পয়লা আশ্বিন (poyla ashwin)

হিমের শিহর লেগেছে আজ মৃদু হাওয়ায়

           আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।

    ভোরবেলাকার চাঁদের আলো

           মিলিয়ে আসে শ্বেতকরবীর রঙে।

শিউলিফুলের নিশ্বাস বয়

        ভিজে ঘাসের 'পরে,

    তপস্বিনী উষার পরা পুজোর চেলির

           গন্ধ যেন

               আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।

 

পুব আকাশে শুভ্র আলোর শঙ্খ বাজে--

    বুকের মধ্যে শব্দ যে তার

        রক্তে লাগায় দোলা।

    কত যুগের কত দেশের বিশ্ববিজয়ী

           মৃত্যুপথে ছুটেছিল

               অমর প্রাণের অসাধ্য সন্ধানে।

    তাদেরই সেই বিজয়শঙ্খ

           রেখে গেছে অরব ধ্বনি

               শিশির-ধোওয়া রোদে।

        বাজল রে আজ বাজল রে তার

                   ঘর-ছাড়ানো ডাক

               আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।

 

ধনের বোঝা, খ্যাতির বোঝা, দুর্ভাবনার বোঝা

           ধুলোয় ফেলে দিয়ে

        নিরুদ্‌বেগে চলেছিল জটিল সংকটে।

           ললাট তাদের লক্ষ্য ক'রে

               পঙ্কপিণ্ড হেনেছিল

           দুর্জনেরা মলিন হাতে;

        নেমেছিল উল্কা আকাশ থেকে,

           পায়ের তলায় নীরস নিঠুর পথ

        তুলেছিল গুপ্ত ক্ষুদ্র কুটিল কাঁটা।

    পায় নি আরাম, পায় নি বিরাম,

           চায় নি পিছন ফিরে;

        তাদেরই সেই শুভ্রকেতনগুলি

               ওই উড়েছে শরৎপ্রাতের মেঘে

                   আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।

 

ভয় কোরো না, লোভ কোরো না, ক্ষোভ কোরো না,

               জাগো আমার মন--

        গান জাগিয়ে চলো সমুখ-পথে

    যেখানে ওই কাশের চামর দোলে

           নবসূর্যোদয়ের দিকে।

               নৈরাশ্যের নখর হতে

    রক্ত-ঝরা আপ্‌নাকে আজ ছিন্ন করে আনো

আশার মোহ-শিকড়গুলো উপড়ে দিয়ে যাও--

           লালসাকে দলো পায়ের তলায়।

    মৃত্যুতোরণ যখন হবে পার

পরাজয়ের গ্লানিভরে মাথা তোমার না হয় যেন নত।

        ইতিহাসের আত্মজয়ী বিশ্ববিজয়ী

    তাদের মাভৈঃ বাণী বাজে নীরব নির্ঘোষণে

               নির্মল এই শরৎ-রৌদ্রালোকে

                       আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

170
Verses
বাহিরে বস্তুর বোঝা,
      ধন বলে তায়।
কল্যাণ সে অন্তরের
      পরিপূর্ণতায়।
আরো দেখুন
ধ্যানভঙ্গ
Verses
পদ্মাসনার সাধনাতে দুয়ার থাকে বন্ধ,
ধাক্কা লাগায় সুধাকান্ত, লাগায় অনিল চন্দ।
ভিজিটর্‌কে এগিয়ে আনে; অটোগ্রাফের বহি
দশ-বিশটা জমা করে, লাগাতে হয় সহি।
আনে ফটোগ্রাফের দাবি, রেজিস্টারি চিঠি,
বাজে কথা, কাজের তর্ক, নানান খিটিমিটি।
পদ্মাসনের পদ্মে দেবী লাগান মোটরচাকা,
এমন দৌড় মারেন তখন মিথ্যে তাঁরে ডাকা।
ভাঙা ধ্যানের টুকরো যত খাতায় থাকে পড়ি;
অসমাপ্ত চিন্তাগুলোর শূন্যে ছড়াছড়ি।
সত্যযুগে ইন্দ্রদেবের ছিল রসজ্ঞান,
মস্ত মস্ত ঋষিমুনির ভেঙে দিতেন ধ্যান--
ভাঙন কিন্তু আর্টিস্‌টিক; কবিজনের চক্ষে
লাগত ভালো, শোভন হত দেব্‌তাদিগের পক্ষে।
তপস্যাটার ফলের চেয়ে অধিক হত মিঠা
নিষ্ফলতার রসমগ্ন অমোঘ পদ্ধতিটা।
ইন্দ্রদেবের অধুনাতন মেজাজ কেন কড়া--
তখন ছিল ফুলের বাঁধন, এখন দড়িদড়া।
ধাক্কা মারেন সেক্রেটরি, নয় মেনকা-রম্ভা--
রিয়লিস্‌টিক আধুনিকের এইমতোই ধরম বা।
ধ্যান খোয়াতে রাজি আছি দেবতা যদি চান তা--
সুধাকান্ত না পাঠিয়ে পাঠান সুধাকান্তা।
কিন্তু, জানি, ঘটবে না তা, আছেন অনিল চন্দ--
ইন্দ্রদেবের বাঁকা মেজাজ, আমার ভাগ্য মন্দ।
সইতে হবে স্থূলহস্ত-অবলেপের দুঃখ,
কলিযুগের চালচলনটা একটুও নয় সূক্ষ্ম।
আরো দেখুন
অপরিচিতা
Verses
পথ বাকি আর নাই তো আমার, চলে এলাম একা,
        তোমার সাথে কই হল গো দেখা?
কুয়াশাতে ঘন আকাশ, ম্লান শীতের ক্ষণে
ফুল ঝরাবার বাতাস বেড়ায় কাঁপন-লাগা বনে।
সকল শেষের শিউলিটি  যেই ধুলায় হবে ধূলি,
সঙ্গিনীহীন পাখি যখন গান যাবে তার ভুলি,
        হয়তো তুমি আপন-মনে আসবে সোনার রথে
                  শুকনো পাতা ঝরা ফুলের পথে।
পুলক লেগেছিল মনে পথের নূতন বাঁকে
            হঠাৎ সেদিন কোন্‌ মধুরের ডাকে।
দূরের থেকে ক্ষণে-ক্ষণে রঙের আভাস এসে
গগন-কোণে চমক হেনে গেছে কোথায় ভেসে।
মনের ভুলে ভেবেছিলাম তুমিই বুঝি এলে
গন্ধরাজের গন্ধে তোমার গোপন মায়া মেলে --
      হয়তো তুমি এসেছিলে, যায় নি আড়ালখানা,
                  চোখের দেখায় হয় নি প্রাণের জানা।
হয়তো সেদিন তোমার আঁখির ঘন তিমির ব্যেপে
        অশ্রুজলের আবেশ গেছে কেঁপে।
হয়তো আমায় দেখেছিলে বাঁকিয়ে বাঁকা ভুরু,
বক্ষ তোমার করেছিল ক্ষণেক দুরু দুরু,
সেদিন হতে স্বপ্ন তোমার ভোরের আধো-ঘুমে
রঙিয়েছিল হয়তো ব্যথার রক্তিমকুঙ্কুমে --
     আধেক-চাওয়ায় ভুলে-যাওয়ায় হয়েছে জাল বোনা
                  তোমায় আমায় হয় নি জানাশোনা।
তোমার পথের ধারে ধারে তাই এবারের মতো
     রেখে গেলাম গান গাঁথিলাম যত।
মনের মাঝে বাজল যেদিন দূর চরণের ধ্বনি
সেদিন আমি গেয়েছিলাম তোমার আগমনী;
দখিন বাতাস ফেলেছে শ্বাস রাতের আকাশ ঘেরি,
সেদিন আমি গেয়েছি গান তোমার বিরহেরি;
     ভোরের বেলায় অশ্রুভরা অধীর অভিমান
                 ভৈরবীতে জাগিয়েছিল গান।
এ গানগুলি তোমার বলে চিনবে কখনো কি?
            ক্ষতি কী তায়, নাই চিনিলে সখী!
তবু তোমায় গাইতে হবে নাই তাহে সংশয়,
তোমার কন্ঠে বাজবে তখন আমার পরিচয় --
যারে তুমি বাসবে ভালো, আমার গানের সুরে
বরণ করে নিতে হবে সেই তব বন্ধুরে।
     রোদন খুঁজে ফিরবে তোমার প্রাণের বেদনখানি,
              আমার গানে মিলবে তাহার বাণী।
তোমার ফাগুন উঠবে জেগে, ভরবে আমের বোলে,
            তখন আমি কোথায় যাব চলে।
পূর্ণ চাঁদের আসবে আসর, মুগ্ধ বসুন্ধরা,
বকুলবীথির ছায়াখানি মধুর মূর্ছাভরা --
হয়তো সেদিন বক্ষে তোমার মিলন-মালা গাঁথা,
হয়তো সেদিন ব্যর্থ আশায় সিক্ত চোখের পাতা --
     সেদিন আমি আসব না তো নিয়ে আমার দান,
                তোমার লাগি রেখে গেলেম গান।
আরো দেখুন