রূপকথায় (rupkothay)

কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা

          মনে মনে।

মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা

          মনে মনে।

তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপকথার,

পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপকথার,

পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা

          মনে মনে।

সূর্য যখন অস্তে পড়ে ঢুলি

          মেঘে মেঘে আকাশকুসুম তুলি।

সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে

          যাই ভেসে দূর দিশে,

পরীর দেশের বদ্ধ দুয়ার দিই হানা

          মনে মনে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পূর্ণিমায়
Verses
  যাই যাই ডুবে যাই--
  আরো আরো ডুবে যাই,
বিহ্বল অবশ অচেতন।
  কোন্‌ খানে, কোন্‌ দূরে,
  নিশীথের কোন্‌ মাঝে,
কোথা হয়ে যাই নিমগন।
  হে ধরণী, পদতলে
  দিয়ো না দিয়ো না বাধা,
দাও মোরে দাও ছেড়ে দাও--
  অনন্ত দিবস-নিশি
  এমনি ডুবিতে থাকি,
তোমরা সুদূরে চলে যাও।
  এ কী রে উদার জ্যোৎস্না
  এ কী রে গভীর নিশি
দিশে দিশে স্তব্ধতা বিস্তারি!
  আঁখি দুটি মুদে আমি
  কোথা আছি কোথা গেছি
কিছু যেন বুঝিতে না পারি।
  দেখি দেখি আরো দেখি,
  অসীম উদার শূন্যে
আরো দূরে আরো দূরে যাই--
  দেখি আজ এ অনন্তে
  আপনা হারায়ে ফেলে
আর যেন খুঁজিয়া না পাই।
  তোমরা চাহিয়া থাকো
  জোছনা অমৃত-পানে
বিহ্বল বিলীন তারাগুলি।
অপার দিগন্ত ওগো,
  থাক এ মাথার 'পরে
দুই দিকে দুই পাখা তুলি।
  গান নাই, কথা নাই,
  শব্দ নাই, স্পর্শ নাই,
নাই ঘুম, নাই জাগরণ।
  কোথা কিছু নাহি জাগে,
  সর্বাঙ্গে জোছনা লাগে,
সর্বাঙ্গ পুলকে অচেতন।
  অসীমে সুনীলে শূন্যে
  বিশ্ব কোথা ভেসে গেছে
তারে যেন দেখা নাহি যায়--
  নিশীথের মাঝে শুধু
  মহান্‌ একাকী আমি
অতলেতে ডুবি রে কোথায়।
  গাও বিশ্ব গাও তুমি
  সুদূর অদৃশ্য হতে
গাও তব নাবিকের গান--
  শত লক্ষ যাত্রী লয়ে
  কোথায় যেতেছ তুমি
তাই ভাবি মুদিয়া নয়ান।
  অনন্ত রজনী শুধু
  ডুবে যাই নিভে যাই
মরে যাই অসীম মধুরে--
  বিন্দু হতে বিন্দু হয়ে
  মিশায়ে মিলায়ে যাই
অনন্তের সুদূর সুদূরে।
আরো দেখুন
114
Verses
দিনের প্রহরগুলি হয়ে গেল পার
        বহি কর্মভার।
দিনান্ত ভরিছে তরী রঙিন মায়ায়
        আলোয় ছায়ায়।
আরো দেখুন
সান্ত্বনা
Verses
কোথা হতে দুই চক্ষে ভরে নিয়ে এলে জল
     হে প্রিয় আমার।
হে ব্যথিত, হে অশান্ত, বলো আজি গাব গান
     কোন্‌ সান্ত্বনার।
  হেথায় প্রান্তরপারে
  নগরীর এক ধারে
  সায়াহ্নের অন্ধকারে
     জ্বালি দীপখানি
  শূন্য গৃহে অন্যমনে
  একাকিনী বাতায়নে
  বসে আছি পুষ্পাসনে
     বাসরের রানী--
কোথা বক্ষে বিঁধি কাঁটা ফিরিলে আপন নীড়ে
     হে আমার পাখি।
ওরে ক্লিষ্ট, ওরে ক্লান্ত, কোথা তোর বাজে ব্যথা,
     কোথা তোরে রাখি।
চারি দিকে তমস্বিনী রজনী দিয়েছে টানি
    মায়ামন্ত্র-ঘের--
দুয়ার রেখেছি রুধি, চেয়ে দেখো কিছু হেথা
    নাহি বাহিরের।
  এ যে দুজনের দেশ,
  নিখিলের সব শেষ,
  মিলনের রসাবেশ
    অনন্ত ভবন--
  শুধু এই এক ঘরে
  দুখানি হৃদয় ধরে,
  দুজনে সৃজন করে
    নূতন ভুবন।
একটি প্রদীপ শুধু এ আঁধারে যতটুকু
    আলো করে রাখে
সেই আমাদের বিশ্ব, তাহার বাহিরে আর
    চিনি না কাহাকে।
একখানি বীণা আছে, কভু বাজে মোর বুকে
    কভু তব কোরে।
একটি রেখেছি মালা, তোমারে পরায়ে দিলে
    তুমি দিবে মোরে।
  এক শয্যা রাজধানী,
  আধেক আঁচলখানি
  বক্ষ হতে লয়ে টানি
    পাতিব শয়ন।
  একটি চুম্বন গড়ি
  দোঁহে লব ভাগ করি--
  এ রাজত্বে, মরি মরি,
    এত আয়োজন।
একটি গোলাপফুল রেখেছি বক্ষের মাঝে,
    তব ঘ্রাণশেষে
আমারে ফিরায়ে দিলে অধরে পরশি তাহা
    পরি লব কেশে।
আজ করেছিনু মনে তোমারে করিব রাজা
    এই রাজ্যপাটে,
এ অমর বরমাল্য আপনি যতনে তব
    জড়াব ললাটে।
  মঙ্গলপ্রদীপ ধ'রে
  লইব বরণ করে,
  পুষ্পসিংহাসন-'পরে
      বসাব তোমায়--
  তাই গাঁথিয়াছি হার,
  আনিয়াছি ফুলভার,
  দিয়েছি নূতন তার
      কনকবীণায়।
আকাশে নক্ষত্রসভা নীরবে বসিয়া আছে
      শান্ত কৌতূহলে--
আজি কি এ মালাখানি সিক্ত হবে, হে রাজন্‌,
      নয়নের জলে।
রুদ্ধকণ্ঠ, গীতহারা, কহিয়ো না কোনো কথা,
      কিছু শুধাব না--
নীরবে লইব প্রাণে তোমার হৃদয় হতে
      নীরব বেদনা।
  প্রদীপ নিবায়ে দিব,
  বক্ষে মাথা তুলি নিব,
  স্নিগ্ধ করে পরশিব
      সজল কপোল--
  বেণীমুক্ত কেশজাল
  স্পর্শিবে তাপিত ভাল,
  কোমল বক্ষের তাল
      মৃদুমন্দ দোল।
নিশ্বাসবীজনে মোর কাঁপিবে কুন্তল তব,
      মুদিবে নয়ন--
অর্ধরাতে শান্তবায়ে নিদ্রিত ললাটে দিব
      একটি চুম্বন।
আরো দেখুন