ক্ষণিক (khonik)

এ চিকন তব লাবণ্য যবে দেখি

          মনে মনে ভাবি, এ কি

ক্ষণিকের 'পরে অসীমের বরদান,

     আড়ালে আবার ফিরে নেয় তারে

          দিন হলে অবসান।

একদা শিশিররাতে

     শতদল তার দল ঝরাইবে

          হেমন্তে হিমপাতে,

সেই যাত্রায় তোমারো মাধুরী

          প্রলয়ে লভিবে গতি।

এতই সহজে মহাশিল্পীর

          আপনার এত ক্ষতি

     কেমন করিয়া সয়,

     প্রকাশে বিনাশে বাঁধিয়া সূত্র

                   ক্ষয়ে নাহি মানে ক্ষয়।

     যে দান তাহার সবার অধিক দান

          মাটির পাত্রে সে পায় আপন স্থান।

                   ক্ষণভঙ্গুর দিনে

     নিমেষ-কিনারে বিশ্ব তাহারে

                   বিস্ময়ে লয় চিনে।

               অসীম যাহার মূল্য সে-ছবি

                   সামান্য পটে আঁকি

          মুছে ফেলে দেয় লোলুপেরে দিয়ে ফাঁকি।

     দীর্ঘকালের ক্লান্ত আঁখির উপেক্ষা হতে তারে

                   সরায় অন্ধকারে।

     দেখিতে দেখিতে দেখে না যখন প্রাণ

          বিস্মৃতি আসি অবগুণ্ঠনে

                   রাখে তার সম্মান।

          হরণ করিয়া লয় তারে সচকিতে,

               লুব্ধ হাতের অঙ্গুলি তারে

                   পারে না চিহ্ন দিতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বিপাশা
Verses
মায়ামৃগী, নাই বা তুমি
          পড়লে প্রেমের ফাঁদে।
ফাগুন-রাতে চোরা মেঘে
          নাই হরিল চাঁদে।
বাঁধন-কাটা ভাব্‌না তোমার
          হাওয়ায় পাখা মেলে,
দেহমনে চঞ্চলতার
          নিত্য যে ঢেউ খেলে।
ঝরনা-ধারার মতো সদাই
          মুক্ত তোমার গতি,
নাই বা নিলে তটের শরণ
          তায় বা কিসের ক্ষতি।
শরৎপ্রাতের মেঘ যে তুমি
          শুভ্র আলোয় ধোওয়া,
একটুখানি অরুণ-আভার
          সোনার-হাসি-ছোঁওয়া।
শূন্য পথে মনোরথে
          ফেরো আকাশ-পার,
বুকের মাঝে নাই বহিলে
          অশ্রুজলের ভার।
এমনি করেই যাও খেলে যাও
          অকারণের খেলা,
ছুটির স্রোতে যাক-না ভেসে
          হালকা খুশির ভেলা।
পথে চাওয়ার ক্লান্তি কেন
          নামবে আঁখির পাতে,
কাছের সোহাগ ছাড়বে কেন
          দূরের দুরাশাতে।
তোমার পায়ের নূপুরখানি
          বাজাক নিত্যকাল
অশোকবনের চিকন পাতার
          চমক-আলোর তাল।
রাতের গায়ে পুলক দিয়ে
          জোনাক যেমন জ্বলে
তেমনি তোমার খেয়ালগুলি
          উড়ুক স্বপন-তলে।
যারা তোমার সঙ্গ-কাঙাল
          বাইরে বেড়ায় ঘুরে--
ভিড় যেন না করে তোমার
          মনের অন্তঃপুরে।
সরোবরের পদ্ম তুমি,
          আপন চারি দিকে
মেলে রেখো তরল জলের
          সরল বিঘ্নটিকে।
গন্ধ তোমার হোক-না সবার,
          মনে রেখো তবু
বৃন্ত যেন চুরির ছুরি
          নাগাল না পায় কভু।
আমার কথা শুধাও যদি--
          চাবার তরেই চাই,
পাবার তরে চিত্তে আমার
          ভাব্‌ না কিছুই নাই।
তোমার পানে নিবিড় টানের
          বেদন-ভরা সুখ
মনকে আমার রাখে যেন
          নিয়ত উৎসুক।
চাই না তোমায় ধরতে আমি
          মোর বাসনায় ঢেকে,
আকাশ থেকেই গান গেয়ে যাও--
          নয় খাঁচাটার থেকে।
আরো দেখুন
আজ বরষার রূপ হেরি
Verses
আজ        বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে;
       চলেছে গরজি, চলেছে নিবিড় সাজে।
   হৃদয়ে তাহার নাচিয়া উঠিছে ভীমা,
                 ধাইতে ধাইতে লোপ ক'রে চলে সীমা,
                 কোন্‌ তাড়নায় মেঘের সহিত মেঘে,
                           বক্ষে বক্ষে মিলিয়া বজ্র বাজে।
                           বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে।
পুঞ্জে পুঞ্জে দূর সুদূরের পানে
দলে দলে চলে, কেন চলে নাহি জানে।
       জানে না কিছুই কোন্‌ মহাদ্রিতলে
গভীর শ্রাবণে গলিয়া পড়িবে জলে,
নাহি জানে তার ঘনঘোর সমারোহে
       কোন্‌ সে ভীষণ জীবন-মরণ রাজে।
বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে।
                     ঈশান কোণেতে ওই যে  ঝড়ের বাণী
                    গুরু গুরু রবে কী করিছে কানাকানি।
              দিগন্তরালে কোন্‌ ভবিতব্যতা
              স্তব্ধ তিমিরে বহে ভাষাহীন ব্যথা,
              কালো কল্পনা নিবিড় ছায়ার তলে
                    ঘনায়ে উঠিছে কোন্‌ আসন্ন কাজে।
                    বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে।
আরো দেখুন
44
Verses
THE WORLD rushes on over the strings of the lingering heart making the music of sadness.
আরো দেখুন