মধুসন্ধায়ী - ৪ (modhusondhayi 4)

দূর হতে কয় কবি,

"জয় জয় মাংপবী,

কমলাকানন তব না হউক শূন্য।

গিরিতটে সমতটে

আজি তব যশ রটে,

আশারে ছাড়ায়ে বাড়ে তব দানপুণ্য।

তোমাদের বনময়

অফুরান যেন রয়

মৌচাক-রচনায় চিরনৈপুণ্য।

কবি প্রাতরাশে তার

না করুক মুখভার,

নীরস রুটির গ্রাসে না হোক সে ক্ষুণ্ন।'

আরবার কয় কবি,

"জয় জয় মাংপবী,

টেবিলে এসেছে নেমে তোমার কারুণ্য।

রুটি বলে জয়-জয়,

লুচিও যে তাই কয়,

মধু যে ঘোষণা করে তোমারই তারুণ্য।'

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রভু, আজি তোমার দক্ষিণ হাত
Verses
       প্রভু,       আজি তোমার দক্ষিণ হাত
                           রেখো না ঢাকি।
                     এসেছি তোমারে, হে নাথ,
                           পরাতে রাখী।
                                  যদি বাঁধি তোমার হাতে
                                  পড়ব বাঁধা সবার সাথে,
                                  যেখানে যে  আছে কেহই
                                         রবে না বাকি।
           আজি যেন ভেদ নাহি রয়
                     আপনা পরে,
            তোমায় যেন এক দেখি হে
                     বাহিরে ঘরে।
                           তোমার সাথে যে বিচ্ছেদে
                           ঘুরে বেড়াই কেঁদে কেঁদে,
                           ক্ষণেক-তরে ঘুচাতে তাই
                                  তোমারে ডাকি।
আরো দেখুন
দেবতা
Verses
দেবতা মানবলোকে ধরা দিতে চায়
      মানবের অনিত্য লীলায়।
          মাঝে মাঝে দেখি তাই--
                আমি যেন নাই,
      ঝংকৃত বীণার তন্তুসম দেহখানা
                হয় যেন অদৃশ্য অজানা;
      আকাশের অতিদূর সূক্ষ্ম নীলিমায়
                সংগীতে হারায়ে যায়;
                   নিবিড় আনন্দরূপে
               পল্লবের স্তূপে
      আমলকীবীথিকার গাছে গাছে
    ব্যাপ্ত হয় শরতের আলোকের নাচে।
               প্রেয়সীর প্রেমে
    প্রত্যহের ধূলি-আবরণ যায় নেমে
                দৃষ্টি হতে, শ্রুতি হতে;
                   স্বর্গসুধাস্রোতে
          ধৌত হয় নিখিলগগন--
যাহা দেখি যাহা শুনি তাহা যে একান্ত অতুলন
          মর্তের অমৃতরসে দেবতার রুচি
পাই যেন আপনাতে, সীমা হতে সীমা যায় ঘুচি।
                             দেবসেনাপতি
                নিয়ে আসে আপনার দিব্যজ্যোতি
                   যখন মরণপণে হানি অমঙ্গল।
                         ত্যাগের বিপুল বল
                   কোথা হতে বক্ষে আসে;
                             অনায়াসে
               দাঁড়াই উপেক্ষা করি প্রচণ্ড অন্যায়ে
                   অকুণ্ঠিত সর্বস্বের ব্যয়ে।          
                         তখন মৃত্যুর বক্ষ হতে
               দেবতা বাহিরি আসে অমৃত-আলোতে;
                         তখন তাহার পরিচয়
          মর্তলোকে অমর্তেরে করি তোলে অক্ষুণ্ন অক্ষয়।
আরো দেখুন
ছয়
Verses
দিনের প্রান্তে এসেছি
গোধূলির ঘাটে।
পথে পথে পাত্র ভরেছি
অনেক কিছু দিয়ে।
ভেবেছিলেম চিরপথের পাথেয় সেগুলি;
দাম দিয়েছি কঠিন দুঃখে।
অনেক করেছি সংগ্রহ মানুষের কথার হাটে,
কিছু করেছি সঞ্চয় প্রেমের সদাব্রতে।
শেষে ভুলেছি সার্থকতার কথা,
অকারণে কুড়িয়ে বেড়ানোই হয়েছে অন্ধ অভ্যাসে বাঁধা;
ফুটো ঝুলিটার শূন্য ভরাবার জন্যে
বিশ্রাম ছিল না।
আজ সামনে যখন দেখি
ফুরিয়ে এল পথ,
পাথেয়ের অর্থ আর রইল না কিছুই।
যে প্রদীপ জ্বলেছিল মিলন-শয্যার পাশে
সেই প্রদীপ এনেছিলেম হাতে ক'রে।
তার শিখা নিবল আজ,
সেটা ভাসিয়ে দিতে হবে স্রোতে।
সামনের আকাশে জ্বলবে একলা সন্ধ্যার তারা।
যে বাঁশি বাজিয়েছি
ভোরের আলোয় নিশীথের অন্ধকারে,
তার শেষ সুরটি বেজে থামবে
রাতের শেষ প্রহরে।
তার পরে?
যে জীবনে আলো নিবল
সুর থামল,
সে যে এই আজকের সমস্ত কিছুর মতোই
ভরা সত্য ছিল,
সে-কথা একেবারেই ভুলবে জানি,
ভোলাই ভালো।
তবু তার আগে কোনো একদিনের জন্য
কেউ একজন
সেই শূন্যটার কাছে একটা ফুল রেখো
বসন্তের যে ফুল একদিন বেসেছি ভালো
আমার এতদিনকার যাওয়া-আসার পথে
শুকনো পাতা ঝরেছে,
সেখানে মিলেছে আলোক ছায়া,
বৃষ্টিধারায় আমকাঁঠালের ডালে ডালে
জেগেছে শব্দের শিহরণ,
সেখানে দৈবে কারো সঙ্গে দেখা হয়েছিল
জল-ভরা ঘট নিয়ে যে চলে গিয়েছিল
চকিত পদে।
এই সামান্য ছবিটুকু
আর সব কিছু থেকে বেছে নিয়ে
কেউ একজন আপন ধ্যানের পটে এঁকো
কোনো একটি গোধূলির ধূসরমুহূর্তে।
আর বেশি কিছু নয়।
আমি আলোর প্রেমিক;
প্রাণরঙ্গভূমিতে ছিলুম বাঁশি-বাজিয়ে।
পিছনে ফেলে যাব না একটা নীরব ছায়া
দীর্ঘনিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে।
যে পথিক অস্তসূর্যের
ম্লায়মান আলোর পথ নিয়েছে
সে তো ধুলোর হাতে উজাড় করে দিলে
সমস্ত আপনার দাবি;
সেই ধুলোর উদাসীন বেদীটার সামনে
রেখে যেয়ো না তোমার নৈবেদ্য;
ফিরে নিয়ে যাও অন্নের থালি,
যেখানে তাকিয়ে আছে ক্ষুধা,
যেখানে অতিথি বসে আছে দ্বারে,
যেখানে প্রহরে প্রহরে বাজছে ঘন্টা
জীবনপ্রবাহের সঙ্গে কালপ্রবাহের
মিলের মাত্রা রেখে।
আরো দেখুন