গৌড়ী রীতি (gouri riti)

নাহি চাহিতেই ঘোড়া দেয় যেই,

      ফুঁকে দেয় ঝুলি থলি,

লোকে তার 'পরে মহারাগ করে

      হাতি দেয় নাই বলি।

বহু সাধনায় যার কাছে পায়

      কালো বিড়ালের ছানা,

লোকে তারে বলে নয়নের জলে,

      "দাতা বটে ষোলো-আনা।"

বিপুল ভোজনে মনের ওজনে

      ছটাক যদি বা কমে

সেই ছটাকের চাঁটিতে ঢাকের

      গালাগালি-বোল জমে।

দেনার হিসাবে ফাঁকিই মিশাবে,

      খুঁজিয়া না পাবে চাবি--

পাওনা-যাচাই কঠিন বাছাই,

      শেষ নাহি তার দাবি।

রুদ্ধ দুয়ার বহুমান তার

      দ্বারীর প্রসাদে খোলে।

মুক্ত ঘরের মহা আদরের

      মূল্য সবাই ভোলে।

সামনে আসিয়া নম্র হাসিয়া

      স্তবের রবের দৌড়,

পিছনে গোপন নিন্দারোপণ--

      ধন্য ধন্য গৌড়।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পবিত্র জীবন
Verses
মিছে হাসি মিছে বাঁশি মিছে এ যৌবন,
মিছে এই দরশের পরশের খেলা।
চেয়ে দেখো, পবিত্র এ মানবজীবন,
কে ইহারে অকাতরে করে অবহেলা!
ভেসে ভেসে এই মহা চরাচরস্রোতে
কে জানে গো আসিয়াছে কোন্‌খান হতে,
কোথা হতে নিয়ে এল প্রেমের আভাস,
কোন্‌ অন্ধকার ভেদি উঠিল আলোতে।
এ নহে খেলার ধন, যৌবনের আশ--
বোলো না ইহার কানে আবেশের বাণী!
নহে নহে এ তোমার বাসনার দাস,
তোমার ক্ষুধার মাঝে আনিয়ো না টানি!
এ তোমার ঈশ্বরের মঙ্গল-আশ্বাস,
স্বর্গের আলোক তব এই মুখখানি।
আরো দেখুন
১২৭
Verses
১২৭
গিরি যে তুষার নিজে রাখে, তার
           ভার তারে চেপে রহে ।
গলায়ে যা দেয় ঝরনাধারায়
           চরাচর তারে বহে ॥
আরো দেখুন
দেবতা
Verses
দেবতা মানবলোকে ধরা দিতে চায়
      মানবের অনিত্য লীলায়।
          মাঝে মাঝে দেখি তাই--
                আমি যেন নাই,
      ঝংকৃত বীণার তন্তুসম দেহখানা
                হয় যেন অদৃশ্য অজানা;
      আকাশের অতিদূর সূক্ষ্ম নীলিমায়
                সংগীতে হারায়ে যায়;
                   নিবিড় আনন্দরূপে
               পল্লবের স্তূপে
      আমলকীবীথিকার গাছে গাছে
    ব্যাপ্ত হয় শরতের আলোকের নাচে।
               প্রেয়সীর প্রেমে
    প্রত্যহের ধূলি-আবরণ যায় নেমে
                দৃষ্টি হতে, শ্রুতি হতে;
                   স্বর্গসুধাস্রোতে
          ধৌত হয় নিখিলগগন--
যাহা দেখি যাহা শুনি তাহা যে একান্ত অতুলন
          মর্তের অমৃতরসে দেবতার রুচি
পাই যেন আপনাতে, সীমা হতে সীমা যায় ঘুচি।
                             দেবসেনাপতি
                নিয়ে আসে আপনার দিব্যজ্যোতি
                   যখন মরণপণে হানি অমঙ্গল।
                         ত্যাগের বিপুল বল
                   কোথা হতে বক্ষে আসে;
                             অনায়াসে
               দাঁড়াই উপেক্ষা করি প্রচণ্ড অন্যায়ে
                   অকুণ্ঠিত সর্বস্বের ব্যয়ে।          
                         তখন মৃত্যুর বক্ষ হতে
               দেবতা বাহিরি আসে অমৃত-আলোতে;
                         তখন তাহার পরিচয়
          মর্তলোকে অমর্তেরে করি তোলে অক্ষুণ্ন অক্ষয়।
আরো দেখুন