সতেরো (juddher damama uthlo beje)

          যুদ্ধের দামামা উঠল বেজে।

ওদের ঘাড় হল বাঁকা, চোখ হল রাঙা,

          কিড়্‌মিড়্‌ করতে লাগল দাঁত।

মানুষের কাঁচা মাংসে যমের ভোজ ভর্তি করতে

                     বেরোল দলে দলে।

সবার আগে চলল দয়াময় বুদ্ধের মন্দিরে

                      তাঁর পবিত্র আর্শীবাদের আশায়।

            বেজে উঠল তূরী ভেরি গরগর শব্দে,

                     কেঁপে উঠল পৃথিবী।

 

         ধূপ জ্বলল, ঘণ্টা বাজল, প্রার্থনার রব উঠল আকাশে

                   "করুণাময়,সফল হয় যেন কামনা'--

কেননা, ওরা যে জাগাবে মর্মভেদী আর্তনাদ

                             অভ্রভেদ ক'রে,

          ছিঁড়ে ফেলবে ঘরে ঘরে ভালোবাসার বাঁধনসূত্র,

                   ধ্বজা তুলবে লুপ্ত পল্লীর ভস্মস্তূপে,

          দেবে ধুলোয় লুটিয়ে বিদ্যানিকেতন,

                   দেবে চুরমার করে সুন্দরের আসনপীঠ।

তাই তো চলেছে ওরা দয়াময় বুদ্ধের নিতে আশীর্বাদ।

          বেজে উঠলো তূরী ভেরি গরগর শব্দে,

                             কেঁপে উঠলো পৃথিবী।

 

ওরা হিসাব রাখবে মরে পড়ল কত মানুষ,

                             পঙ্গু হয়ে গেল কয়জনা।

তারি হাজার সংখ্যার তালে তালে

                   ঘা মারবে জয়ডঙ্কায়।

পিশাচের অট্টহাসি জাগিয়ে তুলবে

শিশু আর নারীদেহের ছেঁড়া টুকরোর ছড়াছড়িতে।

ওদের এই মাত্র নিবেদন, যেন বিশ্বজনের কানে পারে

                                  মিথ্যামন্ত্র দিতে,

    যেন বিষ পারে মিশিয়ে দিতে নিশ্বাসে।

সেই আশায় চলেছে ওরা দয়াময় বুদ্ধের মন্দিরে

                          নিতে তাঁর প্রসন্ন মুখের আশীর্বাদ।

                বেজে উঠছে তূরী ভেরি গরগর শব্দে,

                                   কেঁপে উঠছে  পৃথিবী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অল্পেতে খুশি হবে
Verses
অল্পেতে খুশি হবে
       দামোদর শেঠ কি।
মুড়কির মোয়া চাই,
       চাই ভাজা ভেটকি।
আনবে কট্‌কি জুতো,
       মট্‌কিতে ঘি এনো,
জলপাইগুঁড়ি থেকে
       এনো কই জিয়োনো--
চাঁদনিতে পাওয়া যাবে
       বোয়ালের পেট কি।
চিনেবাজারের থেকে
     এনো তো করমচা,
কাঁকড়ার ডিম চাই,
     চাই যে গরম চা,
নাহয় খরচা হবে
     মাথা হবে হেঁট কি।
মনে রেখো বড়ো মাপে
     করা চাই আয়োজন,
কলেবর খাটো নয়--
     তিন মোন প্রায় ওজন।
খোঁজ নিয়ো ঝড়িয়াতে
     জিলিপির রেট কী।
আরো দেখুন
প্রকাশ
Verses
খুঁজতে যখন এলাম সেদিন কোথায় তোমার গোপন অশ্রুজল,
           সে পথ আমায় দাও নি তুমি বলে।
বাহির-দ্বারে অধীর খেলা, ভিড়ের মাঝে হাসির কোলাহল,
                    দেখে এলেম চলে।
              এই ছবি মোর ছিল মনে--
              নির্জনমন্দিরের কোণে
                    দিনের অবসানে
সন্ধ্যাপ্রদীপ আছে চেয়ে ধ্যানের চোখে সন্ধ্যাতারার পানে।
              নিভৃত ঘর কাহার লাগি
              নিশীত-রাতে রইল জাগি,
                    খুলল না তার দ্বার।
              হে চঞ্চলা, তুমি বুঝি
              আপনিও পথ পাও নি খুঁজি,
                    তোমার কাছে সে ঘর অন্ধকার।
জানি তোমার নিকুঞ্জে আজ পলাশ-শাখায় রঙের নেশা লাগে,
           আপন গন্ধে বকুল মাতোয়ারা।
কাঙাল সুরে দখিন বাতাস বনে বনে গুপ্ত কী ধন মাগে,
                    বেড়ায় নিদ্রাহারা।
              হায় গো তুমি জান না যে
              তোমার মনের তীর্থমাঝে
                         পূজা হয় নি আজও।
দেব্‌তা তোমার বুভুক্ষিত, মিথ্যা-ভূষায় কী সাজ তুমি সাজো।
              হল সুখের শয়ন পাতা,
              কণ্ঠহারের মানিক গাঁথা,
                       প্রমোদ-রাতের গান,
              হয় নি কেবল চোখের জলে
              লুটিয়ে মাথা ধুলার তলে
        আপন-ভোলা সকল-শেষের দান।
ভোলাও যখন তখন সে কোন্‌ মায়ার ঢাকা পড়ে তোমার 'পরে --
           ভুলবে যখন তখন প্রকাশ পাবে;
উষার মতো অমল হাসি জাগবে তোমার আঁখির নীলাম্বরে
                    গভীর অনুভাবে।
              ভোগ সে নহে, নয় বাসনা,
                  নয় আপনার উপাসনা,
                    নয়কো অভিমান--
সরল প্রেমের সহজ প্রকাশ, বাইরে যে তার নাই রে পরিমাণ।
              আপন প্রাণের চরম কথা
              বুঝবে যখন, চঞ্চলতা
                    তখন হবে চুপ।
              তখন দুঃখসাগর-তীরে
                  লক্ষ্মী উঠে আসবে ধীরে
                        রূপের কোলে পরম অপরূপ।
আরো দেখুন
প্রকাশবেদনা
Verses
আপন প্রাণের গোপন বাসনা
  টুটিয়া দেখাতে চাহি রে--
হৃদয়বেদনা হৃদয়েই থাকে,
  ভাষা থেকে যায় বাহিরে।
শুধু কথার উপরে কথা,
  নিষ্ফল ব্যাকুলতা।
বুঝিতে বোঝাতে দিন চলে যায়,
  ব্যথা থেকে যায় ব্যথা।
মর্মবেদন আপন আবেগে
  স্বর হয়ে কেন ফোটে না?
দীর্ণ হৃদয় আপনি কেন রে
  বাঁশি হয়ে বেজে ওঠে না?
আমি চেয়ে থাকি শুধু মুখে
  ক্রন্দনহারা দুখে--
শিরায় শিরায় হাহাকার কেন
  ধ্বনিয়া উঠে না বুকে?
অরণ্য যথা চিরনিশিদিন
  শুধু মর্মর স্বনিছে,
অনন্ত কালের বিজন বিরহ
  সিন্ধুমাঝারে ধ্বনিছে--
যদি ব্যাকুল ব্যথিত প্রাণ
  তেমনি গাহিত গান
চিরজীবনের বাসনা তাহার
  হইত মূর্তিমান!
তীরের মতন পিপাসিত বেগে
  ক্রন্দনধ্বনি ছুটিয়া
হৃদয় হইতে হৃদয়ে পশিত,
  মর্মে রহিত ফুটিয়া।
আজ    মিছে এ কথার মালা,
  মিছে এ অশ্রু ঢালা!
কিছু নেই পোড়া ধরণীমাঝারে
  বোঝাতে মর্মজ্বালা!
আরো দেখুন