১১ (jogoter majhkhane juge juge hoitechhe )

জগতের মাঝখানে যুগে যুগে হইতেছে জমা

সুতীব্র অক্ষমা।

অগোচরে কোনোখানে একটি রেখার হলে ভুল

দীর্ঘকালে অকস্মাৎ আপনারে করে সে নির্মূল।

ভিত্তি যার ধ্রুব বলে হয়েছিল মনে

তলে তার ভূমিকম্প টলে ওঠে প্রলয়নর্তনে।

প্রাণী কত এসেছিল দলে দলে

জীবনের রঙ্গভূমে

অপর্যাপ্ত শক্তির সম্বলে--

সে শক্তিই ভ্রম তার,

ক্রমেই অসহ্য হয়ে লুপ্ত করে দেয় মহাভার।

কেহ নাহি জানে,

এ বিশ্বের কোন্‌খানে

প্রতি ক্ষণে জমা

দারুণ অক্ষমা।

দৃষ্টির অতীত ত্রুটি করিয়া ভেদন

সম্বন্ধের দৃঢ় সূত্র করিছে ছেদন;

ইঙ্গিতের স্ফুলিঙ্গের ভ্রম

পশ্চাতে ফেরার পথ চিরতরে করিছে দুর্গম।

দারুণ ভাঙন এ যে পূর্ণেরই আদেশে;

কী অপূর্ব সৃষ্টি তার দেখা দিবে শেষে--

গুঁড়াবে অবাধ্য মাটি, বাধা হবে দূর,

বহিয়া নূতন প্রাণ উঠিবে অঙ্কুর।

হে অক্ষমা,

সৃষ্টির বিধানে তুমি শক্তি যে পরমা;

শান্তির পথের কাঁটা তব পদপাতে

বিদলিত হয়ে যায় বারবার আঘাতে আঘাতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বসন্ত উৎসব
Verses
এ-বৎসর দোলপূর্ণিমা ফাল্গুন পার হয়ে  চৈত্রে পৌঁছল। আমের মুকুল নিঃশেষিত, আমবাগানে মৌমাছির ভিড় নেই, পলাশ-ফোটার পালা ফুরল, গাছের তলায় শুকনো শিমূল তার শেষমধু পিঁপড়েদের বিলিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়েছে। কাঞ্চনশাখা প্রায় দেউলে, ঐশ্বর্যের অল্প কিছু বাকি। কেবল শালের বীথিকা ভরে উঠেছে মঞ্জরিতে। উৎসব-প্রভাতে আশ্রমকন্যারা ঋতুরাজের সিংহাসন প্রদক্ষিণ করলে এই পুষ্পিত শালের বনে, তার বল্কলে আবির মাখিয়ে দিলে, তার ছায়ায় রাখলে মাল্যপ্রদীপের অর্ঘ্য। চতুর্দশীর চাঁদ যখন অস্তদিগন্তে, প্রভাতের ললাটে যখন অরুণ-আবিরের তিলকরেখা ফুটে উঠল, তখন আমি এই ছন্দের নৈবেদ্য বসন্ত-উৎসবের বেদির জন্য রচনা করেছি।
           আশ্রমসখা হে শাল, বনস্পতি,
                       লহো আমাদের নতি।
           তুমি এসেছিলে মোদের সবার আগে
           প্রাণের পতাকা রাঙায়ে হরিৎরাগে,
           সংগ্রাম তব কত ঝঞ্ঝার সাথে,
           কত দুর্দিনে কত দুর্যোগরাতে
                 জয়গৌরবে ঊর্ধ্বে তুলিলে শির
                       হে বীর, হে গম্ভীর।
           তোমার প্রথম অতিথি বনের পাখি,
           শাখায় শাখায় নিলে তাহাদের ডাকি,
           স্নিগ্ধ আদরে গানেরে দিয়েছ বাসা,
           মৌন তোমার পেয়েছে আপন ভাষা,
                 সুরে কিশলয়ে মিলন ঘটালে তুমি --
                       মুখরিত হল তোমার জন্মভূমি
           আমরা যেদিন আসন নিলেম আসি
           কহিল স্বাগত তব পল্লবরাশি,
           তারপর হতে পরিচয় নব নব
           দিবসরাত্রি ছায়াবীথিতলে তব
                 মিলিল আসিয়া নানা দিগ্‌দেশ হতে
                       তরুণ জীবনস্রোতে।
           বৈশাখতাপ শান্ত শীতল করো,
           নববর্ষারে করি দাও ঘনতর,
           শুভ্র শরতে জ্যোৎস্নার রেখাগুলি
           ছায়ায় মিলায়ে সাজাও বনের ধূলি,
                 মধুলক্ষ্মীরে আনিয়াছে আহ্বানি
                         মঞ্জরিভরা সুন্দর তব বাণী।
           নীরব বন্ধু, লহো আমাদের প্রীতি,
           আজি বসন্তে লহো এ কবির গীতি,
           কোকিলকাকলি শিশুদের কলরবে
           মিলেছে অS এ তব জয়-উৎসবে,
                 তোমার গন্ধে মোর আনন্দে আজি
                       এ পুণ্যদিনে অর্ঘ্য উঠিল সাজি।
           গম্ভীর তুমি, সুন্দর তুমি, উদার তোমার দান,
                   লহো আমাদের গান।
আরো দেখুন
দীপিকা
Verses
প্রতি সন্ধ্যায় নব অধ্যায়,
         জ্বাল তব নব দীপিকা।
প্রত্যুষপটে প্রতিদিন লেখ
         আলোকের নব লিপিকা।
অন্ধকারের সাথে দুর্বার
সংগ্রাম তব হয় বার বার,
দিনে দিনে হয় কত পরাজয়,
         দিনে দিনে জয়সাধনা।
পথ ভুলে ভুলে পথ খুঁজে লও,
সেই উৎসাহে পথদুখ বও,
দেশবিদ্রোহে বাঁধা পড় মোহে
        তবে হয় দেবারাধনা।
খেলাঘর ভেঙে বাঁধ খেলাঘর,
           খেল ভেঙে ভেঙে খেলেনা।
বাসা বেঁধে বেঁধে বাসা ভাঙে মন
           কোথাও আসন মেলে না।
জানি পথশেষে আছে পারাবার,
প্রতিখনে সেথা মেশে বারিধার,
নিমেষে নিমেষে তবু নিঃশেষে
          ছুটিছে পথিক তটিনী।
ছেড়ে দিয়ে দিয়ে এক ধ্রুব গান
ফিরে ফিরে আসে নব নব তান,
মরণে মরণে চকিত চরণে
          ছুটে চলে প্রাণনটিনী।
আরো দেখুন
ভাগ্যরাজ্য
Verses
আমার এ ভাগ্যরাজ্যে পুরানো কালের যে প্রদেশ,
          আয়ুহারাদের ভগ্নশেষ
               সেথা পড়ে আছে
                   পূর্বদিগন্তের কাছে।
নিঃশেষ করেছে মূল্য সংসারের হাটে,
          অনাবশ্যকের ভাঙা ঘাটে
               জীর্ণ দিন কাটাইছে তারা
                   অর্থহারা।
ভগ্ন গৃহে লগ্ন ঐ অর্ধেক প্রাচীর;
          আশাহীন পূর্ব আসক্তির
                   কাঙাল শিকড়জাল
বৃথা আঁকড়িয়া ধরে প্রাণপণে বর্তমান কাল।
          আকাশে তাকায় শিলালেখ,
                    তাহার প্রত্যেক
          অস্পষ্ট অক্ষর আজ পাশের অক্ষরে
                    ক্লান্ত সুরে প্রশ্ন করে,
          "আরো কি রয়েছে বাকি কোনো কথা,
          শেষ হয়ে যায় নি বারতা।"
এ আমার ভাগ্যরাজ্যে অন্যত্র হোথায় দিগন্তরে
          অসংলগ্ন ভিত্তি-'পরে
                   করে আছে চুপ
     অসমাপ্ত আকাঙক্ষার অসম্পূর্ণ রূপ।
          অকথিত বাণীর ইঙ্গিতে
                   চারিভিতে
          নীরবতা-উৎকণ্ঠিত মুখ
                   রয়েছে উৎসুক।
একদা যে যাত্রীদের সংকল্পে ঘটেছে অপঘাত,
          অন্য পথে গেছে অকস্মাৎ,
                   তাদের চকিত আশা,
          স্থকিত চলার স্তব্ধ ভাষা
                    জানায়, হয় নি চলা সারা--
দুরাশার দূরতীর্থ আজো নিত্য করিছে ইশারা।
          আজিও কালের সভা-মাঝে
                   তাদের প্রথম সাজে
             পড়ে নাই জীর্ণতার দাগ,
লক্ষ্যচ্যুত কামনায় রয়েছে আদিম রক্তরাগ।
          কিছু শেষ করা হয় নাই,
                   হেরো, তাই
          সময় যে পেল না নবীন
                   কোনোদিন
               পুরাতন হতে--
শৈবালে ঢাকে নি তারে বাঁধা-পড়া ঘাটে-লাগা স্রোতে;
          স্মৃতির বেদনা কিছু, কিছু পরিতাপ,
                   কিছু অপ্রাপ্তির অভিশাপ
               তারে নিত্য রেখেছে উজ্জ্বল;
না দেয় নীরস হতে মজ্জাগত গুপ্ত অশ্রুজল।
                   যাত্রাপথ-পাশে
          আছ তুমি আধো-ঢাকা ঘাসে--
পাথরে খুদিতেছিনু, হে মূর্তি, তোমারে কোন্‌ ক্ষণে
                   কিসের কল্পনে।
      অপূর্ণ তোমার কাছে পা না উত্তর।
          মনে যে কী ছিল মোর
যেদিন ফুটিত তাহা শিল্পের সম্পূর্ণ সাধনাতে
                   শেষ-রেখাপাতে,
          সেদিন তা জানিতাম আমি;
               তার আগে চেষ্টা গেছে থামি।
                   সেই শেষ না-জানার
          নিত্য নিরুত্তরখানি মর্ম-মাঝে রয়েছে আমার;
                   স্বপ্নে তার প্রতিবিম্ব ফেলি
সচকিত আলোকের কটাক্ষে সে করিতেছে কেলি।
আরো দেখুন