৪৭ (je milone songsarer sukh dukkho)

যে মিলনে সংসারের সুখদুঃখ সহস্র ধারায়

আনন্দসমুদ্র মাঝে দ্বন্দ্ব ভুলে আপনা হারায়,

সে মিলন পূর্ণ হোক তোমাদের যুগল জীবনে

লহো এই আশীর্বাদ তব শুভদৃষ্টির লগনে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

88
Verses
এ কথা মানিব আমি, এক হতে দুই
কেমনে যে হতে পারে জানি না কিছুই।
কেমনে যে কিছু হয়, কেহ হয় কেহ,
কিছু থাকে কোনোরূপে, কারে বলে দেহ,
কারে বলে আত্মা মন, বুঝিতে না পেরে
চিরকাল নিরখিব বিশ্বজগতেরে
নিস্তব্ধ নির্বাক্‌ চিত্তে।
বাহিরে যাহার
কিছুতে নারিব যেতে আদি অন্ত তার,
অর্থ তার, তত্ত্ব তার, বুঝিব কেমনে
নিমেষের তরে? এই শুধু জানি মনে
সুন্দর সে, মহান সে, মহাভয়ংকর,
বিচিত্র সে, অজ্ঞেয় সে, মম মনোহর।
ইহা জানি, কিছুই না জানিয়া অজ্ঞাতে
নিখিলের চিত্তস্রোত ধাইছে তোমাতে।
আরো দেখুন
ভিতরে ও বাহিরে
Verses
খোকা থাকে জগৎ-মায়ের
     অন্তঃপুরে --
তাই সে শোনে কত যে গান
     কতই সুরে।
নানান রঙে রাঙিয়ে দিয়ে
     আকাশ পাতাল
মা রচেছেন খোকার খেলা-
     ঘরের চাতাল।
তিনি হাসেন, যখন তরু -
     লতার দলে
খোকার কাছে পাতা নেড়ে
     প্রলাপ বলে।
সকল নিয়ম উড়িয়ে দিয়ে
     সূর্য শশী
খোকার সাথে হাসে, যেন
     এক-বয়সী।
সত্যবুড়ো নানা রঙের
     মুখোশ প'রে
শিশুর সনে শিশুর মতো
     গল্প করে।
চরাচরের সকল কর্ম
     ক'রে হেলা
মা যে আসেন খোকার সঙ্গে
     করতে খেলা।
খোকার জন্যে করেন সৃষ্টি
     যা ইচ্ছে তাই --
কোনো নিয়ম কোনো বাধা-
     বিপত্তি নাই।
বোবাদেরও কথা বলান
     খোকার কানে,
অসাড়কেও জাগিয়ে তোলেন
     চেতন প্রাণে।
খোকার তরে গল্প রচে
     বর্ষা শরৎ ,
খেলার গৃহ হয়ে ওঠে
     বিশ্বজগৎ।
খোকা তারি মাঝখানেতে
     বেড়ায় ঘুরে,
খোকা থাকে জগৎ-মায়ের
     অন্তঃপুরে।
আমরা থাকি জগৎ-পিতার
     বিদ্যালয়ে --
উঠেছে ঘর পাথর-গাঁথা
     দেয়াল লয়ে।
জ্যোতিষশাস্ত্র-মতে চলে
     সূর্য শশী,
নিয়ম থাকে বাগিয়ে ল'য়ে
    রশারশি।
এম্‌নি ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে
     বৃক্ষ লতা,
যেন তারা বোঝেই নাকো
     কোনোই কথা।
চাঁপার ডালে চাঁপা ফোটে
     এম্‌নি ভানে
যেন তারা সাত ভায়েরে
     কেউ না জানে।
মেঘেরা চায় এম্‌নিতরো
     অবোধ ভাবে,
যেন তারা জানেই নাকো
     কোথায় যাবে।
ভাঙা পুতুল গড়ায় ভুঁয়ে
     সকল বেলা,
যেন তারা কেবল শুধু
     মাটির ঢেলা।
দিঘি থাকে নীরব হয়ে
     দিবারাত্র,
নাগকন্যের কথা যেন
     গল্পমাত্র।
সুখদুঃখ এম্‌নি বুকে
     চেপে রহে,
যেন তারা কিছুমাত্র
     গল্প নহে।
যেমন আছে তেম্‌নি থাকে
     যে যাহা তাই--
আর যে কিছু হবে এমন
     ক্ষমতা নাই।
বিশ্বগুরু-মশায় থাকেন
     কঠিন হয়ে,
আমরা থাকি জগৎ-পিতার
     বিদ্যালয়ে।
আরো দেখুন
পরিচয়
Verses
তখন বর্ষণহীন অপরাহ্নমেঘে
            শঙ্কা ছিল জেগে;
       ক্ষণে ক্ষণে তীক্ষ্ন ভর্ৎসনায়
                 বায়ু হেঁকে যায়;
শূন্য যেন মেঘচ্ছিন্ন রৌদ্ররাগে পিঙ্গল জটায়
       দুর্বাসা হানিছে ক্রোধ রক্তচক্ষু কটাক্ষচ্ছটায়।
সে দুর্যোগ এনেছিনু তোমার বৈকালী,
                 কদম্বের ডালি।
            বাদলের বিষণ্ণ ছায়াতে
                        গীতহারা প্রাতে
নৈরাশ্যজয়ী সে ফুল রেখেছিল কাজল প্রহরে
রৌদ্রের স্বপনছবি রোমাঞ্চিত কেশরে কেশরে।
মন্থর মেঘেরে যবে দিগন্তে ধাওয়ায়
          পুবন হাওয়ায়,
     কাঁদে বন শ্রাবণের রাতে
          প্লাবনের ঘাতে,
তখনো নির্ভীক নীপ গন্ধ দিল পাখির কুলায়ে,
বৃন্ত ছিল ক্লান্তিহীন, তখনো সে পড়ে নি ধুলায়।
     সেই ফুলে দূঢ় প্রত্যাশার
          দিনু উপহার।
সজল সন্ধ্যায় তুমি এনেছিলে সখী,
     একটি কেতকী।
          তখনো হয় নি দীপ জ্বালা,
              ছিলাম নিরালা।
সারি-দেওয়া সুপারির আন্দোলিত সঘন সবুজে
জোনাকি ফিরিতেছিল অবিশ্রান্ত কারে খুঁজে খুঁজে।
দাঁড়াইলে দুয়ারের বাহিরে আসিয়া,
          গোপনে হাসিয়া।
     শুধালেম আমি কৌতূহলী
          "কী এনেছ' বলি।
পাতায় পাতায় বাজে ক্ষণে ক্ষণে বারিবিন্দুপাত,
গন্ধঘন প্রদোষের অন্ধকারে বাড়াইনু হাত।
ঝংকারি উঠিল মোর অঙ্গ আচম্বিতে
          কাঁটার সংগীতে।
     চমকিনু কী তীব্র হরষে
              পরুষ পরশে।
সহজ-সাধন-লব্ধ নহে সে মুগ্ধের নিবেদন,
অন্তরে ঐশ্বর্যরাশি, আচ্ছাদনে কঠোর বেদন।
     নিষেধে নিরুদ্ধ যে সম্মান
          তাই তব দান।
আরো দেখুন