অপঘাত (opoghat)

সূর্যাস্তের পথ হতে বিকালের রৌদ্র এল নেমে।

           বাতাস ঝিমিয়ে গেছে থেমে।

বিচালি-বোঝাই গাড়ি চলে দূর নদিয়ার হাটে

                   জনশূন্য মাঠে।

             পিছে পিছে

          দড়ি-বাঁধা বাছুর চলিছে।

      রাজবংশীপাড়ার কিনারে

          পুকুরের ধারে

      বনমালী পন্ডিতের বড়ো ছেলে

          সারাক্ষণ বসে আছে ছিপ ফেলে।

      মাথার উপর দিয়ে গেল ডেকে

          শুকনো নদীর চর থেকে

       কাজ্‌লা বিলের পানে

              বুনোহাঁস গুগ্‌লি-সন্ধানে।

       কেটে-নেওয়া ইক্ষুখেত, তারি ধারে ধারে

          দুই বন্ধু চলে ধীরে শান্ত পদচারে

               বৃষ্টিধোওয়া বনের নিশ্বাসে,

                    ভিজে ঘাসে ঘাসে।

                         এসেছে ছুটিতে--

     হঠাৎ গাঁয়েতে এসে সাক্ষাৎ দুটিতে,

          নববিবাহিত একজনা,

শেষ হতে নাহি চায় ভরা আনন্দের আলোচনা।

আশে-পাশে ভাঁটিফুল ফুটিয়া রয়েছে দলে দলে

       বাঁকাচোরা গলির জঙ্গলে,

          মৃদুগন্ধে দেয় আনি

                চৈত্রের ছড়ানো নেশাখানি।

           জারুলের শাখায় অদূরে

কোকিল ভাঙিছে গলা একেঘেয়ে প্রলাপের সুরে।

          টেলিগ্রাম এল সেই ক্ষণে

ফিন্‌ল্যান্ড্‌ চূর্ণ হল সোভিয়েট বোমার বর্ষণে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

46
Verses
THE ONE without second is emptiness,
the other one makes it true.
আরো দেখুন
মৃত্যুর আহ্বান
Verses
জন্ম হয়েছিল তোর সকলের কোলে
        আনন্দকল্লোলে।
নীলাকাশ, আলো, ফুল, পাখি,
        জননীর আঁখি,
শ্রাবণের বৃষ্টিধারা, শরতের শিশিরের কণা,
      প্রাণের প্রথম অভ্যর্থনা।
                 জন্ম সেই
           এক নিমিষেই
        অন্তহীন দান,
জন্ম সে যে গৃহমাঝে গৃহীরে আহ্বান।
    মৃত্যু তোর হোক দূরে নিশীথে নির্জনে,
হোক সেই পথে যেথা সমুদ্রের তরঙ্গগর্জনে
            গৃহহীন পথিকেরই
    নৃত্যছন্দে নিত্যকাল বাজিতেছে ভেরী;
অজানা অরণ্যে যেথা উঠিতেছে উদাস মর্মর,
             বিদেশের বিবাগী নির্ঝর
বিদায়-গানের তালে হাসিয়া বাজায় করতালি;
  যেথায় অপরিচিত নক্ষত্রের আরতির থালি
        চলিয়াছে অনন্তের মন্দির-সন্ধানে,
পিছু ফিরে চাহিবার কিছু যেথা নাই কোনোখানে।
দুয়ার রহিবে খোলা; ধরিত্রীর সমুদ্র-পর্বত
কেহ ডাকিবে না কাছে, সকলেই দেখাইবে পথ।
        শিয়রে নিশীথরাত্রি রহিবে নির্বাক্‌,
             মৃত্যু সে যে পথিকের ডাক।
আরো দেখুন
চৌত্রিশ
Verses
পথিক আমি।
পথ চলতে চলতে দেখেছি
পুরাণে কীর্তিত কত দেশ আজ কীর্তি-নিঃস্ব।
দেখেছি দর্পোদ্ধত প্রতাপের
অবমানিত ভগ্নশেষ,
তার বিজয় নিশান
বজ্রাঘাতে হঠাৎ স্তব্ধ অট্টহাসির মতো
গেছে উড়ে;
বিরাট অহংকার
হয়েছে সাষ্টাঙ্গে ধুলায় প্রণত,
সেই ধুলার 'পরে সন্ধ্যাবেলায়
ভিক্ষুক তার জীর্ণ কাঁথা মেলে বসে,
পথিকের শ্রান্ত পদ
সেই ধুলায় ফেলে চিহ্ন,--
অসংখ্যের নিত্য পদপাতে
সে চিহ্ন যায় লুপ্ত হয়ে।
দেখেছি সুদূর যুগান্তর
বালুর স্তরে প্রচ্ছন্ন,
যেন হঠাৎ ঝঞ্ঝার ঝাপটা লেগে
কোন্‌ মহাতরী
হঠাৎ ডুবল ধূসর সমুদ্রতলে,
সকল আশা নিয়ে, গান নিয়ে, স্মৃতি নিয়ে।
এই অনিত্যের মাঝখান দিয়ে চলতে চলতে
অনুভব করি আমার হৃৎস্পন্দনে
অসীমের স্তব্ধতা।
আরো দেখুন