৮ (mone hoy hemonter durbhashar)

মনে হয় হেমন্তের দুর্ভাষার কুজ্ঝটিকা-পানে

আলোকের কী যেন ভর্ৎসনা

দিগন্তের মূঢ়তারে তুলিছে তর্জনী।

পাণ্ডুবর্ণ হয়ে আসে সূর্যোদয়

আকাশের ভালে,

লজ্জা ঘনীভূত হয়,

হিমসিক্ত অরণ্যছায়ায়

স্তব্ধ হয় পাখিদের গান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ব্যর্থ যৌবন
Verses
আজি       যে রজনী যায় ফিরাইব তায়
                    কেমনে?
কেন       নয়নের জল ঝরিছে বিফল
                    নয়নে!
            এ বেশভূষণ লহ সখী, লহ,
            এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ--
            এমন যামিনী কাটিল বিরহ
                    শয়নে।
আজি       যে-রজনী যায় ফিরাইব তায়
                    কেমনে।
আমি       বৃথা অভিসারে এ যমুনাপারে
                    এসেছি।
বহি         বৃথা মনোআশা এত ভালোবাসা
                    বেসেছি।
            শেষে নিশিশেষে বদন মলিন,
            ক্লান্ত চরণ, মন উদাসীন,
            ফিরিয়া চলেছি কোন্‌ সুখহীন
                 ভবনে!
হায়,      যে-রজনী যায় ফিরাইব তায়
                 কেমনে?
কত        উঠেছিল চাঁদ নিশীথ-অগাধ
                 আকাশে!
বনে         দুলেছিল ফুল গন্ধব্যাকুল
                 বাতাসে।
            তরুমর্মর নদীকলতান
            কানে লেগেছিল স্বপ্নসমান,
            দূর হতে আসি পশেছিল গান
                 শ্রবণে।
আজি       সে রজনী যায়, ফিরাইব তায়
                 কেমনে।
মনে        লেগেছিল হেন, আমারে সে যেন
                 ডেকেছে।
যেন        চিরযুগ ধরে মোরে মনে করে
                 রেখেছে।
            সে আনিবে বহি ভরা অনুরাগ,
            যৌবননদী করিবে সজাগ,
             আসিবে নিশীথে, বাঁধিবে সোহাগ-
                 বাঁধনে।
আহা,      সে রজনী যায়, ফিরাইব তায়
                 কেমনে।
ওগো,      ভোলা ভালো তবে, কাঁদিয়া কী হবে
                 মিছে আর?
যদি         যেতে হল হায়, প্রাণ কেন চায়
                  পিছে আর?
            কুঞ্জদুয়ারে অবোধের মতো
            রজনীপ্রভাতে বসে রব কত!
            এবারের মতো বসন্ত গত
                  জীবনে।
হায়      যে রজনী যায় ফিরাইব তায়
                  কেমনে।
আরো দেখুন
যখন তোমায় আঘাত করি
Verses
যখন তোমায় আঘাত করি
      তখন চিনি।
শত্রু হয়ে দাঁড়াই যখন
      লও যে জিনি।
এ প্রাণ যত নিজের তরে
তোমারি ধন হরণ করে
ততই শুধু তোমার কাছে
      হয় সে ঋণী।
উজিয়ে যেতে চাই যতবার
      গর্বসুখে,
তোমার স্রোতের প্রবল পরশ
      পাই যে বুকে।
আলো যখন আলসভরে
নিবিয়ে ফেলি আপন ঘরে
লক্ষ তারা জ্বালায় তোমার
      নিশীথিনী।
আরো দেখুন
প্রবাহিনী
Verses
দুর্গম দূর শৈলশিরের
      স্তব্ধ তুষার নই তো আমি,
আপ্‌নাহারা ঝরনা-ধারা
      ধূলির ধরায় যাই যে নামি।
সরোবরের গম্ভীরতায়
      ফেনিল নাচের মাতন ঢালি,
অচল শিলার ভ্রূভঙ্গিমায়
      বাজাই চপল করতালি।
মন্দ্রসুরের মন্ত্র শুনাই
      গভীর গুহার আঁধার-তলে,
গহন বনের ভাঙাই ধেয়ান
      উচ্চহাসির কোলাহলে।
শুভ্র ফেনের কুন্দমালায়
      বিন্ধ্যগিরির বক্ষ সাজাই,
যোগীশ্বরের জটার মধ্যে
      তরঙ্গিণীর নূপুর বাজাই।
বৃদ্ধ বটের লুব্ধ শিকড়
      আমার বেণী ধরিতে চায়,
সূর্যকিরণ শিশুর মতন
      অঙ্ক আমার ভরিতে চায়।
নাই কোনো মোর ভয় ভাবনা,
      নাই কোনো মোর অচল রীতি।
গতি আমার সকল দিকেই,
      শুভ আমার সকল তিথি।
বক্ষে আমার কালোর ধারা,
      আলোর ধারা আমার চোখে--
স্বর্গে আমার সুর চলে যায়,
      নৃত্য আমার মর্তলোকে।
অশ্রুহাসির যুগল ধারা
       ছোটে আমার ডাইনে বামে।
অচল গানের সাগরমাঝে
       চপল গানের যাত্রা থামে।
আরো দেখুন