বিচার (bichar)

      বিচার করিয়ো না।

                 যেখানে তুমি রয়েছ, সে তো

                       জগতে এক কোণা।

                 যেটুকু তব দৃষ্টি যায়

                       সেটুকু কতখানি,

                 যেটুকু শোন তাহার সাথে

                       মিশাও নিজবাণী।

                 মন্দ-ভালো সাদা ও কালো

                       রাখিছ ভাগে ভাগে।

                 সীমানা মিছে আঁকিয়া তোল

                       আপন-রচা দাগে।

                 সুরের বাঁশি যদি তোমার

                       মনের মাঝে থাকে,

                 চলিতে পথে আপন-মনে

                       জাগায়ে দাও তাকে।

                 গানের মাঝে তর্ক নাই,

                       কাজের নাই তাড়া।

                 যাহার খুশি চলিয়া যাবে,

                       যে খুশি দিবে সাড়া।

                 হ'ক-না তারা কেহ-বা ভালো

                       কেহ-বা ভালো নয়,

                 এক পথেরি পথিক তারা

                       লহো এ পরিচয়।

                       বিচার করিয়ো না।

                 হায় রে হায়, সময় যায়,

                       বৃথা এ আলোচনা।

                 ফুলের বনে বেড়ার কোণে

                       হেরো অপরাজিতা

                 আকাশ হতে এনেছে বাণী,

                       মাটির সে যে মিতা।

                 ওই তো ঘাসে আষাঢ়মাসে

                       সবুজে লাগে বান, --

                 সকল ধরা ভরিয়া দিল

                       সহজ তার দান।

                 আপনা ভুলি সহজ সুখে

                       ভরুক তব হিয়া,

                 পথিক, তব পথের ধন

                       পথেরে যাও দিয়া।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

14
Verses
নদীর একটা কোণে শুষ্ক মরা ডাল
স্রোতের ব্যাঘাত যদি করে,
সৃষ্টিশক্তি ভাসমান আবর্জনা নিয়ে
সেখানে প্রকাশ করে আপনার রচনাচাতুরী--
ছোটো দ্বীপ গড়ে তোলে, টেনে আনে শৈবালের দল,
তীরের যা পরিত্যক্ত নেয় সে কুড়ায়ে,
দ্বীপসৃষ্টি-উপাদানে যাহা-তাহা জোটায় সম্বল।
আমার রোগীর ঘরে আবদ্ধ আকাশে
তেমনি চলেছে সৃষ্টি
চৌদিকের সব হতে স্বতন্ত্র স্বরূপে।
তাহার কর্মের আবর্তন
ছোটো সীমাটিতে।
কপালেতে হাত দিয়ে দেখে
তাপ আছে কি না;
উদ্‌বিগ্ন চক্ষুর দৃষ্টি প্রশ্ন করে, ঘুম নেই কেন।
চুপিচুপি পা টিপিয়া
ঘরে আনে প্রভাতের আলো।
পথ্যের থালাটি নিয়ে হাতে
বার বার উপরোধে
রুচির বিরোধ লয় জিনি।
এলোমেলো যত-কিছু সযত্নে গুছায়ে রাখে
আঁচলে ধুলার রেশ ঝাড়ি।
দু হাতে সমান করি শয্যার কুঞ্চন
আসন প্রস্তুত রাখে শিয়রের কাছে
বিনিদ্র সেবার লাগি।
কথা হেথা ধীর স্বরে
দৃষ্টি হেথা বাষ্প দিয়ে ছোঁওয়া,
স্পর্শ হেথা কম্পিত করুণ--
জীবনের এই রুদ্ধ স্রোত
আপনার কেন্দ্রে আবর্তিত,
বাহিরের সংবাদের
ধারা হতে বিচ্ছিন্ন সুদূর।
একদিন বন্যা নামে, শৈবালের দ্বীপ যায় ভেসে;
পূর্ণ জীবনের যবে নামিবে জোয়ার
সেইমতো ভেসে যাবে সেবার বাসাটি,
সেথাকার দুঃখপাত্রে সুধাভরা এই ক'টা দিন।
আরো দেখুন
57
Verses
FORGIVE MY languor, O Lord,
if ever I lag behind
upon life's way.
Forgive my anguished heart
which trembles and hesitates
in its service.
Forgive my fondness
that lavishes its wealth
upon an unprofitable past.
Forgive these faded flowers
in my offering
that wilt in the fierce heat
of panting hours.
আরো দেখুন
28
Verses
আপনি ফুল লুকায়ে বনছায়ে
     গন্ধ তার ঢালে দখিনবায়ে।
আরো দেখুন