ভূমিকা (bhumika)

ধূমকেতু মাঝে মাঝে হাসির ঝাঁটায়

দ্যুলোক ঝাঁটিয়ে নিয়ে কৌতুক পাঠায়

        বিস্মিত সূর্যের সভা ত্বরিতে পারায়ে--

        পরিহাসচ্ছটা ফেলে সুদূরে হারায়ে,

                 সৌর বিদূষক পায় ছুটি।

আমার জীবনকক্ষে জানি না কী হেতু,

মাঝে মাঝে এসে পড়ে খ্যাপা ধূমকেতু--

        তুচ্ছ প্রলাপের পুচ্ছ শূন্যে দেয় মেলি,

        ক্ষণতরে কৌতুকের ছেলেখেলা খেলি

                 নেড়ে দেয় গম্ভীরের ঝুঁটি।

এ জগৎ মাঝে মাঝে কোন্‌ অবকাশে

কখনো বা মৃদুস্মিত কভু উচ্চহাসে

        হেসে ওঠে, দেখা যায় আলোকে ঝলকে--

        তারা কেহ ধ্রুব নয়, পলকে পলকে

                 চিহ্ন তার নিয়ে যায় মুছে।

তিমির-আসনে যবে ধ্যানমগ্ন রাতি

উল্কাবরিষনকর্তা করে মাতামাতি--

        দুই হাতে মুঠা মুঠা কৌতুকের কণা

        ছড়ায় হরির লুঠ, নাহি যায় গনা,

                 প্রহর-কয়েক যায় ঘুচে।

অনেক অদ্ভুত আছে এ বিশ্বসৃষ্টিতে,

বিধাতার স্নেহ তাহে সহাস্য দৃষ্টিতে।

        তেমনি হালকা হাসি দেবতার দানে

        রয়েছে খচিত হয়ে আমার সম্মানে--

                 মূল্য তার মনে মনে জানি।

এত বুড়ো কোনোকালে হব নাকো আমি

হাসি-তামাশারে যবে কব ছ্যাব্‌লামি।

        এ নিয়ে প্রবীণ যদি করে রাগারাগি

        বিধাতার সাথে তারে করি ভাগাভাগি

        হাসিতে হাসিতে লব মানি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

232
Verses

THE SAME lotus of our clime blooms here in the alien water with the same sweetness, under another name.
আরো দেখুন
কুয়ার ধারে
Verses
তোমার কাছে চাই নি কিছু,
             জানাই নি মোর নাম--
তুমি যখন বিদায় নিলে
             নীরব রহিলাম।
একলা ছিলেম কুয়ার ধারে
             নিমের ছায়াতলে,
কলস নিয়ে সবাই তখন
             পাড়ায় গেছে চলে।
আমায় তারা ডেকে গেল,
             "আয় গো, বেলা যায়।'
কোন্‌ আলসে রইনু বসে
             কিসের ভাবনায়।
পদধ্বনি শুনি নাইকো
             কখন তুমি এলে।
কইলে কথা ক্লান্তকণ্ঠে
             করুণ চক্ষু মেলে--
"তৃষাকাতর পান্থ আমি'--
             শুনে চমকে উঠে
জলের ধারা দিলেম ঢেলে
             তোমার করপুটে।
মর্মরিয়া কাঁপে পাতা,
             কোকিল কোথা ডাকে,
বাবলা ফুলের গন্ধ ওঠে
             পল্লীপথের বাঁকে।
যখন তুমি শুধালে নাম
             পেলেম বড়ো লাজ,
তোমার মনে থাকার মতো
             করেছি কোন্‌ কাজ।
তোমায় দিতে পেরেছিলেম
             একটু তৃষার জল,
এই কথাটি আমার মনে
             রহিল সম্বল।
কুয়ার ধারে দুপুরবেলা
             তেমনি ডাকে পাখি,
তেমনি কাঁপে নিমের পাতা--
             আমি বসেই থাকি।
আরো দেখুন
সম্বরণ
Verses
আজকে আমার বেড়া-দেওয়া বাগানে
বাতাসটি বয় মনের-কথা-জাগানে।
         আজকে কেবল বউ-কথা-কও ডাকে
         কৃষ্ণচূড়ার পুষ্প-পাগল শাখে--
  আমি আছি তরুর তলায় পা মেলি,
  সামনে অশোক টগর চাঁপা চামেলি।
  আজকে আমার বেড়া-দেওয়া বাগানে
  বাতাসটি বয় মনের-কথা-জাগানে।
  এমনিতরো বাতাস-বওয়া সকালে
  নিজেরে মন হাজারো বার ঠকালে।
           আপনারে হায় চিত-উদাস গানে
           উড়িয়ে দিলে অজানিতের পানে,
      চিরদিন যা ছিল নিজের দখলে
      দিয়ে দিলে পথের পান্থ সকলে।
আজকে আমার বেড়া-দেওয়া বাগানে
বাতাসটি বয় মনের-কথা-জাগানে।
ভেবেছি তাই আজকে কিছুই গাব না
গানের সঙ্গে গলিয়ে প্রাণের ভাবনা।
       আপনা ভুলে ওরে ভাবোন্মাদ,
       দিস নে ভেঙে তোর বেদনা-বাঁধ--
   মনের সঙ্গে মনের কথা গাঁথা সে।
   গাব না গান আজকে দখিন বাতাসে।
আজকে আমার বেড়া-দেওয়া বাগানে
বাতাসটি বয় মনের-কথা-জাগানে।
আরো দেখুন