আশঙ্কা (ashonka)

ভালোবাসার মূল্য আমায় দু হাত ভরে

      যতই দেবে বেশি করে,

ততই আমার অন্তরের এই গভীর ফাঁকি

      আপনি ধরা পড়বে না কি।

তাহার চেয়ে ঋণের রাশি রিক্ত করি

      যাই-না নিয়ে শূন্য তরী।

বরং রব ক্ষুধার কাতর ভালো সেও,

      সুধার ভরা হৃদয় তোমার

            ফিরিয়ে নিয়ে চলে যেয়ো।

 

পাছে আমার আপন ব্যথা মিটাইতে

      ব্যথা জাগাই তোমার চিতে,

পাছে আমার আপন বোঝা লাঘব-তরে

      চাপাই বোঝা তোমার 'পরে,

পাছে আমার একলা প্রাণের ক্ষুব্ধ ডাকে

      রাত্রে তোমায় জাগিয়ে রাখে,

সেই ভয়েতেই মনের কথা কই নে খুলে।

      ভুলতে যদি পারো তবে

            সেই ভালো গো, যেয়ো ভুলে।

 

বিজন পথে চলেছিলেম, তুমি এলে

      মুখে আমার নয়ন মেলে।

ভেবেছিলেম বলি তোমায়, "সঙ্গে চলো,

      আমায় কিছু কথা বলো।'

হঠাৎ তোমার মুখে চেয়ে কী কারণে

      ভয় হল যে আমার মনে।

দেখেছিলেম সুপ্ত আগুন লুকিয়ে জ্বলে

      তোমার প্রাণের নিশীথ রাতের

            অন্ধকারের গভীর তলে।

 

তপস্বিনী, তোমার তপের শিখাগুলি

      হঠাৎ যদি জাগিয়ে তুলি,

তবে যে সেই দীপ্ত আলোয় আড়াল টুটে

      দৈন্য আমার উঠিবে ফুটে।

হবি হবে তোমার প্রেমের হোমাগ্নিতে

      এমন কী মোর আছে দিতে।

তাই তো আমি বলি তোমায় নতশিরে--

      তোমার দেখার স্মৃতি নিয়ে

            একলা আমি যাব ফিরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অপ্রকাশ
Verses
মুক্ত হও হে সুন্দরী!
                             ছিন্ন করো রঙিন কুয়াশা।
          অবনত দৃষ্টির আবেশ,
                             এই অবরুদ্ধ ভাষা,
          এই অবগুণ্ঠিত প্রকাশ।
                             সযত্ন লজ্জার ছায়া
          তোমারে বেষ্টন করি জড়ায়েছে অস্পষ্টের মায়া
শতপাকে,
মোহ দিয়ে সৌন্দর্যেরে করেছে আবিল;
অপ্রকাশে হয়েছ অশুচি।
          তাই তোমারে নিখিল
রেখেছে সরায়ে কোণে।
          ব্যক্ত করিবার দীনতায়
নিজেরে হারালে তুমি,
          প্রদোষের জ্যোতিঃক্ষীণতায়
দেখিতে পেলে না আজও আপনারে উদার আলোকে--
বিশ্বেরে দেখ নি, ভীরু, কোনোদিন বাধাহীন চোখে
উচ্চশির করি।
                   স্বরচিত সংকোচে কাটাও দিন,
আত্ম-অপমানে চিত্ত দীপ্তিহীন, তাই পুণ্যহীন।
বিকশিত স্থলপদ্ম পবিত্র সে, মুক্ত তার হাসি,
পূজায় পেয়েছে স্থান আপনারে সম্পূর্ণ বিকাশি।
          ছায়াছন্ন যে লজ্জায় প্রকাশের দীপ্তি ফেলে মুছি,
          সত্তার ঘোষণাবাণী স্তব্ধ করে,
                                      জেনো সে অশুচি।
          ঊর্ধ্বশাখা বনস্পতি যে ছায়ারে দিয়েছে আশ্রয়
          তার সাথে আলোর মিত্রতা,
                                      সমুন্নত সে বিনয়।
          মাটিতে লুটিয়ে গুল্ম সর্ব অঙ্গ ছায়াপুঞ্জ করি,
          তলে গুপ্ত গহ্বরেতে কীটের নিবাস।
                                      হে সুন্দরী,
          মুক্ত করো অসম্মান, তব অপ্রকাশ-আবরণ।
          হে বন্দিনী, বন্ধনেরে কোরো না কৃত্রিম আভরণ।
          সজ্জিত লজ্জার খাঁচা, সেথায় আত্মার অবসাদ--
অর্ধেক বাধায় সেথা ভোগের বাড়ায়ে দিতে স্বাদ
ভোগীর বাড়াতে গর্ব খর্ব করিয়ো না আপনারে
খণ্ডিত জীবন লয়ে আচ্ছন্ন চিত্তের অন্ধকারে।
আরো দেখুন
187
Verses
মাটিতে দুর্ভাগার
     ভেঙেছে বাসা,
আকাশে সমুচ্চ করি
     গাঁথিছে আশা।
আরো দেখুন
চিরজনমের বেদনা
Verses
              চিরজনমের বেদনা,
ওহে        চিরজীবনের সাধনা।
                    তোমার আগুন উঠুক হে জ্বলে,
                    কৃপা করিয়ো না দুর্বল ব'লে,
                    যত তাপ পাই সহিবারে চাই,
                           পুড়ে হোক ছাই বাসনা।
অমোঘ যে ডাক সেই ডাক দাও
              আর দেরি কেন মিছে।
যা আছে বাঁধন বক্ষ জড়ায়ে
              ছিঁড়ে প'ড়ে যাক পিছে।
গরজি গরজি শঙ্খ তোমার
বাজিয়া বাজিয়া উঠুক এবার,
গর্ব টুটিয়া নিদ্রা ছুটিয়া
              জাগুক তীব্র চেতনা।
আরো দেখুন