25 (light thy signal father)

LIGHT THY signal, Father, for us who have strayed far away from thee.

Our dwelling is among ruins haunted by lowering shadows of fear.

Our heart is bent under the load of despair and we insult thee

when we grovel to dust at every favour or threat that mocks our manhood.

For thus is desecrated the dignity of thee in us thy children

for thus we put out our light and in our abject fear make it seem that our orphaned world is blind and godless.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মাটির ডাক
Verses
                                   ১
          শালবনের ওই আঁচল ব্যেপে
          যেদিন হাওয়া উঠত খেপে
            ফাগুন-বেলার বিপুল ব্যাকুলতায়,
          যেদিন দিকে দিগন্তরে
          লাগত পুলক কী মন্তরে
            কচি পাতার প্রথম কলকথায়,
          সেদিন মনে হত কেন
          ওই ভাষারই বাণী যেন
            লুকিয়ে আছে হৃদয়কুঞ্জছায়ে;
          তাই অমনি নবীন রাগে
          কিশলয়ের সাড়া লাগে
            শিউরে-ওঠা আমার সারা গায়ে।
          আবার যেদিন আশ্বিনেতে
          নদীর ধারে ফসল-খেতে
            সূর্য-ওঠার রাঙা-রঙিন বেলায়
          নীল আকাশের কূলে কূলে
          সবুজ সাগর উঠত দুলে
            কচি ধানের খামখেয়ালি খেলায়--
          সেদিন আমার হত মনে
          ওই সবুজের নিমন্ত্রণে
            যেন আমার প্রাণের আছে দাবি;
          তাই তো হিয়া ছুটে পালায়
          যেতে তারি যজ্ঞশালায়,
            কোন্‌ ভুলে হায় হারিয়েছিল চাবি।
                                ২
          কার কথা এই আকাশ বেয়ে
          ফেলে আমার হৃদয় ছেয়ে,
            বলে দিনে, বলে গভীর রাতে--
          "যে-জননীর কোলের 'পরে
          জন্মেছিলি মর্ত-ঘরে,
            প্রাণ ভরা তোর যাহার বেদনাতে,
          তাহার বক্ষ হতে তোরে
          কে এনেছে হরণ করে,
            ঘিরে তোরে রাখে নানান পাকে।
          বাঁধন-ছেঁড়া তোর সে নাড়ী
          সইবে না এই ছাড়াছাড়ি,
            ফিরে ফিরে চাইবে আপন মাকে।'
          শুনে আমি ভাবি মনে
          তাই ব্যথা এই অকারণে,
            প্রাণের মাঝে তাই তো ঠেকে ফাঁকা,
          তাই বাজে কার করুণ সুরে--
          "গেছিস দূরে অনেক দূরে',
            কী যেন তাই চোখের 'পরে ঢাকা।
          তাই এতদিন সকল খানে
          কিসের অভাব জাগে প্রাণে
            ভালো করে পাই নি তাহা বুঝে;
          ফিরেছি তাই নানামতে
          নানান হাটে নানান পথে
            হারানো কোল কেবল খুঁজে খুঁজে।
                                ৩
          আজকে খবর পেলেম খাঁটি -
          মা আমার এই শ্যামল মাটি,
            অন্নে ভরা শোভার নিকেতন;
          অভ্রভেদী মন্দিরে তার
          বেদী আছে প্রাণদেবতার,
            ফুল দিয়ে তার নিত্য আরাধন।
          এইখানে তার অঙ্ক-মাঝে
          প্রভাতরবির শঙ্খ বাজে,
            আলোর ধারায় গানের ধারা মেশে;
          এইখানে সে পূজার কালে
          সন্ধ্যারতির প্রদীপ জ্বালে
            শান্ত মনে ক্লান্ত দিনের শেষে।
          হেথা হতে গেলেম দূরে
          কোথা যে ইঁটকাঠের পুরে
            বেড়া-ঘেরা বিষম নির্বাসনে;
          তৃপ্তি যে নাই, কেবল নেশা,
          ঠেলাঠেলি, নাই তো মেশা,
            আবর্জনা জমে উপার্জনে।
          যন্ত্র-জাঁতায় পরান কাঁদায়,
          ফিরি ধনের গোলকধাঁধায়,
            শূন্যতারে সাজাই নানা সাজে;
          পথ বেড়ে যায় ঘুরে ঘুরে,
          লক্ষ্য কোথায় পালায় দূরে,
            কাজ ফলে না অবকাশের মাঝে।
                ৪
          যাই ফিরে যাই মাটির বুকে,
          যাই চলে যাই মুক্তি-সুখে,
            ইঁটের শিকল দিই ফেলে দিই টুটে;
          আজ ধরণী আপন হাতে
          অন্ন দিলেন আমার পাতে,
            ফল দিয়েছেন সাজিয়ে পত্রপুটে।
          আজকে মাঠের ঘাসে ঘাসে
          নিশ্বাসে মোর খবর আসে
            কোথায় আছে বিশ্বজনের প্রাণ;
          ছয় ঋতু ধায় আকাশ-তলায়,
          তার সাথে আর আমার চলায়
            আজ হতে না রইল ব্যবধান।
          যে দূতগুলি গগনপারের,
          আমার ঘরের রুদ্ধ দ্বারের
            বাইরে দিয়েই ফিরে ফিরে যায়,
          আজ হয়েছে খোলাখুলি
          তাদের সাথে কোলাকুলি
            মাঠের ধারে পথতরুর ছায়।
          কী ভুল ভুলেছিলেম, আহা,
          সব চেয়ে যা নিকট তাহা
            সুদূর হয়ে ছিল এতদিন;
          কাছেকে আজ পেলেম কাছে--
          চার দিকে এই যে ঘর আছে
            তার দিকে আজ ফিরল উদাসীন।
আরো দেখুন
হার-জিত
Verses
ভিমরুলে মৌমাছিতে হল রেষারেষি,
দুজনায় মহাতর্ক শক্তি কার বেশি।
ভিমরুল কহে, আছে সহস্র প্রমাণ
তোমার দংশন নহে আমার সমান।
মধুকর নিরুত্তর ছলছল-আঁখি--
বনদেবী কহে তারে কানে কানে ডাকি,
কেন বাছা, নতশির! এ কথা নিশ্চিত
বিষে তুমি হার মানো, মধুতে যে জিত।
আরো দেখুন
নারিকেল
Verses
সমুদ্রের ধারের জমিতেই নারিকেলের সহজ আবাস।  আমাদের আশ্রমের মাঠ সেই সমুদ্রকূল থেকে বহুদূরে।  এখানে অনেক যত্নে একটি নারিকেলকে পালন করে তোলা হয়েছে সে নিঃসঙ্গ নিষ্ফল নিস্তেজ।  তাকে দেখে মনে হয় সে যেন প্রাণপণে ঋজু হয়ে দাঁড়িয়ে দিগন্ত অতিক্রম করে কোনো-এক আকাঙ্খার ধনকে দেখবার চেষ্টা করছে।  নির্বাসিত তরুর মজ্জার মধ্যে সেই আকাঙ্খা।  এখানে আলোনা মাটিতে সমুদ্রের স্পর্শমাত্র নেই, গাছের শিকড় তার বাঞ্ছিত রস এখানে সন্ধান করছে, পাচ্ছে না; সে উপবাসী, ধরণীর কাছে তার কান্নার সাড়া মিলছে না।  আকাশে উদ্যত হয়ে উঠে তার যে সন্ধানদৃষ্টিকে সে দিগন্তপারে পাঠাচ্ছে দিনান্তে সন্ধ্যাবেলায় সেই তার সন্ধানেরই সজীব মূর্তির মতো পাখি তার দোদুল্যমান শাখায় প্রতিদিন ফিরে ফিরে আসে।
আজ বসন্তে প্রথম কোকিল ডেকে উঠল।  দক্ষিণ হাওয়ায় আজ কি সমুদ্রের বাণী এসে পৌঁছল, যে বাণী সমুদ্রের কূলে কূলে বধির মাটির সুপ্তিকে নিয়তই অশান্ত তরঙ্গমন্ত্রে আন্দোলিত করে তুলেছে।  তাই কি আজ সেই দক্ষিণসমুদ্র থেকে তার তান্ডবনৃত্যের স্পর্শ এই গাছের শাখায় শাখায় চঞ্চল।  সমুদ্রের রুদ্রডমরুর জাগরণী কি এরই পল্লবমর্মরে তার ক্ষীণ প্রতিধ্বনি জাগিয়েছে।  বিরহী তরু কি আজ আপন অন্তরে সেই সুদূরবন্ধুর বার্তা পেল, যে বন্ধুর মহাগানে অভিনন্দিত হয়ে কোন্‌ অতীত যুগে একদিন কোনো প্রথম নারিকেল প্রাণযাত্রীরূপে জীবলোকে যাত্রা শুরু করেছিল?  সেই যুগারম্ভপ্রভাতের আদিম উৎসবে মহাপ্রাণের যে স্পর্শপুলক জেগেছিল তাই আজফিরে পেয়ে কি ঐ গাছটির সংবৎসরের অবসাদ আজ বসন্তে ঘুচল।  তার জীবনের জয়পতাকা আবার আজ কি ঐ নব উৎসাহে নীলাম্বরে আন্দোলিত।  যেন একটা আচ্ছাদন উঠে গেল, তার মজ্জার মধ্যে প্রাণশক্তির যে আশ্বাসবাণী প্রচ্ছন্ন হয়েছিল তাকেই আজ কি ফিরে পেলে, যে বাণী বলছে-- "চলো প্রাণতীর্থে, জয় করো মৃত্যুকে।'
সমুদ্রের কূল হতে বহুদূরে শব্দহীন মাঠে
নিঃসঙ্গ প্রবাস তব, নারিকেল-- দিনরাত্রি কাটে
যে-প্রচ্ছন্ন আকাঙ্খায় বুঝিতে পার না তাহা নিজে।
দিগন্তেরে অতিক্রমি দেখিতে চাহিছ তুমি কী-যে
দীর্ঘ করি দেহ তব, মজ্জায় রয়েছে তার স্মৃতি
গূঢ় হয়ে।  মাটির গভীরে যে রস খুঁজিছ নিতি
কী স্বাদ পাও না তাহে, অন্নে তার কী অভাব আছে,
তাই তো শিকড় উপবাসী, কাঁদে ধরণীর কাছে।
আকাশে রয়েছ চেয়ে রাত্রিদিন কিসের প্রত্যাশে
বাক্যহারা! বারবার শূন্য হতে ফিরে ফিরে আসে
তোমারি সন্ধানরূপী সন্ধ্যাবেলাকার শ্রান্ত পাখি
লম্বিত শাখায় তব।
                        ওই শুন উঠিয়াছে ডাকি
বসন্তের প্রথম কোকিল।  সে বাণী কি এল প্রাণে
দক্ষিণপবন হতে, যে বাণী সমুদ্র শুধু জানে;
পৃথিবীর কূলে কূলে যে বাণী গম্ভীর আন্দোলনে
বধির মাটির সুপ্তি কাঁপায়ে তুলিছে প্রতিক্ষণে
অশান্ততরঙ্গমন্দ্রে, দক্ষিণসাগর হতে একি
তান্ডবনৃত্যের স্পর্শ শাখার হিল্লোলে তব দেখি
মুহুর্মুহু চঞ্চলিত।
                        রুদ্রডমরুর জাগরণী
পল্লবমর্মরে তব পেয়েছে কি ক্ষীণ প্রতিধ্বনি।
কান পেতে ছিলে তুমি-- হে বিরহী, বসন্তে কি আজি
সুদূরবন্ধুর বার্তা অন্তরে উঠিল তব বাজি--
যে বন্ধুর মহাগানে একদিন সুর্যের আলোতে
রোমাঞ্চিয়া বাহিরিলে প্রাণযাত্রী, অন্ধকার হতে?
আজি কি পেয়েছ ফিরে প্রাণের পরশহর্ষ সেই
যুগারম্ভপ্রভাতের আদি-উৎসবের।  নিমেষেই
অবসাদ দূরে গেল, জীবনের বিজয়পতাকা
আবার চঞ্চল হল নীলাম্বরে, খুলে গেল ঢাকা,
খুঁজে পেলে যে আশ্বাস অন্তরে কহিছে রাত্রিদিন--
"প্রাণতীর্থে চলো, মৃত্যু করো জয়, শ্রান্তিক্লান্তিহীন।'
আরো দেখুন