অদেখা (odekha)

আসিবে সে, আছি সেই আশাতে।

     শোন নি কি, দুজনাকে

     নাম ধরে ওই ডাকে

নিশিদিন আকাশের ভাষাতে।

     সুর বুকে আসে ভাসি,

     পথ চেনাবার বাঁশি

বাজে কোন্‌ ওপারের বাসাতে।

      ফুল ফোটে বনতলে

      ইশারায় মোরে বলে

"আসিবে সে'; আছি সেই আশাতে।

 

এল না তো, এখনো সে এলো না।

      আলো-আঁধারের ঘোরে

      যে ডাক শুনিনু ভোরে

সে শুধু স্বপন, সে কি ছলনা?

      হায় বেড়ে যায় বেলা,

      কবে শুরু হবে খেলা,

সাজায়ে বসিয়া আছি খেলনা--

      কিছু ভালো কিছু ভাঙা,

      কিছু কালো কিছু রাঙা;

যারে নিয়ে খেলা সে তো এল না।

 

আসে নি তো এখনো সে আসে নি।

      ভেবেছিনু আসে যদি,

      পাড়ি দেব ভরা নদী--

বসে আছি, আজও তরী ভাসে নি।

      মিলায় সিঁদুর-আলো,

      গোধূলি সে হয় কালো,

কোথা সে স্বপনবনবাসিনী?

      মালতীর মালাগাছি

      কোলে নিয়ে বসে আছি--

যারে দেব এখনো সে আসে নি।

 

এসেছে সে, মন বলে, এসেছে।

      সুবাস-আভাসখানি

      মনে হয় যেন জানি

রাতের বাতাসে আজ ভেসেছে।

       বুঝিয়াছি অনুভবে

       বনমর্মররবে

সে তার গোপন হাসি হেসেছে।

       অদেখার পরশেতে

       আঁধার উঠেছে মেতে--

মন জানে এসেছে সে এসেছে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নির্ঝরিণী
Verses
ঝর্‌না, তোমার স্ফটিকজলের
          স্বচ্ছ ধারা,
তাহারি মাঝারে দেখে আপনারে
          সূর্য তারা।
তারি এক ধারে আমার ছায়ারে
আনি মাঝে মাঝে, দুলায়ো তাহারে,
তারি সাথে তুমি হাসিয়া মিলায়ো
          কলধ্বনি--
দিয়ো তারে বাণী যে বাণী তোমার
          চিরন্তনী।
আমার ছায়াতে তোমার হাসিতে
          মিলিত ছবি,
তাই নিয়ে আজি পরানে আমার
          মেতেছে কবি।
পদে পদে তব আলোর ঝলকে
ভাষা আনে প্রাণে পলকে পলকে,
মোর বাণীরূপ দেখিলাম আজি
       নির্ঝরিণী।
তোমার প্রবাহে মনেরে জাগায়,
       নিজেরে চিনি।
আরো দেখুন
সান্ত্বনা
Verses
কোথা হতে দুই চক্ষে ভরে নিয়ে এলে জল
     হে প্রিয় আমার।
হে ব্যথিত, হে অশান্ত, বলো আজি গাব গান
     কোন্‌ সান্ত্বনার।
  হেথায় প্রান্তরপারে
  নগরীর এক ধারে
  সায়াহ্নের অন্ধকারে
     জ্বালি দীপখানি
  শূন্য গৃহে অন্যমনে
  একাকিনী বাতায়নে
  বসে আছি পুষ্পাসনে
     বাসরের রানী--
কোথা বক্ষে বিঁধি কাঁটা ফিরিলে আপন নীড়ে
     হে আমার পাখি।
ওরে ক্লিষ্ট, ওরে ক্লান্ত, কোথা তোর বাজে ব্যথা,
     কোথা তোরে রাখি।
চারি দিকে তমস্বিনী রজনী দিয়েছে টানি
    মায়ামন্ত্র-ঘের--
দুয়ার রেখেছি রুধি, চেয়ে দেখো কিছু হেথা
    নাহি বাহিরের।
  এ যে দুজনের দেশ,
  নিখিলের সব শেষ,
  মিলনের রসাবেশ
    অনন্ত ভবন--
  শুধু এই এক ঘরে
  দুখানি হৃদয় ধরে,
  দুজনে সৃজন করে
    নূতন ভুবন।
একটি প্রদীপ শুধু এ আঁধারে যতটুকু
    আলো করে রাখে
সেই আমাদের বিশ্ব, তাহার বাহিরে আর
    চিনি না কাহাকে।
একখানি বীণা আছে, কভু বাজে মোর বুকে
    কভু তব কোরে।
একটি রেখেছি মালা, তোমারে পরায়ে দিলে
    তুমি দিবে মোরে।
  এক শয্যা রাজধানী,
  আধেক আঁচলখানি
  বক্ষ হতে লয়ে টানি
    পাতিব শয়ন।
  একটি চুম্বন গড়ি
  দোঁহে লব ভাগ করি--
  এ রাজত্বে, মরি মরি,
    এত আয়োজন।
একটি গোলাপফুল রেখেছি বক্ষের মাঝে,
    তব ঘ্রাণশেষে
আমারে ফিরায়ে দিলে অধরে পরশি তাহা
    পরি লব কেশে।
আজ করেছিনু মনে তোমারে করিব রাজা
    এই রাজ্যপাটে,
এ অমর বরমাল্য আপনি যতনে তব
    জড়াব ললাটে।
  মঙ্গলপ্রদীপ ধ'রে
  লইব বরণ করে,
  পুষ্পসিংহাসন-'পরে
      বসাব তোমায়--
  তাই গাঁথিয়াছি হার,
  আনিয়াছি ফুলভার,
  দিয়েছি নূতন তার
      কনকবীণায়।
আকাশে নক্ষত্রসভা নীরবে বসিয়া আছে
      শান্ত কৌতূহলে--
আজি কি এ মালাখানি সিক্ত হবে, হে রাজন্‌,
      নয়নের জলে।
রুদ্ধকণ্ঠ, গীতহারা, কহিয়ো না কোনো কথা,
      কিছু শুধাব না--
নীরবে লইব প্রাণে তোমার হৃদয় হতে
      নীরব বেদনা।
  প্রদীপ নিবায়ে দিব,
  বক্ষে মাথা তুলি নিব,
  স্নিগ্ধ করে পরশিব
      সজল কপোল--
  বেণীমুক্ত কেশজাল
  স্পর্শিবে তাপিত ভাল,
  কোমল বক্ষের তাল
      মৃদুমন্দ দোল।
নিশ্বাসবীজনে মোর কাঁপিবে কুন্তল তব,
      মুদিবে নয়ন--
অর্ধরাতে শান্তবায়ে নিদ্রিত ললাটে দিব
      একটি চুম্বন।
আরো দেখুন
শৈশবসন্ধ্যা
Verses
            ধীরে ধীরে বিস্তারিছে ঘেরি চারিধার
            শ্রান্তি আর শান্তি আর সন্ধ্যা-অন্ধকার,
            মায়ের অঞ্চলসম। দাঁড়ায়ে একাকী
            মেলিয়া পশ্চিমপানে অনিমেষ আঁখি
            স্তব্ধ চেয়ে আছি। আপনারে মগ্ন করি
            অতলের তলে, ধীরে লইতেছি ভরি
            জীবনের মাঝে-- আজিকার এই ছবি,
            জনশূন্য নদীতীর, অস্তমান রবি,
            ম্লান মূর্ছাতুর আলো-- রোদন-অরুণ,
            ক্লান্ত নয়নের যেন দৃষ্টি সকরুণ
            স্থির বাক্যহীন-- এই গভীর বিষাদ,
            জলে স্থলে চরাচরে শ্রান্তি অবসাদ।
            সহসা উঠিল গাহি কোন্‌খান হতে
            বন-অন্ধকারঘন কোন্‌ গ্রামপথে
            যেতে যেতে গৃহমুখে বালক-পথিক।
            উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর নিশ্চিন্ত নির্ভীক
            কাঁপিছে সপ্তম সুরে, তীব্র উচ্চতান
            সন্ধ্যারে কাটিয়া যেন করিবে দুখান।
            দেখিতে না পাই তারে। ওই যে সম্মুখে
            প্রান্তরের সর্বপ্রান্তে, দক্ষিণের মুখে,
            আখের খেতের পারে, কদলী সুপারি
            নিবিড় বাঁশের বন, মাঝখানে তারি
            বিশ্রাম করিছে গ্রাম, হোথা আঁখি ধায়।
            হোথা কোন্‌ গৃহপানে গেয়ে চলে যায়
            কোন্‌ রাখালের ছেলে, নাহি ভাবে কিছু,
            নাহি চায় শূন্যপানে, নাহি আগুপিছু।
            দেখে শুনে মনে পড়ে সেই সন্ধ্যাবেলা
            শৈশবের। কত গল্প, কত বাল্যখেলা,
            এক বিছানায় শুয়ে মোরা সঙ্গী তিন;
            সে কি আজিকার কথা, হল কত দিন।
            এখনো কি বৃদ্ধ হয়ে যায় নি সংসার।
            ভোলে নাই খেলাধুলা, নয়নে তাহার
            আসে নাই নিদ্রাবেশ শান্ত সুশীতল,
            বাল্যের খেলানাগুলি করিয়া বদল
            পায় নি কঠিন জ্ঞান? দাঁড়ায়ে হেথায়
            নির্জন মাঠের মাঝে, নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়,
            শুনিয়া কাহার গান পড়ি গেল মনে--
            কত শত নদীতীরে, কত আম্রবনে,
            কাংস্যঘণ্টা-মুখরিত মন্দিরের ধারে,
            কত শস্যক্ষেত্রপ্রান্তে, পুকুরের পাড়ে
            গৃহে গৃহে জাগিতেছে নব হাসিমুখ,
            নবীন হৃদয়ভরা নব নব সুখ,
            কত অসম্ভব কথা, অপূর্ব কল্পনা,
            কত অমূলক আশা, অশেষ কামনা,
            অনন্ত বিশ্বাস। দাঁড়াইয়া অন্ধকারে
            দেখিনু নক্ষত্রালোকে, অসীম সংসারে
            রয়েছে পৃথিবী ভরি বালিকা বালক,
            সন্ধ্যাশয্যা, মার মুখ, দীপের আলোক।
আরো দেখুন