৫ (poshchater nityo sohochor)

পশ্চাতের নিত্যসহচর, অকৃতার্থ হে অতীত,

অতৃপ্ত তৃষ্ণার যত ছায়ামূর্তি প্রেতভূমি হতে

নিয়েছ আমার সঙ্গ, পিছু-ডাকা অক্লান্ত আগ্রহে

আবেশ-আবিল সুরে বাজাইছ অস্ফুট সেতার,

বাসাছাড়া মৌমাছির গুন গুন গুঞ্জরণ যেন

পুষ্পরিক্ত মৌনী বনে। পিছু হতে সম্মুখের পথে

দিতেছ বিস্তীর্ণ করি অস্তশিখরের দীর্ঘ ছায়া

নিরন্ত ধূসরপাণ্ডু বিদায়ের গোধূলি রচিয়া।

পশ্চাতের সহচর, ছিন্ন করো স্বপ্নের বন্ধন;

রেখেছ হরণ করি মরণের অধিকার হতে

বেদনার ধন যত, কামনার রঙিন ব্যর্থতা--

মৃত্যুরে ফিরায়ে দাও। আজি মেঘমুক্ত শরতের

দূরে-চাওয়া আকাশেতে ভারমুক্ত চিরপথিকের

বাঁশিতে বেজেছে ধ্বনি, আমি তারি হব অনুগামী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

26
Verses
পেয়েছি ছুটি বিদায় দেহ ভাই,
সবারে আমি প্রণাম করে যাই।
            ফিরায়ে দিনু দ্বারের চাবি
            রাখি না আর ঘরের দাবি,
সবার আজি প্রসাদবাণী চাই,
সবারে আমি প্রণাম করে যাই।
অনেক দিন ছিলাম প্রতিবেশী,
দিয়েছি যত নিয়েছি তার বেশি।
            প্রভাত হয়ে এসেছে রাতি,
            নিবিয়া গেল কোণের বাতি,
পড়েছে ডাক চলেছি আমি তাই ,
সবারে আমি প্রণাম করে যাই।
আরো দেখুন
হোক্‌ ভারতের জয়!
Verses
এসো এসো ভ্রাতৃগণ! সরল অন্তরে
        সরল প্রীতির ভরে
        সবে মিলি পরস্পরে
আলিঙ্গন করি আজ বহুদিন পরে।
এসেছে জাতীয় মেলা ভারতভূষণ,
        ভারত সমাজে তবে
        হৃদয় খুলিয়া সবে
এসো এসো এসো করি প্রিয়সম্ভাষণ।
দূর করো আত্মভেদ বিপদ-অঙ্কুর,
        দূর করো মলিনতা
        বিলাসিতা অলসতা,
হীনতা ক্ষীণতা দোষ করো সবে দূর।
ভীরুতা বঙ্গীয়জন-কলঙ্ক-প্রধান --
        সে-কলঙ্ক দূর করো,
        সাহসিক তেজ ধরো,
স্বকার্যকুশল হও হয়ে একতান।
হল না কিছুই করা যা করিতে এলে --
        এই দেখো হিন্দুমেলা,
        তবে কেন কর হেলা?
কী হবে কী হবে আর তুচ্ছ খেলা খেলে?
সাগরের স্রোতসম যাইছে সময়।
        তুচ্ছ কাজে কেন রও,
        স্বদেশহিতৈষী হও --
স্বদেশের জনগণে দাও রে অভয়।
নাহি আর জননীর পূর্বসুতগণ --
        হরিশ্চন্দ্র যুধিষ্ঠির
        ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণ বীর,
অনন্তজলধিতলে হয়েছে মগন।
নাহি সেই রাম আদি সম্রাট প্রাচীন,
        বিক্রম-আদিত্যরাজ,
        কালিদাস কবিরাজ,
পরাশর পারাশর পণ্ডিত প্রবীণ।
সকলেই জল বায়ু তেজ মৃত্তিকায়
        মিশাইয়া নিজদেহ
        অনন্ত ব্রহ্মের গেহ
পশেছে কীর্তিরে শুধু রাখিয়ে ধরায়।
আদরে সে প্রিয় সখী আচ্ছাদি গগনে
        সে লোকবিশ্রুত নাম
        সে বিশ্ববিজয়ী ধাম
নির্ঘোষে ঘুষিছে সদা অখিল ভুবনে।
যবনের রাজ্যকালে কীর্তির আধার
        চিতোর-নগর নাম
        অতুলবীরত্বধাম,
কেমন ছিল রে মনে ভাবো একবার।
এইরূপ কত শত নগর প্রাচীন
        সুকীর্তি-তপন-করে
        ভারত উজ্জ্বল ক'রে
অনন্ত কালের গর্ভে হয়েছে বিলীন।
নাহি সেই ভারতের একতা-বিভব,
        পাষাণ বাঁধিয়া গলে
        সকলের পদতলে
লুটাইছে আর্যগণ হইয়া নীরব।
গেল, হায়, সব সুখ অভাগী মাতার --
        ছিল যত মনোআশা
        নিল কাল সর্বনাশা,
প্রসন্ন বদন হল বিষণ্ণ তাঁহার।
কী আর হইবে মাতা খুলিয়া বদন।
        দীপ্তভানু অস্ত গেল,
        এবে কালরাত্রি এল,বসনে আবরি মুখ কাঁদো সর্বক্ষণ।
বিশাল অপার সিন্ধু, গভীর নিস্বনে
        যেখানে যেখানে যাও
        কাঁদিতে কাঁদিতে গাও --
ডুবিল ভারতরবি অনন্ত জীবনে।
সুবিখ্যাত গৌড় যেই বঙ্গের রতন --
        তার কীর্তিপ্রতিভায়
        খ্যাতাপন্ন এ ধরায়
হয়েছিল একদিন বঙ্গবাসিগণ।
গেল সে বঙ্গের জ্যোতিঃ কিছুকাল পরে --
        কোনো চিহ্ন নাহি তার,
        পরিয়া হীনতাহার,
ডুবিয়াছে এবে বঙ্গ কলঙ্কসাগরে।
হিন্দুজনভ্রাতৃগণ! করি হে বিনয় --
        একতা উৎসাহ ধরো,
        জাতীয় উন্নতি করো,
ঘুষুক ভুবনে সবে ভারতের জয়।
জগদীশ! তুমি, নাথ, নিত্য-নিরাময়
        করো কৃপা বিতরণ,
        অধিবাসিজনগণ,
করুক উন্নতি -- হোক্‌ ভারতের জয়!
আরো দেখুন
পত্র
Verses
শ্রীমতী ইন্দিরা প্রাণাধিকাসু
স্টীমার । খুলনা
বসে বসে লিখলেম চিঠি
পুরিয়ে দিলাম চারটি পিঠই,
পেলেম না তার জবাবই
এমনি তোমার নবাবী!
দুটো ছত্র লিখবি পত্র
          একলা তোমার "রব্‌-কা' যে!
পোড়ারমুখী তাও হবে না
          আলিস্যি তোর সব কাজে!
ঝগড়াটে নয় স্বভাব আমার
          নইলে দেখতে কারখানা,
গলার চোটে আকাশ ফেটে
          হয়ে যেত চারখানা,
বাছা আমার দেখতে পেতে
          এই কলমের ধারখানা!
তোমার মতো এমনি মা তো
          দেখি নি এ বঙ্গে গো,
মায়া দয়া যা-কিছু সে
          যদিন থাকে সঙ্গে গো!
চোখের আড়াল প্রাণের আড়াল
          কেমনতরো ঢঙ এ গো!
তোমার প্রাণ যে পাষাণ-সম
          জানি সেটা রষশফ তফষ!
সংসারে যে সবি মায়া
          সেটা নেহাত গল্প না!
বাইরেতে এক ভিতরে এক
          এ যেন কার খল-পনা!
সত্যি বলে যেটা দেখি
          সেটা আমার কল্পনা!
ভেবে একবার দেখো বাছা
          ফিলজফি অল্প না!
মস্ত একটা বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ
          কে রেখেছে সাজিয়ে
যা করি তা কেবল "থোড়া
          জমির বাস্তে কাজিয়ে!'
     বৃষ্টি পড়ে চিঠি না পাই,
     মনটা নিয়ে ততই হাঁপাই,
শূন্যে চেয়ে ততই ভাবি
          সকলি ভোজ-বাজি এ!
ফিলজফি মনের মধ্যে
            ততই ওঠে গাঁজিয়ে!
দূর হোক গে, এত কথা
          কেনই বলি তোমাকে!
ভরা নায়ে পা দিয়েছ,
          আছ তুমি দেমাকে!
...
তোমার সঙ্গে আর কথা না,
          তুমি এখন লোকটা মস্ত,
কাজ কি বাপু, এইখেনেতেই
          রবীন্দ্রনাথ হলেন অস্ত।
আরো দেখুন