১৪২ (premer adim jyoti akashe sonchore)

প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে

           শুভ্রতম তেজে,

পৃথিবীতে নামে সেই নানা রূপে রূপে

           নানা বর্ণে সেজে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ভাঙা-মন্দির
Verses
                   ১
পুণ্যলোভীর নাই হল ভিড়
            শূন্য তোমার অঙ্গনে,
            জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়।
অর্ঘ্যের আলো নাই বা সাজালো
            পুষ্পে প্রদীপে চন্দনে
            যাত্রীরা তব বিস্মৃতপরিচয়।
      সম্মুখপানে দেখো দেখি চেয়ে,
      ফাল্গুনে তব প্রাঙ্গণ ছেয়ে
      বনফুলদল ওই এল ধেয়ে
                     উল্লাসে চারি ধারে।
      দক্ষিণ বায়ে কোন্‌ আহ্বান
      শূন্যে জাগায় বন্দনাগান,
      কী খেয়াতরীর পায় সন্ধান
            আসে পৃথ্বী পারে?
গন্ধের থালি বর্ণের ডালি
            আনে নির্জন অঙ্গনে,
            জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়,
      বকুল শিমূল আকন্দ ফুল
                     কাঞ্চন জবা রঙ্গনে
                     পূজাতরঙ্গ দুলে অম্বরময়।
                   ২
প্রতিমা নাহয় হয়েছে চূর্ণ,
               বেদীতে নাহয় শূন্যতা,
               জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়,
নাহয় ধুলায় হল লুণ্ঠিত
               আছিল যে চূড়া উন্নত,
               সজ্জা না থাকে কিসের লজ্জা ভয়?
      বাহিরে তোমার ওই দেখো ছবি,
      ভগ্নভিত্তিলগ্ন মাধবী,
      নীলাম্বরের প্রাঙ্গণে রবি
               হেরিয়া হাসিছে স্নেহে।
      বাতাসে পুলকি আলোকে আকুলি
      আন্দোলি উঠে মঞ্জরীগুলি,
      নবীন প্রাণের হিল্লোল তুলি
                     প্রাচীন তোমার গেহে।
সুন্দর এসে ওই হেসে হেসে
               ভরি দিল তব শূন্যতা,
               জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়।
ভিত্তিরন্ধ্রে বাজে আনন্দে
               ঢাকি দিয়া তব ক্ষুণ্নতা
               রূপের শঙ্খে অসংখ্য "জয় জয়'।
                     ৩
সেবার প্রহরে নাই আসিল রে
               যত সন্ন্যাসী-সজ্জনে,
               জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়।
নাই মুখরিল পার্বণ-ক্ষণ
               ঘন জনতার গর্জনে,
               অতিথি-ভোগের না রহিল সঞ্চয়।
    পূজার মঞ্চে বিহঙ্গদল
      কুলায় বাঁধিয়া করে কোলাহল,
      তাই তো হেথায় জীববৎসল
                     আসিছেন ফিরে ফিরে।
      নিত্য সেবার পেয়ে আয়োজন
      তৃপ্ত পরানে করিছে কূজন,
      উৎসবরসে সেই তো পূজন
                     জীবন-উৎসতীরে।
নাইকো দেবতা ভেবে সেই কথা
               গেল সন্ন্যাসী-সজ্জনে,
               জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়।
সেই অবকাশে দেবতা যে আসে--
                     প্রসাদ-অমৃত-মজ্জনে
                     স্খলিত ভিত্তি হল যে পুণ্যময়।
আরো দেখুন
মালা হতে খসে-পড়া
Verses
মালা হতে খসে-পড়া ফুলের একটি দল
মাথায় আমার ধরতে দাও গো ধরতে দাও।
ওই মাধুরী-সরোবরের নাই যে কোথাও তল--
হোথায় আমায় ডুবতে দাও গো মরতে দাও।
দাও গো মুছে আমার ভালে অপমানের লিখা,
নিভৃতে আজ বন্ধু, তোমার আপন হাতের টিকা
ললাটে মোর পরতে দাও গো পরতে দাও।
বহুক তোমার ঝড়ের হাওয়া আমার ফুলবনে,
শুকনো পাতা মলিন কুসুম ঝরতে দাও।
পথ জুড়ে যা পড়ে আছে আমার এ জীবনে
দাও গো তাদের সরতে দাও গো সরতে দাও।
তোমার মহাভাণ্ডারেতে আছে অনেক ধন,
কুড়িয়ে বেড়াই মুঠা ভ'রে, ভরে না তায় মন--
অন্তরেতে জীবন আমার ভরতে দাও।
আরো দেখুন
ইছামতী নদী
Verses
অয়ি তন্বী ইছামতী, তব তীরে তীরে
শান্তি চিরকাল থাক কুটিরে কুটিরে--
শস্যে পূর্ণ হোক ক্ষেত্র তব তটদেশে।
বর্ষে বর্ষে বরষায় আনন্দিত বেশে
ঘনঘোরঘটা-সাথে বজ্রবাদ্যরবে
পূর্ববায়ুকল্লোলিত তরঙ্গ-উৎসবে
তুলিয়া আনন্দধ্বনি দক্ষিণে ও বামে
আশ্রিত পালিত তব দুই-তট-গ্রামে
সমারোহে চলে এসো শৈলগৃহ হতে
সৌভাগ্যে শোভায় গর্বে উল্লসিত স্রোতে।
যখন রব না আমি, রবে না এ গান,
তখনো ধরার বক্ষে সঞ্চরিয়া প্রাণ,
তোমার আনন্দগাথা এ বঙ্গে, পার্বতী,
বর্ষে বর্ষে বাজিবেক অয়ি ইছামতী!
আরো দেখুন