১২ (shesher obogahon sango koro)

শেষের অবগাহন সাঙ্গ করো কবি, প্রদোষের

নির্মলতিমিরতলে। ভৃতি তব সেবার শ্রমের

সংসার যা দিয়েছিল আঁকড়িয়া রাখিয়ো না বুকে;

এক প্রহরের মূল্য আরেক প্রহরে ফিরে নিতে

কুণ্ঠা কভু নাহি তার; বাহির-দ্বারের যে দক্ষিণা

অন্তরে নিয়ো না টেনে; এ মুদ্রার স্বর্ণলেপটুকু

দিনে দিনে হাতে হাতে ক্ষয় হয়ে লুপ্ত হয়ে যাবে,

উঠিবে কলঙ্কলেখা ফুটি। ফল যদি ফলায়েছ বনে,

মাটিতে ফেলিয়া তার হোক অবসান। সাঙ্গ হল

ফুল ফোটাবার ঋতু, সেই সঙ্গে সাঙ্গ হয়ে যাক

লোকমুখবচনের নিশ্বাসপবনে দোল খাওয়া।

পুরস্কারপ্রত্যাশায় পিছু ফিরে বাড়ায়ো না হাত

যেতে যেতে; জীবনে যা-কিছু তব সত্য ছিল দান

মূল্য চেয়ে অপমান করিয়ো না তারে; এ জনমে

শেষ ত্যাগ হোক তব ভিক্ষাঝুলি, নববসন্তের

আগমনে অরণ্যের শেষ শুষ্ক পত্রগুচ্ছ যথা।

যার লাগি আশাপথ চেয়ে আছ সে নহে সম্মান,

সে যে নবজীবনের অরুণের আহ্বান-ইঙ্গিত,

নবজাগ্রতের ভালে প্রভাতের জ্যোতির তিলক।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

আট
Verses
আমাকে এনে দিল এই বুনো চারাগাছটি ।
                   পাতার রঙ হলদে-সবুজ,
            ফুলগুলি যেন আলো পান করবার
শিল্প-করা পেয়ালা,বেগুনি রঙের
                   প্রশ্ন করি "নাম কী',
                   জবাব নেই কোনোখানে ।
ও আছে বিশ্বের অসীম অপরিচিতের মহলে
          যেখানে আছে আকাশের নামহারা তারা ।
         আমি ওকে ধরে এনেছি একটি ডাক-নামে
                  আমার একলা জানার নিভৃতে ।
                      ওর নাম পেয়ালী ।
বাগানের নিমন্ত্রণে এসেছে ডালিয়া, এসেছে ফুশিয়া,
                   এসেছে ম্যারিগোল্ড্‌,
ও আছে অনাদরের অচিহ্নিত স্বাধীনতায়,
                     জাতে বাঁধা পড়ে নি;
                     ও বাউল,ও অসামাজিক ।
দেখতে দেখেতে ওই খসে পড়ল ফুল ।
            যে শব্দটুকু হল বাতাসে
                          কানে  এল না ।
ওর কুষ্ঠির রাশিচক্র যে নিমেষগুলির সমবায়ে
                    অণুপরিমাণ তার অঙ্ক,
ওর বুকের গভীরে যে মধু আছে
                    কণাপরিমাণ  তার বিন্দু ।
একটুকু কালের মধ্যে সম্পূর্ণ ওর যাত্রা,
           একটি কল্পে যেমন সম্পূর্ণ
              আগুনের-পাপড়ি-মেলা সূর্যের বিকাশ ।
ওর ইতিহাসটুকু অতি ছোটো পাতার কোণে
         বিশ্বলিপিকারের অতি ছোটো কলমে লেখা ।
তবু তারই সঙ্গে সঙ্গে উদ্‌ঘাটিত হচ্ছে বৃহৎ ইতিহাস,
            দৃষ্টি চলে না এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠায় ।
                       শতাব্দীর যে নিরন্তর স্রোত বয়ে চলেছে
            বিলম্বিত তালের  তরঙ্গের মতো,
                   যে ধারায় উঠল নামল কত শৈলশ্রেণী,
             সাগরে মরুতে কত হল বেশপরিবর্তন,
সেই নিরবধি কালেরই দীর্ঘ প্রবাহে এগিয়ে এসেছে
          এই ছোটো ফুলটির  আদিম সংকল্প
                    সৃষ্টির ঘাতপ্রতিঘাতে ।
   লক্ষ লক্ষ বৎসর  এই ফুলের ফোটা-ঝরার পথে
          সেই পুরাতনসংকল্প রয়েছে নুতন,রয়েছে সজীবসচল
                       ওর শেষ সমাপ্ত ছবি আজও দেয় নি দেখা ।
   এই দেহহীন সংকল্প,সেই রেখাহীন ছবি
                   নিত্য হয়ে আছে কোন্‌অদৃশ্যেরধ্যানে!
                             যে অদৃশ্যের অন্তহীন কল্পনায় আমি আছি,
                                  যে অদৃশ্যে বিধৃত সকল মানুষের ইতিহাস
                                                 অতীতে ভবিষ্যতে ।
আরো দেখুন
এসো আজি সখা
Verses
এসো আজি সখা বিজন পুলিনে
              বলিব মনের কথা;
মরমের তলে যা-কিছু রয়েছে
              লুকানো মরম-ব্যথা।
সুচারু রজনী, মেঘের আঁচল
              চাপিয়া অধরে হাসিছে শশি,
বিমল জোছনা সলিলে মজিয়া
              আঁধার মুছিয়া ফেলেছে নিশি,
কুসুম কাননে বিনত আননে
       মুচকিয়া হাসে গোলাপবালা,
বিষাদে মলিনা, শরমে নিলীনা,
       সলিলে দুলিছে কমলিনী বধূ
ম্লানরূপে করি সরসী আলা!
       আজি, খুলিয়া ফেলিব প্রাণ
       আজি, গাইব কত গান,
আজি, নীরব নিশীথে,চাঁদের হাসিতে
       মিশাব অফুট তান!
দুই হৃদয়ের যত আছে গান
       এক সাথে আজি গাইব,
দুই হৃদয়ের যত আছে কথা
       দুইজনে আজি কহিব;
কতদিন সখা, এমন নিশীথে
       এমন পুলিনে বসি,
মানসের গীত গাহিয়া গাহিয়া
       কাটাতে পাই নি নিশি!
স্বপনের মতো সেই ছেলেবেলা
       সেইদিন সথা মনে কি হয়?
হৃদয় ছিল গো কবিতা মাখানো
      প্রকৃতি আছিল কবিতাময়,
কী সুখে কাটিত পূরণিমা রাত
      এই নদীতীরে আসি,
[কু]সুমের মালা গাঁথিয়া গাঁথিয়া
      গনিয়া তারকারাশি।
যমুনা সুমুখে যাইত বহিয়া
      সে যে কী সুখের গাইত গান,
ঘুম ঘুম আঁখি আসিত মুদিয়া
      বিভল হইয়া যাইত প্রাণ!
[কত] যে সুখের কল্পনা আহা
      আঁকিতাম মনে মনে
[সা] রাটি জীবন কাটাইব যেন
              ...    
তখন কি সখা জানিতাম মনে
      পৃথিবী কবির নহে
কল্পনা আর যতই প্রবল
      ততই সে দুখ সহে!
এমন পৃথিবী, শোভার আকর
      পাখি হেথা করে গান
কাননে কাননে কুসুম ফুটিয়া
      পরিমল করে দান!
আকাশে হেথায় উঠে গো তারকা
      উঠে সুধাকর, রবি,
বরন বরন জলদ দেখিছে
      নদীজলে মুখছবি,
এমন পৃথিবী এও কারাগার
      কবির মনের কাছে!
যে দিকে নয়ন ফিরাইতে যায়
      সীমায় আটক আছে!
তাই [যে] গো সখা মনে মনে আমি
      গড়েছি একটি বন,
সারাদিন সেথা ফুটে আছে ফুল,
      গাইছে বিহগগণ!
আপনার ভাবে হইয়া পাগল
      রাতদিন সুখে আছি গো সেথা
বিজন কাননে পাখির মতন
      বিজনে গাইয়া মনের ব্যথা!
কতদিন পরে পেয়েছি তোমারে,
      ভুলেছি মরমজ্বালা;
দুজনে মিলিয়া সুখের কাননে
      গাঁথিব কুসুমমালা!
দুজনে মিলিয়া পূরণিমা রাতে
      গাইব সুখের গান
যমুনা পুলিনে করিব দুজনে
      সুখ নিশা অবসান,
আমার এ মন সঁপিয়া তোমারে
      লইব তোমার মন
হৃদয়ের খেলা খেলিয়া খেলিয়া
      কাটাইব সারাক্ষণ!
এইরূপে সখা কবিতার কোলে
      পোহায়ে যাইবে প্রাণ
সুখের স্বপন দেখিয়া দেখিয়া
      গাহিয়া সুখের গান।
আরো দেখুন
3
Verses
আমরা চলি সমুখপানে,
     কে আমাদের বাঁধবে।
রইল যারা পিছুর টানে
     কাঁদবে তারা কাঁদবে।
ছিঁড়ব বাধা রক্ত-পায়ে,
চলব ছুটে রৌদ্রে ছায়ে,
জড়িয়ে ওরা আপন গায়ে
     কেবলি ফাঁদ ফাঁদবে।
     কাঁদবে ওরা কাঁদবে।
রুদ্র মোদের হাঁক দিয়েছে
     বাজিয়ে আপন তূর্য।
মাথার 'পরে ডাক দিয়েছে
     মধ্যদিনের সূর্য।
মন ছড়াল আকাশ ব্যেপে,
আলোর নেশায় গেছি খেপে,
ওরা আছে দুয়ার ঝেঁপে,
     চক্ষু ওদের ধাঁধবে।
     কাঁদবে ওরা কাঁদবে।
সাগর-গিরি করব রে জয়,
     যাব তাদের লঙ্ঘি।
একলা পথে করি নে ভয়,
     সঙ্গে ফেরেন সঙ্গী।
আপন ঘোরে আপনি মেতে
আছে ওরা গণ্ডী পেতে,
ঘর ছেড়ে আঙিনায় যেতে
     বাধবে ওদের বাধবে।
     কাঁদবে ওরা কাঁদবে।
আরো দেখুন