নাতবউ (natbou)

অন্তরে তার যে মধুমাধুরী পুঞ্জিত

             সুপ্রকাশিত সুন্দর হাতে সন্দেশে।

লুব্ধ কবির চিত্ত গভীর গুঞ্জিত,

             মত্ত মধুপ মিষ্টরসের গন্ধে সে।

দাদামশায়ের মন ভুলাইল নাতিত্বে

প্রবাসবাসের অবকাশ ভরি আতিথ্যে,

             সে কথাটি কবি গাঁথি রাখে এই ছন্দে সে।

 

সযতনে যবে সূর্যমুখীর অর্ঘ্যটি

             আনে নিশান্তে, সেও নিতান্ত মন্দ না।

এও ভালো যবে ঘরের কোণের স্বর্গটি

             মুখরিত করি তানে মানে করে বন্দনা।

তবু আরো বেশি ভালো বলি শুভাদৃষ্টকে

থালাখানি যবে ভরি স্বরচিত পিষ্টকে

             মোদক-লোভিত মুগ্ধ নয়ন নন্দে সে।

 

প্রভাতবেলায় নিরালা নীরব অঙ্গনে

             দেখেছি তাহারে ছায়া-আলোকের সম্পাতে।

দেখেছি মালাটি গাঁথিছে চামেলি-রঙ্গনে,

             সাজি সাজাইছে গোলাপে জবায় চম্পাতে।

আরো সে করুণ তরুণ সংগীতে

দেখেছি তাহারে পরিবেশনের ভঙ্গিতে,

             স্মিতমুখী মোর লুচি ও লোভের দ্বন্দ্বে সে।

 

বলো কোন্‌ ছবি রাখিব স্মরণে অঙ্কিত--

             মালতীজড়িত বঙ্কিম বেণীভঙ্গিমা?

দ্রুত অঙ্গুলে সুরশৃঙ্গার ঝংকৃত?

             শুভ্র শাড়ির প্রান্তধারার রঙ্গিমা?

পরিহাসে মোর মৃদু হাসি তার লজ্জিত?

অথবা ডালিটি দাড়িমে আঙুরে সজ্জিত?

             কিম্বা থালিটি থরে থরে ভরা সন্দেশে?

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

126
Verses
      স্বর্গের চোখের জলে
               ঝরে পড়ে বৃষ্টি--
      হাজার হাজার হাসি
               মর্ত্যে করে সৃষ্টি।
আরো দেখুন
উৎসব
Verses
দুন্দুভি বেজে ওঠে
           ডিম্‌-ডিম্‌ রবে,
সাঁওতাল-পল্লীতে
           উৎসব হবে।
পূর্ণিমাচন্দ্রের
           জ্যোৎস্নাধারায়
সান্ধ্য বসুন্ধরা
           তন্দ্রা হারায়।
             তাল-গাছে তাল-গাছে
                       পল্লবচয়
             চঞ্চল হিল্লোলে
                       কল্লোলময়।
             আম্রের মঞ্জরী
                       গন্ধ বিলায়,
             চম্পার সৌরভ
                       শূন্যে মিলায়।
দান করে কুসুমিত
           কিংশুকবন
সাঁওতাল-কন্যার
           কর্ণভূষণ।
অতিদূর প্রান্তরে
           শৈলচূড়ায়
মেঘেরা চীনাংশুক-
           পতাকা উড়ায়।
           ওই শুনি পথে পথে
                   হৈ হৈ ডাক,
           বংশীর সুরে তালে
                   বাজে ঢোল ঢাক।
           নন্দিত কণ্ঠের
                       হাস্যের রোল
           অম্বরতলে দিল
                       উল্লাসদোল।
            ধীরে ধীরে শর্বরী
                       হয় অবসান,
           উঠিল বিহঙ্গের
                       প্রত্যুষগান।
           বনচূড়া রঞ্জিল
                       স্বর্ণলেখায়
           পূর্বদিগন্তের
                       প্রান্তরেখায়।
আরো দেখুন
অপরাজিত
Verses
ফিরাবে তুমি মুখ
ভেবেছ মনে আমারে দিবে দুখ?
       আমি কি করি ভয়।
জীবন দিয়ে তোমারে প্রিয়ে, করিব আমি জয়।
       বিঘ্নভাঙা যৌবনের ভাষা,
            অসীম তার আশা,
                 বিপুল তার বল,
তোমার আঁখি-বিজুলি-ঘাতে হবে না নিষ্ফল।
বিমুখ মেঘ ফিরিয়া যায় বৈশাখের দিনে,
       অরণ্যেরে যেন সে নাহি চিনে
ধরে না কুঁড়ি কানন জুড়ি, ফোটে না বটে ফুল,
       মাটির তলে তৃষিত তরুমূল;
            ঝরিয়া পড়ে পাতা,
       বনস্পতি তবুও তুলি মাথা
নিঠুর তপে মন্ত্র জপে নীরব অনিমেষে
            দহনজয়ী সন্ন্যাসীর বেশে।
দিনের পরে যায় রে দিন, রাতের পরে রাতি,
            শ্রবণ রহে পাতি।
কঠিনতর যবে সে পণ দারুণ উপবাসে
            এমনকালে হঠাৎ কবে আসে
            উদার অকৃপণ
            আষাঢ় মাসে সজল শুভখন;
পূর্বগিরি-আড়াল হতে বাড়ায় তার পাণি,
করিয়ো ক্ষমা, করিয়ো ক্ষমা, গুমরি উঠে বাণী,
            নমিয়া পড়ে নিবিড় মেঘরাশি,
অশ্রুবারিবন্যা নামে ধরণী যায় ভাসি।
            ফিরালে মোরে মুখ!
এ শুধু মোরে ভাগ্য করে ক্ষণিক কৌতুক।
            তোমার প্রেমে আমার অধিকার
অতীত যুগ হতে সে জেনো লিখন বিধাতার।
অচল গিরিশিখর-'পরে সাগর করে দাবি,
                 ঝর্‌না পড়ে নাবি;
            সুদূর দিক্‌রেখার পানে চায়,
                 অকূল অজানায়
            শঙ্কাভরে তরল স্বরে কহে,
                 নহে গো, নহে নহে;
                 এড়ায়ে যাবে বলি
কত-না আঁকাবাঁকার পথে চলে সে ছলছলি;
বিপুলতর হয় সে ধারা, গভীরতর সুরে,
          যতই আসে দূরে;
উদারহাসি সাগর সহে অবুঝ অবহেলা--
          একদা শেষে পলাতকার খেলা
বক্ষে তার মিলায় কবে, মিলনে হয় সারা--
          পূর্ণ হয় নিবেদনের ধারা।
আরো দেখুন