২৪৯ (stobdhota uchchhosi uthe girishringe)

স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে গিরিশৃঙ্গরূপে,

     ঊর্ধ্বে খোঁজে আপন মহিমা।

গতিবেগ সরোবরে থেমে চায় চুপে

     গভীরে খুঁজিতে নিজ সীমা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

10
Verses
অলস সময়-ধারা বেয়ে
মন চলে শূন্য-পানে চেয়ে।
সে মহাশূন্যের পথে ছায়া-আঁকা ছবি পড়ে চোখে।
কত কাল দলে দলে গেছে কত লোকে
সুদীর্ঘ অতীতে
জয়োদ্ধত প্রবল গতিতে।
এসেছে সাম্রাজ্যলোভী পাঠানের দল,
এসেছে মোগল;
বিজয়রথের চাকা
উড়ায়েছে ধূলিজাল,উড়িয়াছে বিজয়পতাকা।
শূন্যপথে চাই,
আজ তার কোনো চিহ্ন নাই।
নির্মল সে নীলিমায় প্রভাতে ও সন্ধ্যায় রাঙালো
যুগে যুগে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের আলো।
আরবার সেই শূন্যতলে
আসিয়াছে দলে দলে
লৌহবাঁধা পথে
অনলনিশ্বাসী রথে
প্রবল ইংরেজ,
বিকীর্ণ করেছে তার তেজ।
জানি তারো পথ দিয়ে বয়ে যাবে কাল,
কোথায় ভাসায়ে দেবে সাম্রাজ্যের দেশবেড়া জাল;
জানি তার পণ্যবাহী সেনা
জ্যোতিষ্কলোকের পথে রেখামাত্র চিহ্ন রাখিবে না।
মাটির পৃথিবী-পানে আঁখি মেলি যবে
দেখি সেথা কলকলরবে
বিপুল জনতা চলে
নানা পথে নানা দলে দলে
যুগ যুগান্তর হতে মানুষের নিত্য প্রয়োজনে
জীবনে মরণে।
ওরা চিরকাল
টানে দাঁড়, ধরে থাকে হাল,
ওরা মাঠে মাঠে
বীজ বোনে, পাকা ধান কাটে।
ওরা কাজ করে
নগরে প্রান্তরে।
রাজছত্র ভেঙে পড়ে,রণডঙ্কা শব্দ নাহি তোলে,
জয়স্তম্ভ মূঢ়সম অর্থ তার ভোলে,
রক্তমাখা অস্ত্র হাতে যত রক্ত-আঁখি
শিশুপাঠ্য কাহিনীতে থাকে মুখ ঢাকি।
ওরা কাজ করে
দেশে দেশান্তরে,
অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের সমুদ্র-নদীর ঘাটে ঘাটে,
পঞ্জাবে বোম্বাই-গুজরাটে।
গুরুগুরু গর্জন গুন্‌গুন্‌ স্বর
দিনরাত্রে গাঁথা পড়ি দিনযাত্রা করিছে মুখর।
দুঃখ সুখ দিবসরজনী
মন্দ্রিত করিয়া তোলে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনি।
শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ-'পরে
ওরা কাজ করে।
আরো দেখুন
কোপাই
Verses
পদ্মা কোথায় চলেছে দূর আকাশের তলায়,
        মনে মনে দেখি তাকে।
এক পারে বালুর চর,
        নির্ভীক কেননা নিঃস্ব, নিরাসক্ত--
অন্য পারে বাঁশবন, আমবন,
        পুরোনো বট, পোড়ো ভিটে,
    অনেক দিনের গুঁড়ি-মোটা কাঁঠালগাছ--
        পুকুরের ধারে সর্ষেখেত,
           পথের ধারে বেতের জঙ্গল,
দেড়শো বছর আগেকার নীলকুঠির ভাঙা ভিত,
    তার বাগানে দীর্ঘ ঝাউগাছে দিনরাত মর্মরধ্বনি।
ওইখানে রাজবংশীদের পাড়া,
    ফাটল-ধরা খেতে ওদের ছাগল চরে,
        হাটের কাছে টিনের-ছাদ-ওয়ালা গঞ্জ--
           সমস্ত গ্রাম নির্মম নদীর ভয়ে কম্পান্বিত।
               পুরাণে প্রসিদ্ধ এই নদীর নাম,
                   মন্দাকিনীর প্রবাহ ওর নাড়ীতে।
    ও স্বতন্ত্র। লোকালয়ের পাশ দিয়ে চলে যায়--
               তাদের সহ্য করে, স্বীকার করে না।
        বিশুদ্ধ তার আভিজাতিক ছন্দে
এক দিকে নির্জন পর্বতের স্মৃতি, আর-এক দিকে নিঃসঙ্গ সমুদ্রের আহ্বান।
    একদিন ছিলেম ওরই চরের ঘাটে,
      নিভৃতে, সবার হতে বহুদূরে।
           ভোরের শুকতারাকে দেখে জেগেছি,
        ঘুমিয়েছি রাতে সপ্তর্ষির দৃষ্টির সম্মুখে
               নৌকার ছাদের উপর।
    আমার একলা দিন-রাতের নানা ভাবনার ধারে ধারে
        চলে গেছে ওর উদাসীন ধারা--
    পথিক যেমন চলে যায়
           গৃহস্থের সুখদুঃখের পাশ দিয়ে, অথচ দূর দিয়ে।
তার পরে যৌবনের শেষে এসেছি
        তরুবিরল এই মাঠের প্রান্তে।
ছায়াবৃত সাঁওতাল-পাড়ার পুঞ্জিত সবুজ দেখা যায় অদূরে।
    এখানে আমার প্রতিবেশিনী কোপাই-নদী।
        প্রাচীন গোত্রের গরিমা নেই তার।
অনার্য তার নামখানি
        কত কালের সাঁওতাল নারীর হাস্যমুখর
           কলভাষার সঙ্গে জড়িত।
               গ্রামের সঙ্গে তার গলাগলি,
           স্থলের সঙ্গে জলের নেই বিরোধ।
        তার এ পারের সঙ্গে ও পারের কথা চলে সহজে।
    শণের খেতে ফুল ধরেছে একেবারে তার গায়ে গায়ে,
           জেগে উঠেছে কচি কচি ধানের চারা।
রাস্তা যেখানে থেমেছে তীরে এসে
        সেখানে ও পথিককে দেয় পথ ছেড়ে
           কলকল স্ফটিকস্বচ্ছ স্রোতের উপর দিয়ে।
অদূরে তালগাছ উঠেছে মাঠের মধ্যে,
               তীরে আম জাম আমলকীর ঘেঁষাঘেঁষি।
ওর ভাষা গৃহস্থপাড়ার ভাষা--
           তাকে সাধুভাষা বলে না।
        জল স্থল বাঁধা পড়েছে ওর ছন্দে,
    রেষারেষি নেই তরলে শ্যামলে।
        ছিপ্‌ছিপে ওর দেহটি
           বেঁকে বেঁকে চলে ছায়ায় আলোয়
               হাততালি দিয়ে সহজ নাচে।
    বর্ষায় ওর অঙ্গে অঙ্গে লাগে মাত্‌লামি
           মহুয়া-মাতাল গাঁয়ের মেয়ের মতো--
               ভাঙে না, ডোবায় না,
        ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আবর্তের ঘাঘরা
           দুই তীরকে ঠেলা দিয়ে দিয়ে
               উচ্চ হেসে ধেয়ে চলে।
শরতের শেষে স্বচ্ছ হয়ে আসে জল,
           ক্ষীণ হয় তার ধারা,
        তলার বালি চোখে পড়ে,
    তখন শীর্ণ সমারোহের পাণ্ডুরতা
           তাকে তো লজ্জা দিতে পারে না।
তার ধন নয় উদ্ধত, তার দৈন্য নয় মলিন;
               এ দুইয়েই তার শোভা--
যেমন নটী যখন অলংকারের ঝংকার দিয়ে নাচে,
    আর যখন সে নীরবে বসে থাকে ক্লান্ত হয়ে,
        চোখের চাহনিতে আলস্য,
    একটুখানি হাসির আভাস ঠোঁটের কোণে।
কোপাই আজ কবির ছন্দকে আপন সাথি করে নিলে,
    সেই ছন্দের আপস হয়ে গেল ভাষার স্থলে জলে,
        যেখানে ভাষার গান আর যেখানে ভাষার গৃহস্থালি।
তার ভাঙা তালে হেঁটে চলে যাবে ধনুক হাতে সাঁওতাল ছেলে;
           পার হয়ে যাবে গোরুর গাড়ি
               আঁটি আঁটি খড় বোঝাই করে;
        হাটে যাবে কুমোর
           বাঁকে করে হাঁড়ি নিয়ে;
    পিছন পিছন যাবে গাঁয়ের কুকুরটা;
           আর, মাসিক তিন টাকা মাইনের গুরু
                   ছেঁড়া ছাতি মাথায়।
আরো দেখুন
63
Verses
THOU HAST made me known to friends whom I knew not. Thou hast given me seats in homes not my own. Thou hast brought the distant near and made a brother of the stranger.
I am uneasy at heart when I have to leave my accustomed shelter; I forget that there abides the old in the new, and that there also thou abidest.
Through birth and death, in this world or in others, wherever thou leadest me it is thou, the same, the one companion of my endless life who ever linkest my heart with bonds of joy to the unfamiliar.
When one knows thee, then alien there is none, then no door is shut. Oh, grant me my prayer that I may never lose the bliss of the touch of the one in the play of the many.
আরো দেখুন