো না।
কী ধন তুমি এনেছ ভরি
      দু হাতে।
অমন করি যেয়ো না ফেলি
      ধুলাতে।
এ ঋণ যদি শুধিতে চাই
কী আছে হেন, কোথায় পাই--
জনম-তরে বিকাতে হবে
      আপনা।
অমন দীননয়নে তুমি
      চেয়ো না।
ভেবেছি মনে, ঘরের কোণে
      রহিব।
গোপন দুখ আপন বুকে
      বহিব।
কিসের লাগি করিব আশা,
বলিতে চাহি, নাহিকো ভাষা--
রয়েছে সাধ, না জানি তার
      সাধনা।
অমন দীননয়নে তুমি
      চেয়ো না।
যে-সুর তুমি ভরেছ তব
      বাঁশিতে
উহার সাথে আমি কি পারি
          গাহিতে?
গাহিতে গেলে ভাঙিয়া গান
উছলি উঠে সকল প্রাণ,
না মানে রোধ অতি অবোধ
           রোদনা।
অমন দীননয়নে তুমি
            চেয়ো না।
এসেছ তুমি গলায় মালা
         ধরিয়া--
নবীন বেশ, শোভন ভূষা
         পরিয়া।
হেথায় কোথা কনক-থালা,
কোথায় ফুল, কোথায় মালা--
বাসরসেবা করিবে কে বা
         রচনা?
অমন দীননয়নে তুমি
         চেয়ো না।
ভুলিয়া পথ এসেছ, সখা,
         এ ঘরে।
অন্ধকারে মালা-বদল
          কে করে!
সন্ধ্যা হতে কঠিন ভুঁয়ে
একাকী আমি রয়েছি শুয়ে,
নিবায়ে দীপ জীবননিশি
         যাপনা!
অমন দীননয়নে আর
         চেয়ো না।
আরো দেখুন