১০৯ (tomare heriya chokhe)

তোমারে হেরিয়া চোখে,

মনে পড়ে শুধু এই মুখখানি

দেখেছি স্বপ্নলোকে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নূতন
Verses
হেথাও তো পশে সূর্যকর।
ঘোর ঝটিকার রাতে              দারুণ অশনিপাতে
          বিদীরিল যে গিরিশিখর--
বিশাল পর্বত কেটে,               পাষাণ-হৃদয় ফেটে,
          প্রকাশিল যে ঘোর গহ্বর--
প্রভাতে পুলকে ভাসি,   বহিয়া নবীন হাসি,
          হেথাও তো পশে সূর্যকর!
দুয়ারেতে উঁকি মেরে              ফিরে তো যায় না সে রে,
          শিহরি উঠে না আশঙ্কায়,
ভাঙা পাষাণের বুকে               খেলা করে কোন্‌ সুখে,
          হেসে আসে, হেসে চলে যায়।
হেরো হেরো, হায় হায়,             যত প্রতিদিন যায়--    
কে গাঁথিয়া দেয় তৃণজাল।
লতাগুলি লতাইয়া,                বাহুগুলি বিথাইয়া
          ঢেকে ফেলে বিদীর্ণ কঙ্কাল।
বজ্রদগ্ধ অতীতের,                 নিরাশার অতিথের
          ঘোর স্তব্ধ সমাধি-আবাস,
ফুল এসে, পাতা এসে            কেড়ে নেয় হেসে হেসে,
          অন্ধকারে করে পরিহাস।
এরা সব কোথা ছিল,             কেই বা সংবাদ দিল,
          গৃহহারা আনন্দের দল--
বিশ্বে তিল শূন্য হলে,             অনাহূত আসে চলে,
          বাসা বাঁধে করি কোলাহল।
আনে হাসি, আনে গান,           আনে রে নূতন প্রাণ,
          সঙ্গে করে আনে রবিকর--
অশোক শিশুর প্রায়                এত হাসে এত গায়
          কাঁদিতে দেয় না অবসর।
বিষাদ বিশালকায়া                ফেলেছে আঁধার ছায়া
          তারে এরা করে না তো ভয়--
চারি দিক হতে তারে              ছোটো ছোটো হাসি মারে,
          অবশেষে করে পরাজয়।
এই যে রে মরুস্থল,              দাবদগ্ধ ধরাতল,
          এইখানে ছিল "পুরাতন'--
একদিন ছিল তার                 শ্যামল যৌবনভার,
          ছিল তার দক্ষিণ-পবন।
যদি রে সে চলে গেল,            সঙ্গে যদি নিয়ে গেল
          গীত গান হাসি ফুল ফল,
শুষ্ক স্মৃতি কেন মিছে             রেখে তবে গেল পিছে,
          শুষ্ক শাখা শুষ্ক ফুলদল।
সে কি চায় শুষ্ক বনে              গাহিবে বিহঙ্গগণে
          আগে তারা গাহিত যেমন?
আগেকার মতো করে             স্নেহে তার নাম ধরে
          উচ্ছ্বসিবে বসন্তপবন?
নহে নহে, সে কি হয়!            সংসার জীবনময়
          নাহি হেথা মরণের স্থান।
আয় রে, নূতন, আয়,             সঙ্গে করে নিয়ে আয়,
          তোর সুখ, তোর হাসি গান।
ফোটা নব ফুলচয়,                 ওঠা নব কিশলয়,
          নবীন বসন্ত আয় নিয়ে।
যে যায় সে চলে যাক,            সব তার নিয়ে যাক,
          নাম তার যাক মুছে দিয়ে।
এ কি ঢেউ-খেলা হায়,  এক আসে, আর যায়,
          কাঁদিতে কাঁদিতে আসে হাসি,
বিলাপের শেষ তান               না হইতে অবসান
          কোথা হতে বেজে ওঠে বাঁশি।
আয় রে কাঁদিয়া লই               শুকাবে দু-দিন বই
          এ পবিত্র অশ্রুবারিধারা।
সংসারে ফিরিব ভুলি,             ছোটো ছোটো সুখগুলি
          রচি দিবে আনন্দের কারা।
না রে, করিব না শোক,           এসেছে নূতন লোক,
তারে কে করিবে অবহেলা।
সেও চলে যাবে কবে              গীত গান সাঙ্গ হবে,
          ফুরাইবে দুদিনের খেলা।
আরো দেখুন
জড়িয়ে গেছে সরু মোটা
Verses
       জড়িয়ে গেছে সরু মোটা
                           দুটো তারে
       জীবনবীণা ঠিক সুরে তাই
                           বাজে না রে।
            এই বেসুরো জটিলতায়
            পরান আমার মরে ব্যথায়,
            হঠাৎ আমার গান থেমে যায়
                           বারে বারে।
            জীবনবীণা ঠিক সুরে আর
                           বাজে না রে।
                           এই বেদনা বইতে আমি
                                                পারি না যে,
                           তোমার সভার পথে এসে
                                                মরি লাজে।
                                তোমার যারা গুণী আছে
                                বসতে নারি তাদের কাছে,
                                দাঁড়িয়ে থাকি সবার পাছে
                                                বাহির-দ্বারে।
                                জীবনবীণা ঠিক সুরে আর
                                                বাজে না রে।
আরো দেখুন
মধ্যাহ্ন
Verses
বেলা দ্বিপ্রহর।
ক্ষুদ্র শীর্ণ নদীখানি শৈবালে জর্জর
স্থির স্রোতোহীন। অর্ধমগ্ন তরী-'পরে
মাছরাঙা বসি, তীরে দুটি গোরু চরে
শষ্যহীন মাঠে। শান্তনেত্রে মুখ তুলে
মহিষ রয়েছে জলে ডুবি। নদীকূলে
জনহীন নৌকা বাঁধা। শূন্য ঘাটতলে
রৌদ্রতপ্ত দাঁড়কাক স্নান করে জলে
পাখা ঝটপটি। শ্যামশষ্পতটে তীরে
খঞ্জন দুলায়ে পুচ্ছ নৃত্য করি ফিরে।
চিত্রবর্ণ পতঙ্গম স্বচ্ছ পক্ষভরে
আকাশে ভাসিয়া উড়ে, শৈবালের 'পরে
ক্ষণে ক্ষণে লভিয়া বিশ্রাম। রাজহাঁস
অদূরে গ্রামের ঘাটে তুলি কলভাষ
শুভ্র পক্ষ ধৌত করে সিক্ত চঞ্চুপুটে।
শুষ্কতৃণগন্ধ বহি ধেয়ে আসে ছুটে
তপ্ত সমীরণ--চলে যায় বহু দূর।
থেকে থেকে ডেকে ওঠে গ্রামের কুকুর
কলহে মাতিয়া। কভু শান্ত হাম্বাস্বর,
কভু শালিখের ডাক, কখনো মর্মর
জীর্ণ অশথের, কভু দূর শূন্য-'পরে
চিলের সুতীব্র ধ্বনি, কভু বায়ুভরে
আর্ত শব্দ বাঁধা তরণীর--মধ্যাহ্নের
অব্যক্ত করুণ একতান, অরণ্যের
স্নিগ্ধচ্ছায়া, গ্রামের সুষুপ্ত শান্তিরাশি,
মাঝখানে বসে আছি আমি পরবাসী।
প্রবাসবিরহদুঃখ মনে নাহি বাজে;
আমি মিলে গেছি যেন সকলের মাঝে;
ফিরিয়া এসেছি যেন আদি জন্মস্থলে
বহুকাল পরে--ধরণীর বক্ষতলে
পশু পাখি পতঙ্গম সকলের সাথে
ফিরে গেছি যেন কোন্‌ নবীন প্রভাতে
পূর্বজন্মে, জীবনের প্রথম উল্লাসে
আঁকড়িয়া ছিনু যবে আকাশে বাতাসে
জলে স্থলে, মাতৃস্তনে শিশুর মতন--
আদিম আনন্দরস করিয়া শোষণ।
আরো দেখুন