৩০ (ami besechhilen bhalo)

আমি বেসেছিলেম ভালো

     সকল দেহে মনে

এই ধরণীর ছায়া আলো

     আমার এ জীবনে।

সেই-যে আমার ভালোবাসা

লয়ে আকুল অকূল আশা

ছড়িয়ে দিল আপন ভাষা

     আকাশনীলিমাতে।

রইল গভীর সুখে দুখে,

রইল সে-যে কুঁড়ির বুকে

ফুল-ফোটানোর মুখে মুখে

     ফাগুনচৈত্ররাতে।

রইল তারি রাখী বাঁধা

     ভাবী কালের হাতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

52
Verses
দুর্গম পথের প্রান্তে পান্থশালা-'পরে
যাহারা পড়িয়া ছিল ভাবাবেশভরে
রসপানে হতজ্ঞান,যাহারা নিয়ত
রাখে নাই আপনারে উদ্যত জাগ্রত--
মুগ্ধ মূঢ় জানে নাই বিশ্বযাত্রীদলে
কখন চলিয়া গেছে সুদূর অচলে
বাজায়ে বিজয়শঙ্খ! শুধু দীর্ঘ বেলা
তোমারে খেলনা করি করিয়াছে খেলা।
কর্মেরে করেছে পঙ্গু নিরর্থ আচারে,
জ্ঞানেরে করেছে হত শাস্ত্রকারাগারে,
আপন কক্ষের মাঝে বৃহৎ ভুবন
করেছে সংকীর্ণ রুধি দ্বার-বাতায়ন--
তারা আজ কাঁদিতেছে। আসিয়াছে নিশা--
কোথা যাত্রী, কোথা পথ, কোথায় রে দিশা!
আরো দেখুন
চিত্রকূট
Verses
একটুখানি জায়গা ছিল
             রান্নাঘরের পাশে,
সেইখানে মোর খেলা হ'ত
             শুক্‌নো-পারা ঘাসে।
একটা ছিল ছাইয়ের গাদা
             মস্ত ঢিবির মতো,
পোড়া কয়লা দিয়ে দিয়ে
             সাজিয়েছিলেম কত।
কেউ জানে না সেইটে আমার
             পাহাড় মিছিমিছি,
তারই তলায় পুঁতেছিলেম
             একটি তেঁতুল-বিচি।
জন্মদিনের ঘটা ছিল,
             ছয় বছরের ছেলে--
সেদিন দিল আমার গাছে
             প্রথম পাতা মেলে।
চার দিকে তার পাঁচিল দিলেম
             কেরোসিনের টিনে,
সকাল বিকাল জল দিয়েছি,
             দিনের পরে দিনে।
জল-খাবারের অংশ আমার
             এনে দিতেম তাকে,
কিন্তু তাহার অনেকখানিই
             লুকিয়ে খেত কাকে।
দুধ যা বাকি থাকত দিতেম
             জানত না কেউ সে তো--
পিঁপড়ে খেত কিছুটা তার,
             গাছ কিছু বা খেত।
চিকন পাতায় ছেয়ে গেল,
             ডাল দিল সে পেতে--
মাথায় আমার সমান হল
             দুই বছর না যেতে।
একটি মাত্র গাছ সে আমার
             একটুকু সেই কোণ,
চিত্রকূটের পাহাড়-তলায়
             সেই হল মোর বন।
কেউ জানে না সেথায় থাকেন
             অষ্টাবক্র মুনি--
মাটির 'পরে দাড়ি গড়ায়,
             কথা কন না উনি।
রাত্রে শুয়ে বিছানাতে
             শুনতে পেতেম কানে
রাক্ষসেরা পেঁচার মতো
             চেঁচাত সেইখানে।
নয় বছরের জন্মদিনে
             তার তলে শেষ খেলা,
ডালে দিলুম ফুলের মালা
             সেদিন সকাল-বেলা।
বাবা গেলেন মুন্‌শিগঞ্জে
             রানাঘাটের থেকে,
কোল্‌কাতাতে আমায় দিলেন
             পিসির কাছে রেখে।
রাত্রে যখন শুই বিছানায়
             পড়ে আমার মনে
সেই তেঁতুলের গাছটি আমার
             আঁস্তাকুড়ের কোণে।
আর সেখানে নেই তপোবন,
             বয় না সুরধুনী--
অনেক দূরে চ'লে গেছেন
             অষ্টাবক্র মুনি।
আরো দেখুন
রাজার ছেলে ও রাজার মেয়ে
Verses
                   রূপকথা
                    প্রভাতে
     রাজার ছেলে যেত পাঠশালায়,
         রাজার মেয়ে যেত তথা।
     দুজনে দেখা হত পথের মাঝে,
         কে জানে কবেকার কথা।
     রাজার মেয়ে দূরে সরে যেত,
     চুলের ফুল তার পড়ে যেত,
     রাজার ছেলে এসে তুলে দিত
         ফুলের সাথে বনলতা।
     রাজার ছেলে যেত পাঠশালায়,
         রাজার মেয়ে যেত তথা।
     পথের দুই পাশে ফুটেছে ফুল,
         পাখিরা গান গাহে গাছে।
     রাজার মেয়ে আগে এগিয়ে চলে,
         রাজার ছেলে যায় পাছে।
                        ২
                     মধ্যাহ্নে
     উপরে বসে পড়ে রাজার মেয়ে,
         রাজার ছেলে নীচে বসে।
     পুঁথি খুলিয়া শেখে কত কী ভাষা,
         খড়ি পাতিয়া আঁক কষে।
     রাজার মেয়ে পড়া যায় ভুলে,
     পুঁথিটি হাত হতে পড়ে খুলে,
     রাজার ছেলে এসে দেয় তুলে,
         আবার পড়ে যায় খসে।
     উপরে বসে পড়ে রাজার মেয়ে,
         রাজার ছেলে নীচে বসে।
     দুপুরে খরতাপ, বকুলশাখে
         কোকিল কুহু কুহরিছে।
     রাজার ছেলে চায় উপর-পানে,
         রাজার মেয়ে চায় নীচে।
                        ৩
                     সায়াহ্নে
     রাজার ছেলে ঘরে ফিরিয়া আসে,
         রাজার মেয়ে যায় ঘরে।
     খুলিয়া গলা হতে মোতির মালা
         রাজার মেয়ে খেলা করে।
     পথে সে মালাখানি গেল ভুলে,
     রাজার ছেলে সেটি নিল তুলে,
     আপন মণিহার মনোভুলে
         দিল সে বালিকার করে।
     রাজার ছেলে ঘরে ফিরিয়া এল,
         রাজার মেয়ে গেল ঘরে।
     শ্রান্ত রবি ধীরে অস্ত যায়
         নদীর তীরে একশেষে।
     সাঙ্গ হয়ে গেল দোঁহার পাঠ,
         যে যার গেল নিজ দেশে।
                      ৪
                      নিশীথে
     রাজার মেয়ে শোয় সোনার খাটে,
         স্বপনে দেখে রূপরাশি।
     রুপোর খাটে শুয়ে রাজার ছেলে
         দেখিছে কার সুধা-হাসি।
     করিছে আনাগোনা সুখ-দুখ,
     কখনো দুরু দুরু করে বুক,
     অধরে কভু কাঁপে হাসিটুক,
          নয়ন কভু যায় ভাসি।
     রাজার মেয়ে কার দেখিছে মুখ,
          রাজার ছেলে কার হাসি।
     বাদর ঝর ঝর, গরজে মেঘ,
          পবন করে মাতামাতি।
     শিথানে মাথা রাখি বিথান বেশ,
    স্বপনে কেটে যায় রাতি।
আরো দেখুন