৬৭ (gata dibaser byarthyo praner)

গত দিবসের ব্যর্থ প্রাণের

      যত ধুলা,যত কালি,

প্রতি উষা দেয় নবীন আশার

      আলো দিয়ে প্রক্ষালি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নিদ্রিতা
Verses
রাজার ছেলে ফিরেছি দেশে দেশে
সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার।
যেখানে যত মধুর মুখ আছে
বাকি তো কিছু রাখি নি দেখিবার।
কেহ বা ডেকে কয়েছে দুটো কথা,
কেহ বা চেয়ে করেছে আঁখি নত,
কাহারো হাসি ছুরির মতো কাটে
কাহারো হাসি আঁখিজলেরই মতো।
গরবে কেহ গিয়েছে নিজ ঘর,
কাঁদিয়া কেহ চেয়েছে ফিরে ফিরে।
কেহ বা কারে কহে নি কোনো কথা,
কেহ বা গান গেয়েছে ধীরে ধীরে।
এমনি করে ফিরেছি দেশে দেশে।
অনেক দূরে তেপান্তর-শেষে
ঘুমের দেশে ঘুমায় রাজবালা,
তাহারি গলে এসেছি দিয়ে মালা।
    একদা রাতে নবীন যৌবনে
স্বপ্ন হতে উঠিনু চমকিয়া,
   বাহিরে এসে দাঁড়ানু একবার
ধরার পানে দেখিনু নিরখিয়া।
   শীর্ণ হয়ে এসেছে শুকতারা,
পূর্বতটে হতেছে নিশি ভোর।
   আকাশ-কোণে বিকাশে জাগরণ,
ধরণীতলে ভাঙে নি ঘুমঘোর।
   সমুখে পড়ে দীর্ঘ রাজপথ,
দু-ধারে তারি দাঁড়ায়ে তরুসার,
   নয়ন মেলি সুদূর-পানে চেয়ে
আপন মনে ভাবিনু একবার--
   আমারি মতো আজি এ নিশিশেষে
   ধরার মাঝে নূতন কোন্‌ দেশে,
দুগ্ধফেনশয়ন করি আলা
স্বপ্ন দেখে ঘুমায়ে রাজবালা।
   অশ্ব চড়ি তখনি বাহিরিনু,
কত যে দেশ-বিদেশ হনু পার।
একদা এক ধূসর সন্ধ্যায়
ঘুমের দেশে লভিনু পুরদ্বার।
   সবাই সেথা অচল অচেতন,
কোথাও জেগে নাইকো জনপ্রাণী,
   নদীর তীরে জলের কলতানে
ঘুমায়ে আছে বিপুল পুরীখানি।
   ফেলিতে পদ সাহস নাহি মানি,
নিমেষে পাছে সকল দেশ জাগে।
   প্রাসাদমাঝে পশিনু সাবধানে,
শঙ্কা মোর চলিল আগে আগে।
   ঘুমায় রাজা, ঘুমায় রানীমাতা,
   কুমার-সাথে ঘুমায় রাজভ্রাতা;
একটি ঘরে রত্নদীপ জ্বালা,
ঘুমায়ে সেথা রয়েছে রাজবালা।
   কমলফুলবিমল শেজখানি,
নিলীন তাহে কোমল তনুলতা।
   মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে,
বাজিল বুকে সুখের মতো ব্যথা।
   মেঘের মতো গুচ্ছ কেশরাশি
শিথান ঢাকি পড়েছে ভারে ভারে;
   একটি বাহু বক্ষ-'পরে পড়ি,
একটি বাহু লুটায় এক ধারে।
   আঁচলখানি পড়েছে খসি পাশে,
কাঁচলখানি পড়িবে বুঝি টুটি;
   পত্রপুটে রয়েছে যেন ঢাকা
অনাঘ্রাত পূজার ফুল দুটি।
   দেখিনু তারে, উপমা নাহি জানি--
   ঘুমের দেশে স্বপন একখানি,
পালঙ্কেতে মগন রাজবালা
আপন ভরা-লাবণ্যে নিরালা।
   ব্যাকুল বুকে চাপিনু দুই বাহু,
না মানে বাধা হৃদয়কম্পন।
   ভূতলে বসি আনত করি শির
মুদিত আঁখি করিনু চুম্বন।
   পাতার ফাঁকে আঁখির তারা দুটি,
তাহারি পানে চাহিনু একমনে,
   দ্বারের ফাঁকে দেখিতে চাহি যেন
কী আছে কোথা নিভৃত নিকেতনে।
   ভূর্জপাতে কাজলমসী দিয়া
লিখিয়া দিনু আপন নামধাম।
   লিখিনু, "অয়ি নিদ্রানিমগনা,
আমার প্রাণ তোমারে সঁপিলাম।"
   যতন করি কনক-সুতে গাঁথি
   রতন-হারে বাঁধিয়া দিনু পাঁতি।
ঘুমের দেশে ঘুমায় রাজবালা,
তাহারি গলে পরায়ে দিনু মালা।
আরো দেখুন
প্রচ্ছন্না
Verses
বিদেশে ওই সৌধশিখর-'পরে
ক্ষণকালের তরে
পথ হতে যে দেখেছিলেম, ওগো আধেক-দেখা
মনে হল তুমি অসীম একা
দাঁড়িয়েছিলে যেন আমার একটি বিজন খনে
আর কিছু নাই সেথায় ত্রিভুবনে।
সামনে তোমার মুক্ত আকাশ, অরণ্যতল নীচে,
ক্ষণে ক্ষণে ঝাউয়ের শাখা প্রলাপ মর্মরিছে।
                                      মুখ দেখা না যায়,
                             পিঠের 'পরে বেণীটি লুটায়।
          থামের পাশে হেলান-দেওয়া ঈষৎ দেখি আধখানি ওই দেহ,
                             অসম্পূর্ণ কয়টি রেখায় কী যেন সন্দেহ।
                   বন্দিনী কি ভোগের কারাগারে,
          ভাবনা তোমার উড়ে চলে দূর দিগন্তপারে?
            সোনার বরন শস্যখেতে, কোন্‌-সে নদীতীরে
                   পূজারীদের চলার পথে, উচ্চচূড়া দেবতামন্দিরে
                             তোমার চিরপরিচিত প্রভাত-আলোখানি,
                   তারি স্মৃতি চক্ষে তোমার জল কি দিল আনি।
                                      কিম্বা তুমি রাজেন্দ্রসোহাগী,
                   সেই বহুবল্লভের প্রেমে দ্বিধার দুঃখ হৃদয়ে রয় জাগি,
প্রশ্ন কি তাই শুধাও নক্ষত্রেরে
সপ্তঋষির কাছে তোমার প্রণামখানি সেরে।
              হয়তো বৃথাই সাজ,
তৃপ্তিবিহীন চিত্ততলে তৃষ্ণা-অনল দহন করে আজও;
          তাই কি শূন্য আকাশ-পানে চাও,
              উপেক্ষিত যৌবনেরি ধিক্কার জানাও?
                   কিম্বা আছ চেয়ে
        আসবে সে কোন্‌ দুঃসাহসী গোপন পন্থা বেয়ে,
                   বক্ষ তোমার দোলে,
              রক্ত নাচে ত্রাসের উতরোলে।
     স্তব্ধ আছে তরুশ্রেণী মরণছায়া ঢাকা,
          শূন্যে ওড়ে অদৃশ্য কোন্‌ পাখা।
আমি পথিক যাব-যে কোন্‌ দূরে;
          তুমি রাজার পুরে
             মাঝে মাঝে কাজের অবসরে
          বাহির হয়ে আসবে হোথায় ওই অলিন্দ-'পরে,
        দেখবে চেয়ে অকারণে স্তব্ধ নেত্রপাতে
                        গোধূলিবেলাতে
             বনের সবুজ তরঙ্গ পারায়ে
     নদীর প্রান্তরেখায় যে পথ গিয়েছে হারায়ে।
              তোমার ইচ্ছা চলবে কল্পনাতে
          সুদূর পথে আভাসরূপী সেই অজানার সাথে
             পান্থ যে জন নিত্য চলে যায়।
              আমি পথিক হায়,
     পিছন-পানে এই বিদেশের সুদূর সৌধশিরে
              ইচ্ছা আমার পাঠাই ফিরে ফিরে
   ছায়ায়-ঢাকা আধেক-দেখা তোমার বাতায়নে,
যে মুখ তোমার লুকিয়ে ছিল সে মুখ আঁকি মনে।
আরো দেখুন
25
Verses
জীবনের দুঃখে শোকে তাপে
ঋষির একটি বাণী চিত্তে মোর দিনে দিনে হয়েছে উজ্জ্বল--
আনন্দ-অমৃতরূপে বিশ্বের প্রকাশ।
ক্ষুদ্র যত বিরুদ্ধ প্রমাণে
মহানেরে খর্ব করা সহজ পটুতা।
অন্তহীন দেশকালে পরিব্যাপ্ত সত্যের মহিমা
যে দেখে অখণ্ড রূপে
এ জগতে জন্ম তার হয়েছে সার্থক।
আরো দেখুন